


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা, বহরমপুর, আসানসোল ও চুঁচুড়া: ‘বিচারকের কক্ষে আরডিএক্স রাখা আছে। দুপুর ১টায় বিস্ফোরণ হবে।’ মঙ্গলবার সকাল ১০টা নাগাদ আদালত খুলতেই এই ভাষায় হুমকি মেইল আসে কলকাতার তিনটি কোর্ট সহ রাজ্যের মোট সাতটি আদালতে। সব জায়গাতেই তৈরি হয় তীব্র আতঙ্কের পরিবেশ। কলকাতার বিচারভবন, ব্যাঙ্কশাল আদালত, নগর দেওয়ানি আদালত ছাড়াও বহরমপুর জেলা জজ কোর্ট, দুর্গাপুর মহকুমা আদালত, আসানসোল আদালত ও চুঁচুড়া কোর্টে বিস্ফোরণের হুমকি মেইল আসে। বিষয়টি জানাজানি হতেই আতঙ্কে আদালত চত্বরের বাইরে বেরিয়ে আসেন আইনজীবীরা। হুলস্থুল পড়ে যায় বিচারপ্রার্থীদের মধ্যেও।
সংশ্লিষ্ট কোর্ট ইনসপেক্টরদের বিষয়টি জানানো হয়। দ্রুত সবক’টি আদালতে পৌঁছে যান বম্ব স্কোয়াডের আধিকারিকরা। এজলাস থেকে শুরু করে বিচারক কক্ষ, লক-আপ, প্রবেশ ও প্রস্থানের পথ, শৌচালয় সহ আদালতের সর্বত্র চলে চিরুনি তল্লাশি। তবে তন্নতন্ন করে তল্লাশি চালিয়ে কোথাও সন্দেহজনক বস্তু বা বিস্ফোরক উদ্ধার হয়নি। রাজ্য ও কলকাতা পুলিশ সূত্রে খবর, মেইলে একটি জঙ্গি সংগঠনের নাম লেখা রয়েছে।
এদিকে, বোমাতঙ্কের মেইলকে কেন্দ্র করে তৎপরতা শুরু হয়ে যায় রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ স্তরে। মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী, রাজ্য পুলিশের ডিজি পীযূষ পান্ডে ও কলকাতার পুলিশ কমিশনার সুপ্রতিম সরকার তড়িঘড়ি নবান্নে বৈঠকে বসেন। সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যসচিব বলেন, ‘বোমাতঙ্কের মেইলে সাময়িকভাবে আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। ই-মেইল মারফত পাঠানো হুমকিটি সম্পূর্ণ ভুয়ো। সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’ সুপ্রিম কোর্ট এসআইআরের দায়িত্ব দিয়েছে বিচারকদের। এই অবস্থায় এসআইআর প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতেই কি এই হুমকি মেইল? এই প্রশ্নের জবাবে মুখ্যসচিব বলেন, ‘হাতে সময় কম। বিচারকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাজ্যের দায়িত্ব। তাঁরা যাতে নির্বিঘ্নে কাজ করতে পারেন, তার জন্য সবরকম পদক্ষেপ করা হচ্ছে।’
এদিন প্রথম কলকাতার বিচারভবনে হুমকি মেইল আসে। লালবাজারের কন্ট্রোল রুমে খবর পৌঁছাতেই ছুটে আসে হেয়ার স্ট্রিট থানা, গোয়েন্দা বিভাগের বম্ব স্কোয়াড ও স্নিফার ডগ। মেটাল ডিটেক্টর ও আরডিএক্স ডিটেক্টর দিয়ে প্রতিটি অংশে তল্লাশি চালানো হয়। খালি করে দেওয়া হয় বিচারভবন। একই সঙ্গে নগর দেওয়ানি আদালত ও ব্যাঙ্কশাল কোর্টেও আসে হুমকি মেইল। সেখানেও চলে তল্লাশি। প্রতিটি আদালত চত্বরে আইনজীবী ও বিচারকদের গাড়ি থাকে। সেখানেও তল্লাশি চালানো হয়। কিন্তু সন্দেহজনক কিছু মেলেনি।
লালবাজারের তরফে জানানো হয়েছে, বোমাতঙ্কের ভুয়ো মেইল পাঠানোর অভিযোগে হেয়ার স্ট্রিট থানায় একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। যৌথভাবে তদন্তে নেমেছে কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। সিপি সুপ্রতিম সরকার বলেন, ‘প্রতিটি মেইলের নির্দিষ্ট ধরন রয়েছে। কে বা কারা এই কাজের সঙ্গে যুক্ত, খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ করা হবে।’
কলকাতার মতোই হুমকি মেইলে কাজ পণ্ড হয় বহরমপুর, আসানসোল, দুর্গাপুর ও চুঁচুড়া আদালতে। এই মেইলে বলা হয়, ‘মধ্যাহ্নভোজের সময় ৫-৭ জন মাওবাদী বিচারকের চেম্বারের কাছে চলে আসবে। রিমোটের মাধ্যমে বোমা বিস্ফোরণ হবে।’ যদিও স্নিফার ডগ আদালতের চারদিকে দু’-তিন পাক ঘুরলেও কিছু খুঁজে পায়নি।