সংবাদদাতা, বনগাঁ: বনগাঁ সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ নতুন কোনও ঘটনা নয়। বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে অনুপ্রবেশ যে বেড়েছে, সে কথাও বলাই বাহুল্য। সাম্প্রতিককালে এদেশে এসে অনেক বাংলাদেশি পুলিসের হাতে ধরা পড়েছে। চোরাপথে এপার বাংলায় এসে ভিনরাজ্যে কাজের খোঁজে পাড়ি দেন অনেকেই। কয়েকমাস পর ফের চোরাপথে দেশে ফেরার সময় পুলিসের হাতে ধরাও পড়েন তাঁরা। চলতি সপ্তাহেই ভারতের ভিন রাজ্য থেকে ফিরে বনগাঁ সীমান্ত দিয়ে ফেরার সময় দু’জন বাংলাদেশি বাগদা থানার পুলিসের হাতে ধরা পড়েছেন। চোরাপথে দালাল ধরে কাজের খোঁজে এদেশে আসেন তারা। এদেশে দালালদের ডেরায় বেশ কিছুদিন থাকতে হয় তাঁদের। এরপর সুযোগ বুঝে দালালরা তাদের বিভিন্ন রাজ্যে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দেন। এজন্য মোটা অঙ্কের টাকাও ব্যয় করতে হয় বাংলাদেশিদের। বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে টাকার অঙ্কের পরিমাণ অনেকটাই বেড়েছে বলে সূত্র মারফত জানা গিয়েছে। আগে একজন বাংলাদেশি ভারতীয় মুদ্রায় ১২০০-২৫০০ টাকায় সীমান্ত পার হয়ে যেতে পারতেন। বর্তমানে সেটা কয়েক গুণ বেড়েছে। অনেকেই চোরাপথে এদেশে এসে বসবাস শুরু করছেন। এমনকী এদেশের কাউকে বাবা সাজিয়ে ভারতীয় পরিচয়পত্রও তৈরি করে নিচ্ছেন। এরপর সেই পরিচয়পত্র দেখিয়ে তৈরি করছেন পাসপোর্ট। বাগদার গাঙ্গুলিয়ার বাসিন্দা কয়েক বছর আগে তাঁকে বাবা সাজানোর অভিযোগ আনেন এক বাংলাদেশির বিরুদ্ধে। সূত্রের খবর, অভিযুক্ত বাংলাদেশি নকল পরিচয়পত্র দিয়ে পাসপোর্ট বানিয়ে বিদেশে পাড়িও দিয়েছেন। এসবই হয় দালালদের হাত ধরে। বাগদা জুড়ে ‘ধুর পাচার’-এর রমরমা কারবার চলছে। এখানে দালালরাজ অতি সক্রিয় বলেই জানা গিয়েছে। এদিকে, বাংলাদেশিদের অনুপ্রবেশ এলাকার স্থায়ী বাসিন্দাদের কাছে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করেছে। তাঁদের আশঙ্কা, এভাবে যে কোনও সময়ে অনুপ্রবেশ ঘটতে পারে জঙ্গিদের।



