লুটিয়েনস দিল্লি। দেশের রাজধানীকে কাগজের ভাষায় এখন নয়াদিল্লি বলেই সকলে চেনেন। তাহলে হঠাৎ করে তার আগে একটা লুটিয়েনস জুড়ে দেওয়া কারণ কী? আর কেনই বা এহেন সম্বোধন। এর জন্য ফিরে যেতে হবে ১১২ বছর আগে। অশান্ত বাংলায় ততদিনে ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতার আগুন জ্বলে গিয়েছে। রাজধানী কলকাতার বুকে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন বিপ্লবীরা। ইংরেজ শাসনের রাজধানী কলকাতা তো বটেই তার সঙ্গে গোটা গ্রাম বাংলায় দানা বেঁধেছে সংগ্রাম। এই অবস্থায় কলকাতা থেকে যে দেশশাসন খুব একটা সুবিধার হবে না, তা ব্রিটিশরা বুঝে গিয়েছিলেন। সে কারণেই ১৯১১ সালে দিল্লি দরবারে ঠিক হয়, রাজধানী স্থানান্তর করতে হবে। শুরু হলো জায়গা খোঁজা। রাজা পঞ্চম জর্জের নির্দেশ, এমন একটা জায়গা খুঁজতে হবে যেটি ব্রিটিশ ভারতের গ্রীষ্মকালীন রাজধানী সিমলার কাছে হবে আবার একইসঙ্গে সড়ক ও জলপথে ব্যবসার ক্ষেত্রেও কোনও সমস্যা হবে না। আরাবল্লী পর্বতমালার পূর্বপ্রান্তে পাহাড়ের কোলে নয়া রাজধানী গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত হল। ১৯১২ সালে গঠিত হল দিল্লি টাউন প্ল্যানিং কমিটি। নেতৃত্বে এডউইন লুটিয়েনস এবং হারবার্ট বেকার। নগরপত্তনের পাশাপাশি ব্রিটিশরাজের ডাকাবুকোদের থাকার জন্য কেমন কী বাসভবন তৈরি করা হবে, সেই ভার গেল এই দু’জনের কাঁধেই। বেকারের দায়িত্বে ছিল মূলত ঘরবাড়ির ডিজাইন। আর রাজধানীর কোথায় কী হবে, কীভাবে শহর গড়ে তুললে এক জায়গায় বসেই গোটা দেশের দেখাশোনা সম্ভব তার ভার ছিল লুটিয়েনসের। সময় লেগেছিল ১৭ বছর। ১৯২৯ সালে নয়া রাজধানীর কাজ সম্পূর্ণ হয়। আর সেই থেকেই লুটিয়েনসের নামে এই জায়গা পরিচিতি পায় লুটিয়েনস দিল্লি নামে। ৬ হাজার একর বিশাল এলাকাজুড়ে তৈরি হয় সরকারি বাসভবন, বহু সচিবালয়, কমান্ডার ইন চিফের বাসভবন, কাউন্সিল সদস্যদের বাসভবন, কর্মচারীদের থাকার জায়গা। আর তার সঙ্গে রাস্তা, জল সরবরাহ, নিকাশি, পার্ক, বাগিচা, রেলওয়ে থেকে শুরু করে সভ্য শহরে যে যে সুষ্ঠু পরিষেবা থাকে তার সবকিছুই। ১৯৩১ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি। ভাইসরয় আরউইন উদ্বোধন করেন ব্রিটিশরাজের নয়া রাজধানী দিল্লি।