Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বিন্নাগুড়ির রাস্তায় তৃণমূল প্রার্থীর সঙ্গে হাসিমুখে বারলা, আরও বাড়ল জল্পনা

বিন্নাগুড়ির রাস্তায় তৃণমূল প্রার্থীর সঙ্গে হাসিমুখে বারলা, আরও বাড়ল জল্পনা
  • ৭ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: একদিন আগেই বিজেপি নেতৃত্বের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছিলেন। তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে বানারহাটে নিজের বাড়িতে গোপন বৈঠক করে স্নায়ুচাপ বাড়িয়েছিলেন গেরুয়া শিবিরের নেতাদের। আর বুধবার বিন্নাগুড়িতে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রমন্ত্রী তথা বিক্ষুব্ধ বিজেপি নেতা জন বারলাকে দেখা গেল মাদারিহাট উপ নির্বাচনের তৃণমূল প্রার্থী জয়প্রকাশ টোপ্পোর সঙ্গে রাস্তায় দাঁড়িয়ে হাসিমুখে করমর্দন করতে। শুধু তাই নয়, প্রকাশ্যেই তৃণমূল প্রার্থীর প্রশংসা করেন তিনি। এঘটনায় ডুয়ার্সের রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন ছড়িয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বারলা কোনও মন্তব্য করতে চাননি। জেলার প্রবীণ তৃণমূল নেত্রী তথা জলপাইগুড়ি জেলা পরিষদের সহকারী সভাধিপতি সীমা চৌধুরী বলেন, আমরা দলের প্রার্থীকে নিয়ে বিন্নাগুড়িতে প্রচার চালাচ্ছিলাম। সেখানে একটি দোকানে বারলার সঙ্গে দেখা হয়। তিনি আমাদের প্রার্থীর সঙ্গে করমর্দন করেছেন। আমাদের প্রার্থীর প্রশংসা করেছেন। আমরা বারলার কাছে সহযোগিতা চেয়েছি। এর বেশি কিছু বলা যাবে না। এ নিয়ে বিজেপির আলিপুরদুয়ারের সভাপতি তথা সাংসদ মনোজ টিগ্গা বলেন, বিজেপির ভোট হয় নিজের দলের সংগঠনের জোরে। মাদারিহাটে আমাদের সংগঠন যথেষ্টই মজবুত। সেই জোরেই আমরা জিতব। কে, কী করছেন, তাতে কিছু যায় আসে না।
Advertisement
মাদারিহাট উপ নির্বাচনের আগে নিজের ‘শক্তি পরীক্ষা’য় ঘুঁটি সাজাচ্ছেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জন বারলা! সূত্রের খবর, রবিবার বানারহাটে লক্ষ্মীপাড়া চা বাগানে নিজের বাড়িতে আদিবাসী ও চা বাগানের শ্রমিক নেতৃত্বকে নিয়ে বৈঠকে বসতে চলেছেন তিনি। ওই বৈঠকে ব্লু প্রিন্ট তৈরি হতে পারে। তবে গোটা বিষয়টি অত্যন্ত গোপন রাখা হয়েছে বারলার তরফে। ঘনিষ্ট মহল সূত্রে খবর, আদিবাসী বিকাশ পরিষদের একাংশ এবং চা বাগানের কিছু নেতাকে নিয়ে বৈঠক করবেন আলিপুরদুয়ারের প্রাক্তন সাংসদ। ইতিমধ্যেই বিজেপি নেতৃত্বকে নিশানা করে বোমা ফাটিয়েছেন। নাম না করে তোপ দেগেছেন আলিপুরদুয়ারের সাংসদ মনোজ টিগ্গার বিরুদ্ধে। ঠিক তারপরই আদিবাসী ও চা বলয়ের নেতাদের নিয়ে বারলার বৈঠকে বসতে চলার খবরে চাপে বিজেপি। বারলা ভোটে অন্তর্ঘাত চালাতে পারেন বলেও আশঙ্কা তাদের। এনিয়ে দলের নেতা-কর্মীদের সতর্ক করেছে গেরুয়া শিবির। কারা বারলার ডাকা বৈঠকে যোগ দিচ্ছেন, তাঁদের গতিবিধির উপর নজরদারি চালাতে বলা হয়েছে বিজেপির তরফে। যদিও দলের আলিপুরদুয়ার জেলা সভাপতি মনোজ টিগ্গা বলেছেন, বারলা কী বলছেন, কী করছেন, সবটাই দলের শীর্ষ নেতৃত্ব জানে। আমরা এসবে গুরুত্ব দিচ্ছি না।
জন বারলা বেঁকে বসায় ডুয়ার্সে বিজেপির চা শ্রমিক সংগঠনও দ্বিধাবিভক্ত। ফলে মাদারিহাট বিধানসভা ভোটে বারলার অনুগামী চা বাগানের নেতাদের ভূমিকা কী হবে তা নিয়ে এখন জোর চর্চা। এরই পাশাপাশি আদিবাসী বিকাশ পরিষদের একটি গোষ্ঠী এখনও বারলার সঙ্গে রয়েছে। তারা মাদারিহাট ভোটে কী ভূমিকা নেবে, সেটাও ভাবাচ্ছে বিজেপি নেতৃত্বকে। বিজেপির চা শ্রমিক সংগঠন বিটিডব্লুইউ-র সভাপতি যুগল ঝা’র অবশ্য তোপ, জন বারলার চা বলয়ে কোনও গ্রহণযোগ্যতা নেই।  এদিকে এদিন সন্ধ্যার পর বানারহাট পঞ্চায়েত সমিতির তৃণমূল সদস্য প্রভা কুজুর লাকরার গয়েরকাটার বড়িতে যান বারলা। প্রভাদেবীর স্বামী বলেন, বারলা এসেছিলেন। এর বেশি আর কিছু বলব না। 
সম্পর্কিত সংবাদ