Bartaman Logo
১৬ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বর্ধমানে অনাময় হাসপাতালে হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার ৯  

বর্ধমানে অনাময় হাসপাতালে হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার ৯
 
  • ২৫ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: অনাময় সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে চিকিৎসককে হেনস্তা ও পুলিস কর্মীকে মারধরের ঘটনায় ন’জন গ্রেপ্তার হয়েছে। শুক্রবার রাতে শক্তিগড়ের স্বস্তিপল্লির এলাকার এক বাসিন্দা পায়ে চোট পান। তাঁকে অনাময় সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে পাড়ার লোকজন চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসেন। তাঁদের অভিযোগ, চিকিৎসায় গাফিলতি করা হয়। চিকিৎসক দেরিতে আসেন। এরপরই তারা বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। কিছুক্ষণ পরই চিকিৎসক আসেন। তাঁকে হেনস্তা করা হয়। হাসপাতালে দায়িত্বে থাকা পুলিস কর্মী তাঁদের বোঝানোর চেষ্টা করলে তাঁর উপর হামলা করা হয়। তাঁর কলার ধরে একজন হাসপাতালের গেটের বাইরে নিয়ে আসে। তারপরই তাঁকে মাটিতে ফেলে মারধর করা হয়। ঘটনায় হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগী এবং তাঁদের আত্মীয়রা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। 
Advertisement
মঙ্গলকোট থেকে দাদার চিকিৎসার জন্য ওইদিন রাতে হাসপাতালে ছিলেন ধ্রুব দাস। তিনি বলেন, আতঙ্কে খাবার জন্য হাসপাতালের গেটের বাইরে বেরতে পারিনি। ১০ থেকে ১২জন যুবক আচমকা তাণ্ডব শুরু করে। তাদের কেউ কেউ অসংলগ্ন অবস্থায় ছিল। ওদের কোনও অসুবিধা থাকলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানাতে পারত। এভাবে হামলা করা ঠিক হয়নি। আর এক রোগীর আত্মীয় বলেন, হামলাকারীরা বারবার দাবি করতে থাকে তারা স্থানীয়। তাদের সঙ্গে চিকিৎসক খারাপ ব্যবহার করেছেন। ভুল স্বীকার না করা পর্যন্ত তারা এখান থেকে যাবে না বলে হুমকি দিতে থাকে। 
যদিও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষর দাবি, ঠিক সময়েই ওই রোগীর চিকিৎসা শুরু হয়। চিকিৎসা  চলাকালীনই তারা চিকিৎসককে হেনস্তা করে। হাসপাতালে ঢুকে ভাঙচুর করে। পূর্ব বর্ধমানের পুলিস সুপার সায়ক দাস বলেন, ওই ঘটনায় আর কেউ জড়িত রয়েছে কিনা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 
হাসপাতাল সুপার শকুন্তলা সরকার বলেন, পায়ে চোটের জন্য রাতের দিকে একজন চিকিৎসার জন্য এসেছিলেন। চিকিৎসা সঠিক সময়ে শুরু হয়। ওই রোগী চিকিৎসার পর বাড়ি ফিরে গিয়েছে। তারপরও চিকিৎসার গাফিলতির অভিযোগে তারা বিক্ষোভ দেখাতে থাকে। পুলিস কর্মীদের মারধর করেছে। এক চিকিৎসককেও তারা ধাক্কা দেয়। হাসপাতালের এক কর্মী বলেন, মনে হয়েছিল ওই যুবকরা হামলা করার উদ্দেশ্যেই এসেছিল। ওই রোগীর অবস্থা স্থিতিশীল ছিল। একটু দেরিতে চিকিৎসা পেলেও তেমন সমস্যা হতো না। হাসপাতালে নিয়ে আসার পর চিকিৎসা শুরু হতে কিছুক্ষণ সময় লাগে। সেই টুকু সময়ও তারা ধৈর্য্য ধরতে পারেনি। তাদের মধ্যে তিন চারজন যুবক প্রথম থেকেই দাদাগিরি করতে থাকে। তারা স্বাভাবিক অবস্থায় ছিল না। 
পুলিস জানিয়েছে, হাসপাতালে সবসময় পুলিস কর্মী মোতায়েন থাকে। রাতে একজন কনস্টবল সহ কয়েকজন সিভিক ভলান্টিয়ার ছিল। তাদের সবার উপর হামলা করা হয়। তাদের অন্য কোনও উদ্দেশ্য ছিল কি না তা জানতে ধৃতদের হেফাজতে নিয়ে জেরা করা হবে।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ