Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / ব্ল্যাকবোর্ড

বাঙালির বাইসাইকেল  

বাঙালির বাইসাইকেল
 
  • ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সাধে কি বাঙালিকে ‘আত্মবিস্মৃত জাতি’ বলেছেন হরপ্রসাদ শাস্ত্রী!  এই জাতি ভুলে গিয়েছে তার অতীত গৌরব। বাংলার মাটিতে জন্ম হয়েছে একঝাঁক সফল বাঙালি শিল্পপতির। তাঁদের মধ্যে ক’জনকে মনে রেখেছি আমরা? তাঁদেরই একজন সুধীরকুমার সেন। ভারতে সাইকেল শিল্পের পথিকৃত তিনি। দেশের প্রথম সাইকেল কারখানা স্থাপিত হয় ১৯৫২ সালে, আসানসোলে। এর মূল কারিগর ছিলেন সুধীর।
Advertisement
১৮১৭ সালে সাইকেল (ড্রাইসিন) আবিষ্কার করেন ব্যারন কার্ল ফন ড্রেস। যা ছিল আধুনিক বাইসাইকেলের আদি রূপ। উনিশ শতকের শেষ দিকে ইউরোপে ‘সেফটি মডেল সাইকেল’ নির্মাণ শুরু হয়। দিনকে দিন বাড়তে থাকল জনপ্রিয়তা। বিশ শতকের গোড়ার দিকে ভারতের মাটিতে প্রথম গড়াল সাইকেলের চাকা। যার বিকাশে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিলেন সুধীরকুমার সেন। ১৮৮৮ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি অবিভক্ত ভারতের ঝালকাঠির বাসন্ডা গ্রামে (বর্তমানে বাংলাদেশ) জন্মগ্রহণ করেন সুধীরকুমার সেন। বাবা চণ্ডীচরণ সেন, মা বামাসুন্দরী দেবী। মেধাবী ছাত্র সুধীরকুমার সেন কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে ইংরেজিতে স্নাতক হন। কিন্তু লোভনীয় সরকারি চাকরি না করে বেছে নেন ব্যবসায়ী জীবন। তাঁকে আকর্ষণ করে সাইকেল। রামচন্দ্র পণ্ডিতের সহায়তায় ১৯০৯ সালে প্রতিষ্ঠা করেন ‘সেন অ্যান্ড পণ্ডিত কোং’। এই সংস্থা ইউরোপ থেকে সাইকেল ও তার যন্ত্রাংশ আমদানি শুরু করে। ভারতে এই শিল্পের বিস্তারে নিরন্তর চেষ্টা করে যান সুধীরকুমার সেন। ব্রিটিশ শাসনে শিল্পোদ্যোগী হিসেবে নজর কেড়েছিলেন এই বাঙালি।
তখন ইউরোপে ‘র‌্যালে বাইসাইকেল কোম্পানি’র জনপ্রিয়তা তুঙ্গে।  তাদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ১৯৫২ সালে আসানসোলের কন্যাপুরে আধুনিক সাইকেল কারখানা গড়ে তোলেন সুধীর। পথচলা শুরু হল ‘সেন-র‌্যালে সাইকেল কোম্পানি’র। ব্যবসায়িক কারণে ১৯৫৮ সালে জার্মানি গিয়েছিলেন সুধীরকুমার সেন। ২৪ আগস্ট সেখানেই ৭০ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হয়। এর পরে আসানসোলের কারখানাটি জৌলুস হারাতে থাকে। ২০০১ সালে কারখানায় দরজায় তালা পড়ে যায়।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ