উনিশ শতকের শেষ ও বিশ শতকের গোড়ার দিক। ধীরে ধীরে ভয়াবহ আকার নিচ্ছে কালাজ্বর। সেই সময়ে কুইনাইন ও আরও কিছু পদার্থ মিশিয়ে রোগীদের খাওয়ানো হতো। কিন্তু তাতে কোনও ফল মিলত না। প্রতিদিন ক্রমে বেড়ে চলত মৃতের সংখ্যা। কারও কাছে কোনও উত্তর ছিল না। এমনই এক দুঃসময়ে কলকাতার ক্যাম্পবেল (বর্তমানে এনআরএস) মেডিক্যাল কলেজের ছোট্ট একটি ঘরে গবেষণা শুরু করলেন এক বাঙালি চিকিৎসক। এখানে বিদ্যুৎ বা জলের কোনও ব্যবস্থা ছিল না। অগত্যা কেরোসিনের বাতি জ্বালিয়ে মারণ ব্যাধির প্রতিষেধক আবিষ্কারে রাতদিন এক করে দিলেন তিনি। কয়েক বছরের মধ্যেই মিলল সাফল্য। ১৯২০ সালে তৈরি হল কালাজ্বরের প্রতিষেধক ‘ইউরিয়া স্টিবামাইন’।
Advertisement
পরাধীন দেশের এই চিকিৎসক-বিজ্ঞানীর ওষুধটিকে শুরুর দিকে গুরুত্ব দেননি ব্রিটিশ সাহেবরা। মূলত সমাজের নিচুতলার মানুষ অর্থাৎ চা-বাগানের কুলি-মজুরদের উপর প্রয়োগ করা হতো এই ওষুধ। সুদূর জার্মানি থেকে আনা একটি ওষুধ চালু ছিল ব্রিটিশ শাসনাধীন কলকাতায়। অল্পদিনেই অবশ্য হুঁশ ফেরে সাহেবদের। বুঝতে পারেন, বাঁচতে হলে ইউরিয়া স্টিবামাইন ছাড়া গতি নেই। ধীরে ধীরে দেশে-বিদেশে ছড়িয়ে পড়ে এই সাফল্যের কথা। ১৯২৯ সালে চিকিৎসা বিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কারের জন্য ভারত থেকে এই বিজ্ঞানীর নাম পাঠানো হয়। কিন্ত পুরস্কার অধরা থেকে যায়। পরের দিকে ১৯৪২ সালে নোবেল কমিটির কাছে ফের তাঁর নাম পাঠানো হয়। কিন্তু সেবারও নোবেল স্বীকৃতি পায়নি এই যুগান্তকারী আবিষ্কার।
গবেষকের নাম উপেন্দ্রনাথ ব্রহ্মচারী। কালাজ্বরের ওষুধ আবিষ্কার করে যিনি চিকিৎসা বিজ্ঞানে সাড়া ফেলে দিয়েছিলেন। ১৮৭৩ সালের ১৯ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন তিনি।
গবেষকের নাম উপেন্দ্রনাথ ব্রহ্মচারী। কালাজ্বরের ওষুধ আবিষ্কার করে যিনি চিকিৎসা বিজ্ঞানে সাড়া ফেলে দিয়েছিলেন। ১৮৭৩ সালের ১৯ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন তিনি।



