


নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর ও সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: উৎসবের রাতে ফের অশান্ত হল কৃষ্ণনগর, নবদ্বীপেও হয় বিক্ষিপ্ত অশান্তি। বিসর্জনের দিন বারবার সংঘর্ষের ঘটনায় প্রশ্নের মুখে শহরের কৃষ্ণনগর শহরের ঐতিহ্য। সেইসঙ্গে সমালোচনার মুখে পড়েছে পুলিশ ও প্রশাসন। এবার সরস্বতী পুজোর বিসর্জনকে কেন্দ্র করে রবিবার গভীর রাতে ফের উত্তপ্ত হয়ে ওঠে কৃষ্ণনগর শহর। পুজো কমিটিগুলির মধ্যে সংঘর্ষে একে অপরকে লক্ষ্য করে ইট ছোড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে লাঠিচার্জ করতে হয়। এই ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি, দুটি পুজো কমিটির বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।
রবিবার সন্ধ্যা থেকে শহরে শুরু হয় সরস্বতী পুজোর বিসর্জনের শোভাযাত্রা। শতাধিক ক্লাব ও বারোয়ারি প্রতিমা নিয়ে রাস্তায় নামলেও প্রথম দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিকই ছিল। কিন্তু, গভীর রাতে কোতোয়ালি থানার সামনে পরিস্থিতি হঠাৎ বদলে যায়। অভিযোগ, ষষ্ঠীতলা বারোয়ারি ও গেট রোড বারোয়ারির সদস্যদের মধ্যে তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে প্রথমে বচসা শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যে শুরু হয় দু’পক্ষের ইটবৃষ্টি। আতঙ্কে ছোটাছুটি শুরু করে দেন মহিলা ও শিশু সহ বহু দর্শনার্থী। অশান্তির জেরে রাস্তার মধ্যেই প্রতিমা রেখে পালিয়ে যান ক্লাব সদস্যরাও। উৎসবের রাতে শহরের বুকে এই দৃশ্য শুধু দুর্ভাগ্যজনক নয়, শহরের ভাবমূর্তির পক্ষে মারাত্মক বলে অভিমত শহরবাসীর।
এই ঘটনায় পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। লাঠিচার্জ করে ভিড় ছত্রভঙ্গ করে দেয়। অশান্তি পাকানোর অভিযোগে কয়েকজনকে আটক করা হয় এবং পরে তার মধ্যে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। দু’টি পুজো কমিটির বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এই ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন বলে মানতে নারাজ শহরবাসী। কারণ, সাম্প্রতিক সময়ে কার্তিক পুজো ও জগদ্ধাত্রী পুজোর বিসর্জনেও মারপিট, ইটবৃষ্টি ও পুলিশের লাঠিচার্জের ছবি সামনে এসেছে। উৎসবে সেই একই চিত্র ফুটে ওঠায় স্পষ্ট হচ্ছে, কৃষ্ণনগরে বিসর্জন মানেই অশান্তি।
শহরবাসীর অভিযোগ, কৃষ্ণনগর একটি ঐতিহ্যশালী ও সাংস্কৃতিক শহর হিসেবে পরিচিত। কিন্তু, উৎসবের নামে নিয়মভঙ্গ, ক্ষমতার প্রদর্শন এবং সংঘর্ষের সংস্কৃতি সেই ঐতিহ্যকে নষ্ট হচ্ছে। গণ্ডগোলের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ায় বাইরের মানুষের কাছে শহরের নেতিবাচক ছবি পৌঁছাচ্ছে।
ওইদিন নবদ্বীপেও সরস্বতী পুজোর বিসর্জনের শোভাযাত্রায় মারপিট বিক্ষিপ্ত অশান্তির ঘটনা ঘটেছে। শোভাযাত্রা চলাকালীন একটি পুজো কমিটির সদস্যরা জয় শ্রীরাম বলে বেশ কিছু যুবককে মারধর করে বলে অভিযোগ। এই ক্লাব বিসর্জনের শোভাযাত্রার জন্য পুলিস ও পুরসভার অনুমতি নেয়নি বলে অভিযোগ। সোমবার রাতে একথা জানান পুরসভার চেয়ারম্যান বিমানকৃষ্ণ সাহা। তিনি বলেন, বিজেপির ইন্ধনেই মারধর করা হয়েছে। যদিও বিজেপি›র নদীয়া দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলার সভানেত্রী অপর্ণা নন্দী জানান, নবদ্বীপে যত বিশৃঙ্খলা তৃণমূলের আঙ্গুলি হেলনেই হয়। এখন সব কিছুতে বিজেপির ভূত দেখছেন পুরসভার চেয়ারম্যান। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এবার পুজোটা সংখ্যা বেশি। বেশিরভাগ পুজো কমিটি কোনও অনুমতি নেয়নি। আর বিসর্জনের শোভাযাত্রা একটি রাস্তা দিয়ে নিয়ে যেতে বলা হয়েছিল। শোভাযাত্রায় ছোটখাটো ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। কৃষ্ণনগর সরস্বতী পুজোর ভাসান। -নিজস্ব চিত্র