নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিধানসভা সচিবালয়ের সিদ্ধান্তে জয়জয়কার ঋতব্রত তৃণমূলের! ব্রাত্য রইল কালীঘাট তৃণমূল! বিধানসভার স্ট্যান্ডিং কমিটিসহ কোনো কমিটির চেয়ারম্যান পদ পেলেন না মমতাপন্থী তৃণমূল বিধায়করা। কিন্তু ন’টি কমিটির চেয়ারম্যান পদ পেলেন ঋতব্রত শিবিরে থাকা তৃণমূল বিধায়করা। সবথেকে তাৎপর্যপূর্ণ হল, বিধানসভার প্রাক্তন স্পিকার তথা বারুইপুর পশ্চিম বিধানসভার বিধায়ক বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়কেও কোনো কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়নি। তাঁকে তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ লাইব্রেরি কমিটির সদস্য করা হয়েছে। এনিয়ে বিমানবাবুর প্রতিক্রিয়া, ‘এটা আমার কাছে অসম্মানজনক। কমিটির বৈঠকে আদৌ যাব কি না, ভাবনাচিন্তা করে সিদ্ধান্ত নেব।’
বিধানসভায় ২৬টি স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যানের ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে ২১টি কমিটির চেয়ারম্যান হয়েছেন বিজেপি বিধায়করা। বাকি ৫টি স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান হয়েছেন ঋতব্রত তৃণমূল শিবিরে থাকা বিধায়করা। স্বরাষ্ট্র বিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়েছে বিজেপি বিধায়ক বিমান ঘোষকে। মমতাপন্থী বিধায়ক কুণাল ঘোষের অভিযোগ, ‘ন্যাক্কারজনকভাবে তৈরি করা হয়েছে স্ট্যান্ডিং কমিটি। স্বরাষ্ট্র বিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটিতে আমাদের কোনো বিধায়ককে রাখা হয়নি। আমরা যাতে পুলিশের কাজের বিরুদ্ধে কোনো কথা বলতে না পারি, তার জন্যই এই ব্যবস্থা।’
অন্যদিকে, ১৫টি অ্যাসেম্বলি কমিটি রয়েছে। এখানেও চারটি কমিটির চেয়ারম্যান পদ পেয়েছেন ঋতব্রত তৃণমূল শিবিরে থাকা বিধায়করা। আইএসএফ-কে একটি কমিটির চেয়ারম্যান পদ দেওয়া হয়েছে। ডেপুটি স্পিকারের নাম এখনও ঘোষণা করেনি সরকারপক্ষ। তবে লাইব্রেরি কমিটির চেয়ারম্যান পদটি ডেপুটি স্পিকারের জন্যই ছেড়ে রাখা হয়েছে। এদিকে, বিধানসভার মার্শাল দেবব্রত মুখোপাধ্যায়কে সাসপেন্ড করা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে বিধানসভার অন্দরে। তাঁকে সাসপেন্ডের অর্ডারে সই করেছেন প্রধান সচিব। এ বিষয়ে স্পিকারের বক্তব্য জানা সবথেকে জরুরি বলে মনে করছেন বিরোধী দলের বিধায়করা।