নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: কুপন ছাপিয়ে হলদিয়া বন্দর ও বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকদের কাছ থেকে মেম্বারশিপ বাবদ দেদার টাকা তোলা হচ্ছে। অভিযোগের কাঠগড়ায় ভারতীয় মজদুর সংঘ(বিএমএস) অনুমোদিত হলদিয়া-কলকাতা পোর্ট অ্যান্ড ডক শ্রমিক ইউনিয়ন। ওই ইউনিয়নের প্যাডে বন্দর ছাড়াও অন্যান্য কারখানার অস্থায়ী শ্রমিকদের কাছ থেকে মেম্বারশিপ বাবদ টাকা আদায় করা চলছে। প্রত্যেক শ্রমিকের কাছ থেকে ৩৬০টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। তাঁদের নাম এবং কর্মস্থল উল্লেখ করে কুপন কাটা হচ্ছে। কুপনে বন্দরের শ্রমিক ইউনিয়নের নাম এবং বিএমএসের নাম জ্বলজ্বল করছে। এভাবে টাকা তোলা বেআইনি এবং অবৈধ বলে তোপ দেগেছেন বিএমএসের এই জেলার আগের কমিটির পদাধিকারীরা। হলদিয়া বন্দর এবং অন্য কারখানায় কর্মরত প্রায় ১০ হাজার শ্রমিকের কাছ থেকে মেম্বারশিপ বাবদ প্রায় ৩৬ লক্ষ টাকা আদায় হয়েছে বলে বিদায়ী কমিটির সম্পাদক চন্দন প্রামাণিকের দাবি। সেই টাকার হিসাবও চেয়েছেন চন্দনবাবু। গত ৪মে রাজ্যে পালাবদলের পর হলদিয়া শিল্পাঞ্চলে আইএনটিটিইউসি-র একতরফা খবরদারি শেষ হয়ে গিয়েছে। হলদিয়া বন্দর থেকে শিল্পাঞ্চলের একচেটিয়ায় কারখানায় এখন বিএমএসের একতরফা দাপট। সম্প্রতি বিএমএস সংগঠনেও রদবদল ঘটানো হয়েছে। কারখানা থেকে বন্দর সর্বত্র মেম্বারশিপ নেওয়ার জন্য কুপন কেটে টাকা আদায় চলছে। হলদিয়া বন্দর থেকে টাকা তুলছে বিএমএস অনুমোদিত হলদিয়া-কলকাতা পোর্ট অ্যান্ড ডক শ্রমিক ইউনিয়ন। আইওসি-র অস্থায়ী শ্রমিক নির্মল দোলাই, বন্দরের মনোজ জানার মতো প্রচুর সংখ্যক শ্রমিক ৩৬০ টাকা সদস্য ফি দিয়ে বিএমএসের ছাতার তলায় এসেছেন। বিএমএসের রাজ্য সভাপতি ছিলেন হলদিয়া শিল্পাঞ্চলের শ্রমিক নেতা প্রদীপ বিজলি। তিনি এবার হলদিয়া বিধানসভায় প্রার্থী হওয়ায় নিয়ম মেনে বিএমএস সংগঠন থেকে সরে দাঁড়ান। বিধায়ক হওয়ার পর এখনও শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের ভালোমন্দ সবটা তিনিই দেখভাল করেন। মূলত তাঁকে নিশানা করেই বিএমএসের সংগঠনের বিক্ষুব্ধরা দেদার মেম্বারশিপ আদায়ের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বন্দরের অবসরপ্রাপ্ত এক কর্মী আদায়কারী হিসেবে কুপনে সই করে মেম্বারশিপ আদায় করছেন। কোনো অবসরপ্রাপ্ত কর্মী সংগঠনে থাকতে পারেন না বলে প্রাক্তন সম্পাদক চন্দন প্রামাণিক জানিয়েছেন।



