সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: অসমের রায়মোনা টাইগার রিজার্ভ থেকে আট কিমি দূরে রাজেন্দ্রপুর বনবস্তি সংলগ্ন বাঁশবাগান ছেড়ে ২০ কিমি দূরে হাতিগড়ে আশ্রয় নেওয়া বক্সার বাঘিনির বর্তমানে হদিশ নেই। বুধবার রাত ১০টা থেকে টানা ১৭ ঘণ্টা ধরে বাঘিনির খোঁজ মিলছে না। এখবর নিশ্চিত করেছেন অসমের কচুগাঁও বনবিভাগের ডিএফও মোস্তাফা আলি আহমেদ।
এদিকে, গোটা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে রাজ্যের বনমন্ত্রী মনোজকুমার ওরাওঁ নিজেই আগামীকাল, শনিবার অসমে যাচ্ছেন। বনমন্ত্রী কচুগাঁও বনবিভাগের আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলবেন। বৃহস্পতিবার বনমন্ত্রী বলেন, আমরা একেবারেই বসে নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে শনিবার আমি নিজেই কচুগাঁও যাচ্ছি। অসম বনদপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলব। অনেক সময় শ্যাডো জোনে থাকলে রেডিও কলারের সংকেত মেলে না। হতে পারে তার জন্যই হদিশ মিলছে না।
বনদপ্তর সূত্রে খবর, সাধারণত দু’ভাবে কোনো বন্যপ্রাণীকে ট্র্যাক করা হয়। প্রথমত, গলায় পরানো উপগ্রহ নিয়ন্ত্রিত হাই ফ্রিকোয়েন্সি রেডিও কলারের মাধ্যমে সংকেত পৌঁছয় কন্ট্রোল রুমে। অন্যদিকে, গ্রাউন্ড স্টাফরা আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে সংকেত পান। কিন্তু বুধবার রাত ১০টা থেকে বনদপ্তরের এই দুই প্রযুক্তিই আর কোনো কাজ করছে না। ফলে সংকেত না মেলায় বাঘিনির হদিশও মিলছে না। বৃহস্পতিবার বিকেল পাঁচটার পরেও কোনো খোঁজ মেলেনি। শুধু রেডিও কলারের সংকেতই নয়, বাঘিনির গর্জনও শোনা যাচ্ছে না। ফলে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বনদপ্তরের মধ্যে।
তাহলে হাতিগড় এলাকায় স্থানীয় জাকাতি নদী পেরিয়ে বাঘিনি কি ফের রায়মোনা টাইগার রিজার্ভের গভীর জঙ্গলে ঢুকে গিয়েছে? কচুগাঁও বনবিভাগের আধিকারিকরাও সেই সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না। কচুগাঁও বনবিভাগের ডিএফও মোস্তাফা আলি আহমেদ বলেন, আমরা খুব কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। বুধবার রাত ১০ থেকেই বাঘিনির খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। গলায় পরানো রেডিও কলার থেকে কোনো সংকেত আসছে না। হতে পারে জঙ্গলের কোনো ঘন শ্যাডো জোনে অবস্থান করছে। সেই কারণে রেডিও কলারের সংকেত আসছে না।



