সংবাদদাতা, বোলপুর: সরকারি জমিতে থাকা দোকান সরাতে নোটিস দিল বীরভূম জেলা নিয়ন্ত্রিত বাজার সমিতি। সাতদিনের মধ্যে দোকান খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দোকান না সরালে উচ্ছেদ অভিযান চালানোর হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে। এতে পুজোর মুখে বোলপুরের নেতাজি মার্কেটের ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত পড়েছে। দোকান ভাঙার খরচও ব্যবসায়ীদের বহন করতে হবে বলে নোটিসে জানানো হয়েছে। দুশ্চিন্তায় ভুগছেন এই মার্কেটের ব্যবসায়ীরা।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ব্যবসায়ীদের হাতে ওই নোটিস পৌঁছায়। নিয়ন্ত্রিত বাজার সমিতির সচিবের সই করা ওই নোটিসে বলা হয়েছে, সরকারি জমিতে বৈধ অনুমতি, বরাদ্দ বা লাইসেন্স ছাড়াই দোকান, শেড, ঘর, বেড়া-সহ বিভিন্ন কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। এগুলি অনুমোদিত নয় বলে দাবি সমিতির। বাজারের স্বাভাবিক চলাচল ও রক্ষণাবেক্ষণে সমস্যা হচ্ছে বলেও নোটিসে উল্লেখ করা হয়েছে। নোটিসে স্পষ্ট বলা হয়েছে, সাতদিনের মধ্যে সমস্ত দখল ও নির্মাণ নিজ খরচে সরাতে হবে। তা না হলে পরবর্তী নোটিস ছাড়াই উচ্ছেদ করা হবে। অভিযানের যাবতীয় খরচ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেই নেওয়া হবে। পরবর্তীতে ক্ষতিপূরণ বা আপত্তির দাবিও গ্রহণ করা হবে না বলে জানানো হয়েছে।
বীরভূম জেলা নিয়ন্ত্রিত বাজার সমিতির অধীনে বোলপুর শহরের মহকুমা শাসকের দপ্তরের কাছেই নেতাজি মার্কেট রয়েছে। পাশেই আছে শান্তিনিকেতন শ্রীনিকেতন পর্ষদের অফিস। ব্যবসায়ীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই তাঁরা সেখানে দোকান করছেন। এই ছোট ব্যবসার আয়েই অনেকের সংসার চলে। সরকারের এই সিদ্ধান্তে পুজোর আগে তাঁদের দিশেহারা অবস্থা। খাবারের দোকানদার পদ্মা ভাণ্ডারী বলেন, প্রায় পাঁচ বছর ধরে এখানে ব্যবসা করছি। হঠাৎ সাতদিনের মধ্যে দোকান গুটিয়ে নিতে বলা হয়েছে। সামনে পুজো। দোকান উঠে গেলে সংসার চলবে কীভাবে? সরকার অন্য কোনো ব্যবস্থা করে দিক। আর এক ব্যবসায়ী রাজু শেখ বলেন, আগে থেকে কোনো আলোচনা হয়নি। হঠাৎ উচ্ছেদের নোটিস দেওয়া হয়েছে। সরকার স্থায়ীভাবে দোকানের ব্যবস্থা করুক। ভাড়া দিতে আমরা প্রস্তুত।
নিয়ন্ত্রিত বাজার সমিতি সূত্রে খবর, সরকারি নির্দেশ মেনেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। সমিতির সচিব অমিত বর বলেন, সরকারের নির্দেশিকা রয়েছে। কোনও অবৈধ নির্মাণ করে ব্যবসা করা যাবে না। সেই অনুযায়ী নোটিস দেওয়া হয়েছে। ওই এলাকায় জল নিকাশির ব্যবস্থা নেই। সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে ভবিষ্যতে স্থায়ী ব্যবসায়িক পরিকাঠামো গড়ে তোলা যায় কি না, তা দেখা হবে।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, কয়েক বছর আগে শহরের বিভিন্ন জায়গা থেকে ফুটপাত ব্যবসায়ীদের সরানো হয়েছিল। তাঁদের একাংশকে এই এলাকায় বসানো হয়। এখন সেই দোকানই অবৈধ বলে সরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে নতুন করে সমস্যায় পড়েছেন তাঁরা। এর আগে বোলপুর পুরসভার তরফেও ফুটপাত দখলমুক্ত করার জন্য মাইকিং করা হয়েছিল। আপাতত সেই প্রক্রিয়া বন্ধ রয়েছে। তারমধ্যেই নিয়ন্ত্রিত বাজার সমিতির এই নোটিস ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।