


কয়েকদিন আগের কথা। কর্ণাটকের কাবেরী নদী থেকে উদ্ধার হয় বিজ্ঞানী সুব্বান্না আয়াপ্পানের দেহ। পদ্মশ্রী এই বিজ্ঞানী কীভাবে মারা গেলেন, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি। সুব্বান্নাকে বলা হয়, ভারতের ‘নীল বিপ্লবে’র অন্যতম প্রাণপুরুষ। কিন্তু এই নীল বিপ্লব কী? স্বাধীনতার পর ভারতে কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে ছয়ের দশকে শুরু হয় সবুজ বিপ্লব। উন্নত মানের বীজ, সেচের মাধ্যমে সবুজ ধান, গম ও অন্য কৃষিজ পণ্যে ভরে উঠেছিল দেশের মাঠ। কিন্তু যদি প্রশ্ন করা হয়, ভারতে নীল বিপ্লব কবে শুরু হয়েছিল? প্রশ্ন শুনে নীলকর সাহেবদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের কথা মনে আসতে পারে। তবে, নীল বিপ্লবের সঙ্গে নীল বিদ্রোহের কোনও সম্পর্ক নেই। বরং এর সঙ্গেও জড়িয়ে আছে দেশের খাদ্য সুরক্ষার বিষয়। শুধু কৃষি উৎপাদন বাড়ালেই যে সাধারণ মানুষের উপকার হবে না, তা বুঝতে পেরেছিলেন তৎকালীন বিজ্ঞানী ও রাজনীতিবিদরা। তাঁরা জোর দিলেন মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিতে। কারণ ভারতের বিরাট সংখ্যক মানুষ প্রাণিজ প্রোটিন হিসেবে মাছ খান। তাই একদিকে খাদ্য, অন্যদিকে পুষ্টির সুরক্ষায় ১৯৮৫ সালে শুরু হল নীল ক্রান্তি মিশন বা নীল বিপ্লব। আয়াপ্পানকে নিয়ে এখন চর্চা হলেও ভারতে নীল বিপ্লবের জনক কিন্তু এক বাঙালি। নাম ডঃ হীরালাল চৌধুরী। কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে মাছ চাষে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনেন তিনি। সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা (১৯৮৫-১৯৯০) চলাকালীন ভারতে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জোর দেওয়া হল সামুদ্রিক মাছ উৎপাদন বৃদ্ধির উপর। নীল বিপ্লবের মূল উদ্দেশ্য ছিল—দেশের জলাশয়, নদী, সমুদ্রে মাছের উৎপাদন বাড়ানো, মৎস্যজীবীদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মাছের মাধ্যমে প্রোটিন সমৃদ্ধ খাদ্যের সরবরাহ বৃদ্ধি, মাছ ও মৎস্যজাত পণ্যের রপ্তানি বাড়িয়ে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন। এই উদ্যোগের ফলও মিলেছে হাতেনাতে। ভারত বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মৎস্য উৎপাদনকারী দেশ। তার সঙ্গে বেড়েছে মাছের রপ্তানি। কয়েক কোটি মানুষ মাছের উপর জীবিকা নির্বাহ করেন। যা ভারতের জিডিপির ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।