Bartaman Logo
৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / ব্ল্যাকবোর্ড

বিস্মৃত সুরসাধক

মঞ্চে তখন ‘সীতাহরণ’ পালার অভিনয় চলছে। একমনে পালার গান শুনছিলেন পাঁচ বছরের এক বালক। পরদিন বাড়ির পাঁচিলে বসে অক্লেশে গানগুলি গেয়ে ফেলল শিশুটি। সেই গান শুনে তো পরিবারের সদস্যরা অবাক। গানের প্রাথমিক কোনও তালিম না থাকা সত্ত্বেও এমন মধুর গলা!

বিস্মৃত সুরসাধক
  • ৮ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
Prefer us on Google
মঞ্চে তখন ‘সীতাহরণ’ পালার অভিনয় চলছে। একমনে পালার গান শুনছিলেন পাঁচ বছরের এক বালক। পরদিন বাড়ির পাঁচিলে বসে অক্লেশে গানগুলি গেয়ে ফেলল শিশুটি। সেই গান শুনে তো পরিবারের সদস্যরা অবাক। গানের প্রাথমিক কোনও তালিম না থাকা সত্ত্বেও এমন মধুর গলা! সকলেই বুঝতে পেরেছিলেন, এই প্রতিভা সহজাত।‌ পরবর্তীতে সৃষ্টির মাধ্যমে সঙ্গীত জগতকে সমৃদ্ধ করেছেন এই কৃতী বাঙালি। তিনি ভীষ্মদেব চট্টোপাধ্যায়। বাংলার এই বিস্মৃত সুর সাধকের গুণমুগ্ধ ভক্ত ছিলেন কাজি নজরুল ইসলাম। 
Advertisement
বাংলা তথা ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের জগতের অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র ভীষ্মদেব। সঙ্গীতের তালিম নিয়েছেন উস্তাদ বাদল খান সাহেবের থেকে। তান বিস্তারের ক্ষেত্রে বারবার শ্রোতাদের অবাক করেছেন। সরগমও ছিল অনবদ্য। ঠুমরি গাওয়ার ক্ষেত্রেও স্বকীয়তার পরিচয় দিয়েছেন। একইসঙ্গে বাংলা রাগপ্রধান 
গানে এক নতুন ধারার জন্ম দিয়েছিলেন তিনি। ভীষ্মদেবের গাওয়া ‘যদি মনে পড়ে সে দিনের কথা’ আজও শ্রোতাদের মুগ্ধ করে। এই গান তৈরির পিছনে রয়েছে এক মজার কাহিনি। কাফি-ভৈরবীতে ‘ভলা মোরা মনভাতি মুরলি বাজাই’ নামে একটি ঠুমরি রেকর্ড করছিলেন শিল্পী। গাইতে গাইতে ইচ্ছে হল, ভবিষ্যতে এই সুরে বাংলা গান করবেন। এরইমধ্যে ওই গানের একটি বাংলা গান গাইলেন শচীনদেব বর্মন। এরপরেই ‘যদি মনে পড়ে’ রেকর্ড করেছিলেন ভীষ্মদেব। রেকর্ডিংয়ের সময় মেগাফোন কোম্পানির তৎকালীন কর্ণধার বলেছিলেন, গানটি ভীষ্মদেবের গাওয়া বাকি গানের তুলনায় অনেকটাই হাল্কা। উত্তরে শিল্পী বলেছিলেন, ‘এই গানটিই বেশি চলবে’। বাস্তবে সেটাই হয়েছিল। 
শিল্পী হিসেবে রোজগার ভালো করলেও ভীষ্মদেবের কোনও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ছিল‌ না। শোনা যায়, ট্রামে বা রিকশয় উঠলে পকেট থেকে একমুঠো পয়সা বের করে হাতটা মেলে ধরতেন। সেখান থেকেই নির্ধারিত ভাড়াটি তুলে নিতেন উল্টোদিকে থাকা ব্যক্তি। সঙ্গীত ছাড়া তাঁর জীবনে আর কিছু ছিল না। আজ সঙ্গীত জগতের এই যোগীপুরুষের জন্মবার্ষিকী।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ