Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / ব্ল্যাকবোর্ড

বাঙালির ভ্যালেন্টাইন্স ডে

বাঙালির ভ্যালেন্টাইন্স ডে
  • ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সরস্বতী পুজো। ইংরেজি বছরের প্রথম উৎসব। শীতকালীন রেশ গায়ে মেখে সকাল সকাল ওঠার দিন। জানুয়ারি পড়তেই স্কুলে স্কুলে বাগদেবীর বন্দনার প্রস্তুতি শুরু হয়। খরচের হিসেব, বাজার, প্রসাদ— সবকিছুর দায়িত্ব ‘পাকা’ হাতে সামলায় খুদেরা। মণ্ডপ সাজানো থেকে প্রতিমা আনা— বড়দের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সমস্ত কাজ করে কচিকাঁচারা। আমন্ত্রণপত্র হাতে অন্য স্কুলে যাওয়া যেন অলিখিত রীতি। তার সঙ্গে জড়িয়ে কত স্মৃতি। পুজোর কুল না খাওয়ার প্রতিজ্ঞাও যেন এক চ্যালেঞ্জ। এই লোভ সংবরণ পরীক্ষায় প্রথম হওয়ার মতোই কঠিন। সমস্ত বিষয়ের বই মায়ের চরণে দেওয়া হয় এদিন। দেবীর আশীর্বাদের ছুঁতোয় দু’দিন পড়াশোনা বন্ধ রাখার সহজ কৌশল। অবশেষে আসে মাঘ মাসের শুক্লা পঞ্চমী। পুজোর দিন সাত সকালে উঠে গায়ে হলুদ মেখে স্নান। তারপর হলুদ পাঞ্জাবি বা শাড়িতে সেজে অঞ্জলি দিতে বসা। ছোট থেকে বড় মেয়েদের ফ্যাশনে সরস্বতী পুজোর সমার্থক শব্দ হলুদ বাসন্তী বা সাদা রঙের শাড়ি। আর ছেলেদের কাছে হলুদ পাঞ্জাবি। তাই এদিন আকাশ-বাতাস ভরে ওঠে হলুদ, বাসন্তী রঙের দাপটে। সকালে মায়ের কাছে বসে করজোড়ে মন্ত্রোচ্চারণ। এরপর কয়েকটা ফলপ্রসাদ মুখে পুড়ে পাড়ার পুজো, স্কুলের পুজোয় ঢুঁ মারতে বেরিয়ে পড়া। দুপুরে ভোগের খিচুড়ি আর লাবড়া মাস্ট। দিনটা বইপুজোর সঙ্গে মনপুজোরও। কতশত অল্প চেনা চোখে চোরাচাউনি বিনিময়ের ‘শুভ মহরৎ’ হয় এদিনে। এই পুজোয় কত অঞ্জলির ফুল দিকভ্রষ্ট হয়। আসলে বাঙালির পুজো আর প্রেম, দুই পর্যায় যেন মিলেমিশে যায় এই তিথিতেই। তাই সরস্বতী পুজো বাঙালির ‘ভ্যালেন্টাইন্স ডে’।  
Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ