নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: একের পর এক ভোটে ধাক্কা। তারপরও রীতিমতো লম্পঝম্প করে কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের নির্বাচনে মনোনয়ন জমা করেছিল সিপিএম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত টিকল না তাদের সেই প্রয়াস। দলের মধ্যেই প্রশ্ন উঠে গেল, ‘হারের ভয়ে’ শেষবেলায় এভাবে কি শাসক দলের কাছে আত্মসমর্পণ করল লালপার্টি? সেই সঙ্গে নিজেদের ‘রেজিমেন্টেড’ বলে বুলি কপচানো সিপিএমের সাংগঠনিক কঙ্কালসার দশা আরও একবার সামনে চলে এল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
Advertisement
বারাসতের নবপল্লি কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের ৪৬টি আসনে নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল আগামী ২২ ডিসেম্বর। ২৮ ও ২৯ নভেম্বর ছিল মনোনয়ন তোলার দিন। মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ছিল ৪ ডিসেম্বর। শনিবার ছিল মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ তারিখ। মোট ৭৯টি মনোনয়ন জমা পড়েছিল। শনিবার মনোনয়ন প্রত্যাহারের সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পর দেখা যায়, ৪৬টি আসনের জন্য রয়েছেন ৪৬ জন প্রার্থী। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছেন সকলেই। তারপর প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, এভাবে যদি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ফয়সালা হয়ে যাবে, তাহলে সিপিএমের উদ্যোগে কেন এতগুলি আসনের জন্য মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল? এক্ষেত্রে অবশ্য নিয়ম অনুযায়ী দলীয় প্রতীকে কেউ লড়াই করতে পারেন না। মনোনয়ন পর্বে সিপিএমের নেতাকর্মীদের তোড়জোড় দেখে বাম সমর্থকরা অনেকে আশা করেছিলেন, কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের নির্বাচনে অন্তত শূন্যের দশা কাটবে। কিন্তু শনিবার দেখা গেল উল্টো চিত্র। স্পষ্ট হয়ে গেল, দলের হাতেগোনা কয়েকজনের নাম কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের প্রতিনিধি তালিকায় রাখার স্বার্থে সিংহভাগ আসন শাসক শিবিরকে ছেড়ে দিয়েছে সিপিএম। ৪৬ জনের মধ্যে সিপিএমের এরিয়া কমিটির সদস্যও আছেন। ফলে দলের একাংশের সঙ্গে তৃণমূলের যোগসাজশ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বাম কর্মী-সমর্থকদের একাংশ।
এ বিষয়ে সিপিএমের জেলা সম্পাদক মৃণাল চক্রবর্তী বলেন, ‘এই ভোটে পার্টির প্রতীকে কেউ প্রার্থী হয় না। সমবায়ের সদস্যরা পরিচালক মণ্ডলী তৈরি করেন। আমি যা জেনেছি, ৭৯ জন মনোনয়ন পেশ করলেও প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে তাঁরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে একটা সমাধানে এসেছেন। এখানে সিপিএম-তৃণমূলের কোনও ব্যাপার নেই।’ তৃণমূল নেতা তথা বারাসত পুরসভার চেয়ারম্যান অশনি মুখোপাধ্যায়ের কটাক্ষ, ‘বামেদের মানুষ সার্বিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। তবে কো-অপারেটিভের ভোটে কেন ওরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে এল, সেটা তারাই বলতে পারবে।’
এ বিষয়ে সিপিএমের জেলা সম্পাদক মৃণাল চক্রবর্তী বলেন, ‘এই ভোটে পার্টির প্রতীকে কেউ প্রার্থী হয় না। সমবায়ের সদস্যরা পরিচালক মণ্ডলী তৈরি করেন। আমি যা জেনেছি, ৭৯ জন মনোনয়ন পেশ করলেও প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে তাঁরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে একটা সমাধানে এসেছেন। এখানে সিপিএম-তৃণমূলের কোনও ব্যাপার নেই।’ তৃণমূল নেতা তথা বারাসত পুরসভার চেয়ারম্যান অশনি মুখোপাধ্যায়ের কটাক্ষ, ‘বামেদের মানুষ সার্বিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। তবে কো-অপারেটিভের ভোটে কেন ওরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে এল, সেটা তারাই বলতে পারবে।’



