


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা : যুদ্ধ পরিস্থিতির আবহে এমনিতেই হাই অ্যালার্ট জারি রয়েছে কলকাতা বিমানবন্দরে। এই আবহে ছড়াল বোমাতঙ্ক। বিমানে বসার পরে ইম্ফলের এক যাত্রী দাবি করেন, ‘আমার কাছে বোমা আছে।’ তৎক্ষণাৎ প্রবল শোরগোল শুরু হয় বিমানবন্দর জুড়ে। বিষয়টি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে, যাত্রীদের নামিয়ে দিয়ে ওই বিমানটিকে আলাদা জায়গায় নিয়ে গিয়ে খুঁটিয়ে পরীক্ষা করা হয়।
মঙ্গলবার দুপুরের ঘটনা। কলকাতা থেকে ইন্ডিগোর ৬-ই ৫২২৭ বিমান মুম্বই রওনা হওয়ার কথা ছিল ১টা ৩০ মিনিটে। বিমানে ১৮৬ জনের আসন ছিল। তারমধ্যে ১৭৯ জন যাত্রী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিমানে নিজের সিটে বসে পড়েন। কিছুক্ষণের মধ্যেই ১৩১ নম্বর সিটের যাত্রী রিগাল চোংথামের আচরণে অস্বাভাবিকত্ব লক্ষ করেন ইন্ডিগো সংস্থার কর্মীরা। যাত্রীর হাতে থাকা একটি ব্যাগ দেখে সন্দেহ আরও দানা বাঁধে। তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়, ব্যাগে কি আছে? হিন্দিতে যাত্রী উত্তর দেন, ‘আমার কাছে বোমা আছে।’ মুহুর্তে মধ্যে সেই খবর পৌঁছে যায় কলকাতা বিমানবন্দরের শীর্ষ কর্তাদের কাছে। সিআইএসএফ জওয়ানরা ছুটে এসে যাত্রীকে কর্ডন করে অন্যত্র নিয়ে যায়। সেইসঙ্গে যাত্রীদের নামিয়ে দিয়ে বিমানটিকে আইসোলেশনে পাঠানো যায়। দফায় দফায় চলে পরীক্ষা। বিমানে কোনও বোমা আছে কি না, তা পরীক্ষা করেন নিরাপত্তারর্মীরা। এমনকী রিগাল নামে ওই যাত্রীকে নির্দিষ্ট স্থানে নিয়ে গিয়ে পরীক্ষা করা হয়। তাঁর ব্যাগে চলে চিরুনি তল্লাশি। সবদিক খতিয়ে দেখার পর বিমান কিংবা যাত্রীর কাছে কোনও বোমা পাওয়া যায়নি। দীর্ঘক্ষণ পর ৫টা ৪৩ মিনিটে বিমানটি কলকাতা থেকে মুম্বইয়ের উদ্দেশে রওনা দেয়। আর রিগ্যাল নামে ওই যাত্রীকে পুলিসের হাতে তুলে দেয় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। তাঁকে আটক করা হয়েছে।
জানা গিয়েছে, ইন্ডিগো সংস্থার ৬-ই ৬৭১৬ বিমানে ইম্ফল থেকে কলকাতায় আসেন রিগাল চোংথাম নামে ওই যাত্রী। ইম্ফলের বাসিন্দা তিনি। বছর ২৬-এর ওই যুবক মুম্বইয়ের একটি হস্টেলে থাকেন। ইম্ফল থেকে কলকাতায় এসে সংযোগকারী বিমানে মুম্বইয়ে যাচ্ছিলেন রিগাল। কিন্তু হঠাৎ করে কেন তিনি ‘বোমা আছে’ বলে দাবি করলেন, সেটা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। রিগালের পরিবারের কাছে খবর পাঠিয়েছে পুলিস। তবে বোমার খবর শুনে এদিন বেশ কিছু সময়জুড়ে কলকাতা বিমানবন্দরে আলোড়ন পরে যায়। সিআইএসএফ জওয়ানরা স্নিফার ডগ নিয়ে বিমানবন্দরের বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশিতে নেমে পড়েন। বম্ব স্কোয়াডকেও মজুত রাখা হয়েছিল। কিন্তু বোমা উদ্ধার না হওয়ায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন বিমানবন্দরের আধিকারিকরা।