সংসার-সন্তান ফেলে মাদক কারবারে বধূরা
  • ৩০ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

অনিমেষ মণ্ডল, কাটোয়া: সংসার করার মন নেই। সন্তান-সন্ততিদের ভবিষ্যৎ ভাবার বালাই নেই। লক্ষ্য শুধু একটাই—নিজের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য। আর সেই লক্ষ্য পূরণ করতে গিয়ে অন্ধকার জগতে পা বাড়াচ্ছেন অল্পবয়সী বধূরা। বিশেষ করে মাদক কারবারে জড়াচ্ছেন তাঁরা। তাতে স্বামীর সঙ্গে বনিবনা না হলেও আক্ষেপ নেই। সংসার ছেড়ে আলাদা থাকছেন। একেবারে পিছুটান হয়ে কারবারে নেমে পড়ছেন ওইসব বধূরা। একটু সুবেশা-সুন্দরী হলে তো কথাই নেই। মাদক কারবারীদের কাছে তাঁরা হয়ে উঠছেন তুরুপের তাস। মোটা টাকার চুক্তিতে জুটে যাচ্ছে মাদক পাচারের অ্যাসাইনমেন্ট। কাটোয়ায় মাদক সহ কয়েকজন লাস্যময়ী বধূকে গ্রেপ্তার করে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে পুলিশ। 

Advertisement

গত ৮ অক্টোবর সন্ধ্যা। কাটোয়ার পঞ্চাননতলা-বাঁধমুড়ো রোডে ১৭ কেজি গাঁজা উদ্ধারের ঘটনায় মনিরা খাতুন বিবি ও আশা বর্মনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। দু’ জন অল্পবয়সী বধূ। তাঁদের কাছ থেকে দু’টি ট্রলি ব্যাগ উদ্ধার করা হয়। দু’জনেই উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামে পাশাপাশি ভাড়া বাড়িতে থাকেন। একদা দু’জন ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টে কাজ করতেন। ফলে, চলনে-বলনে বেশ তুখোড়। সেটাকেই সম্বল করে গাঁজা সরবরাহে নেমে পড়েন। দু’ জনেই স্বামী পরিত্যক্তা বধূ। দুই বধূর পরিপাটি করে সাজগোজ দেখে হতবাকই হতে হয়েছিলেন আধিকারিকরা।
তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, বছর তিরিশের মনিরা খাতুনের বেড়ে ওঠা সাদামাটা পরিবারে। বাপের বাড়ি মধ্যমগ্রাম থানার গঙ্গানগর গ্রামে। বিয়ে হয়েছিল ফল বিক্রেতা মহিদুল আলির সঙ্গে। দু’টি মেয়ে হয় তাঁদের। দিব্যি সংসার করছিলেন। কিন্তু উচ্চাশা পূরণ না হওয়ায় মাদক কারবারে জড়িয়ে পড়েন। ছেড়ে দেন স্বামীর ঘর। দুই মেয়েকে নিয়ে মনিরা ভাড়া বাড়িতে চলে আসেন। অন্যদিকে, আশা বর্মনের বাপের বাড়ি বনগাঁয়। রানাঘাটে কুলপি বিক্রেতা টোটোন বর্মনের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছিল। আট বছরের ছেলেও রয়েছে। আশাও স্বামীর ঘর ছেড়ে মধ্যমগ্রামে ভাড়া বাড়ি নেন। 
পুলিশ সূত্রে খবর, মনিরা ও আশার স্বপ্ন ছিল একই—বেশি উপার্জন, বেশি আনন্দ অর্জন। তাই দু’জনই কাজ নিয়েছিলেন ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের। চাহিদা মতো অর্থ পাচ্ছিলেন না। আরও বেশি আয়ের সন্ধান করতে থাকেন। তখনই তাঁরা নজরে পড়ে যান মাদক কারবারীদের। মনিরা-আশাকে ক্যারিয়ার হিসাবে নিয়োগ করে তারা। গাঁজা পাচার করে মিলত মোটা টাকা। 
গত ২০ সেপ্টেম্বর। দাঁইহাটে মাদক সহ ধরা পড়েছিল জাহানারা খাতুন ও  প্রীতি প্রামানিক নামে  দুই তরুণী। জাহানারার বাড়ি উত্তর ২৪ পরগনা জেলার দেগঙ্গা থানার আফজানগরে। প্রীতির বাড়ি বারুইপুর থানার প্রামানিক পাড়ায়।  দু’জনেই বিলাসবহুল জীবনযাপনের জন্য অন্ধকার জগতে পা বাড়িয়েছিলেন। গত ২৫ জুন  ১৬ কেজি গাঁজা সহ রানি মালো, শঙ্করী সরকার ও মনি চৌধুরী নামে তিন বধূকে গ্রেপ্তার করেছিল রেলের ক্রাইম ইন্টেলিজেন্স ব্রাঞ্চ। তাঁরা উত্তরবঙ্গ থেকে গাঁজা নিয়ে তিস্তা তোর্সা এক্সপ্রেস ট্রেনে আসছিলেন। তিনজনেরই বাড়ি  হুগলির বলাগড়ে। এর আগে কেতুগ্রামে নদীয়া জেলার বধূ সবিতা দাস, মিনা বিবি, পারুল শিকদার, দুর্গা শিকদার, আলোরানি সূত্রধরদের পুলিশ গ্রেপ্তার করেছিল গাঁজা সহ। 
পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের প্রত্যেকেরই সাজানো সংসার ছিল। স্রেফ উচ্চাকাঙ্খা পূরণে সবকিছু জলাঞ্জলি দিয়ে মাদক কারবারে জড়িয়ে পড়ছে।  পুলিশের এক অফিসার বলছিলেন, ‘যত নষ্টের গোড়া স্মার্ট ফোন। নিজেদের অভিজাত প্রমাণ করতে মারণ নেশায় নেমেছেন অল্প বয়সী যুবতী থেকে বধূরা। খুন্তি ছেড়ে পিঠে ঝোলাচ্ছেন গাঁজার ব্যাগ।