মায়ামি: শরীরে অসংখ্য ট্যাটু। হাত, পিঠ ছাপিয়ে নেমে এসেছে পায়ের গোছে। বাহারি চুলের সঙ্গে মানানসই দুল। ব্রাজিলে অনুশীলনে নেইমার জুনিয়র মাঠে নামতেই লেন্সের ঝলকানি। তারইমধ্যে অনেকের শ্যেন দৃষ্টি তাঁর হাঁটু থেকে গোড়ালির দিকে। আসলে নেইমার কতটা ফিট তা বোঝার চেষ্টা। ২০২৩ সালের অক্টোবরে শেষবার ব্রাজিলের জার্সি পরেছিলেন নেইমার। তারপর শুধুই চোট, হতাশা। ঝড় বয়েছে সাম্বা ফুটবলের পোস্টার বয়ের উপর। মেসি, এমবাপেরা বিশ্বকাপ কাঁপানোর সময় রিহ্যাবে ব্যস্ত নেইমার। তাঁর মাঠে ফেরা নিয়ে গগনচুম্বী কৌতূহল। খবরের জন্য ব্রাজিল মিডিয়ার চিরুনি তল্লাশি অব্যাহত। আনসেলোত্তির সাজঘর থেকে চুঁইয়ে আসা খবর, স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে স্কোয়াডে ফিরছেন সাম্বা তারকা। শুধু তাই নয়, নেইমারকে ফলস নাইনের ভূমিকায় দেখা যেতে পারে। স্কটল্যান্ড ম্যাচের আগে তিনিই হটকেক। বৃহস্পতিবার ভারতীয় সময় ভোর সাড়ে তিনটেয় স্কটদের বিরুদ্ধে নামছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। শুধু জেতাই নয়, গ্রুপ শীর্ষে থেকে পরের রাউন্ডের টিকিট পেতে মরিয়া ডন কার্লো।
গ্রুপের প্রথম ম্যাচে মরক্কোর বিরুদ্ধে ১-১ গোলে ড্র করে ব্রাজিল। ছন্নছাড়া ফুটবল স্রেফ বিরক্তি বাড়িয়েছিল। হাইতির বিরুদ্ধে প্রথমার্ধেই ৩ গোল চাপিয়ে ম্যাচ পকেটে পুরেছিলেন ভিসিসিয়াসরা। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধের ব্রাজিল বড়ই সাদামাটা। পেলের দেশের বিখ্যাত জোগো বোনিতো এখনও অদৃশ্য। শিল্প যেন শুষে নিয়েছে ব্লটিং পেপার। একা ভিনিসিয়ায় যে টুকু রং ছড়াচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে নেইমারের ফেরার অপেক্ষায় চাতক পাখির মতো তাকিয়ে অনুরাগীরা। টার্টান আর্মির বিরুদ্ধে ব্রাজিলের ম্যাচে এটাই ইউএসপি। কিন্তু ফলস নাইন কেন? শোনা যাচ্ছে, নেইমারের পেরিফেরাল ভিশনকে দারুণভাবে ব্যবহার করতে চান কার্লো। তাছাড়া সদ্য চোট কাটিয়ে উঠেছেন তিনি। এখনই নেইমারকে শক্তপোক্ত স্কট রক্ষণের আগুনে ঠেলতে চান না অভিজ্ঞ কোচ। একে হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে রাফিনহা নেই। কবে ফিরবেন তা নিয়েও ধোঁয়াশা। নক-আউটের আগে তাই কোনো ঝুঁকি নিতে নারাজ ব্রাজিলিয়ান কোচ। বরং এনড্রিক, গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লিকে আরও বেশ ম্যাচ টাইম দিতে চান আনসেলোত্তি।
স্কটল্যান্ড প্রথম ম্যাচে হাইতিকে হারায়। তবে মরক্কোর কাছে বশ মেনেছে স্টিভ ক্লার্কের দল। বিশ্বকাপে শেষবার ১৯৯৮ সালে মুখোমুখি হয়েছিল এই দুই দেশ। সেবার ২-০ গোলে ম্যাচ জিতেছিল ব্রাজিল। তবে পোক্ত রক্ষণ ও প্রতি-আক্রমণ নির্ভর ফুটবল খেলে আনসেলোত্তির দলকে চমকে দিতে চায় স্কটল্যান্ড।