Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / ব্ল্যাকবোর্ড

বাংলাটা ঠিক আসে না

বাংলাটা ঠিক আসে না
  • ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
বাঙালি। মাতৃভাষা বাংলা। কিন্তু, শুদ্ধ বাংলায় কথা বলতে না পারাটাই যেন হালের ফ্যাশন। অনাবাসী বঙ্গসন্তানদের মতো একটু টেনে, হিন্দি-ইংরেজির গুটিকয় শব্দের জগাখিচুড়িই ‘জেনারেশন জেড’-এর ভাবপ্রকাশের মাধ্যম। এতে তেমন কুণ্ঠাবোধ নেই। মাতৃভাষার প্রতি অবজ্ঞায় পাপবোধ তো দূর, বরং গর্বিত বঙ্গবাসীদের একাংশ। এই ‘আত্মঘাতী’ মানসিকতা না-পসন্দ ছিল কবি ভবানীপ্রসাদ মজুমদারের। ‘বাংলাটা ঠিক আসে না’ কবিতায় এই মনোভাবকেই তীক্ষ্ণ ভাষায় বিদ্ধ করেছিলেন তিনি। প্রতি ছত্রে ছত্রে শ্লেষ। লিখেছিলেন, ‘ছেলে আমার খুব ‘সিরিয়াস’ কথায়-কথায় হাসে না / জানেন দাদা, আমার ছেলের, বাংলাটা ঠিক আসে না। / ইংলিশে ও ‘রাইমস’ বলে / ‘ডিবেট’ করে, পড়াও চলে/ আমার ছেলে খুব ‘পজেটিভ’ অলীক স্বপ্নে ভাসে না। /জানেন দাদা, আমার ছেলের, বাংলাটা ঠিক আসে না।’ ফেব্রুয়ারি মানেই বিশ্বজুড়ে ভালোবাসার মাস। ১৪ ফেব্রুয়ারি ভ্যালেন্টাইন্স ডে। ঠিক তার সাত দিন পর অর্থাৎ ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। বাংলা ভাষাকে বাঁচাতে শহিদ রফিক, সালাম, জব্বার, বরকতদের সেই আত্মত্যাগকে সম্মান জানিয়েছিল রাষ্ট্রসঙ্ঘও। কিন্তু যার জন্য এত কিছু, সেই ভাষাই নিজভূমে অবহেলিত। এর বিরুদ্ধে মাঝেমধ্যেই গর্জে ওঠেন ভবানীপ্রসাদ মজুমদারদের মতো বঙ্গ সন্তানরা। সরব হয় তাঁদের কলমও। হাওড়ার একটি প্রাথমিক স্কুলে শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু ছিলেন ভবানীপ্রসাদ। মাতৃভাষায় শিক্ষাদানের পক্ষেই সরব ছিলেন তিনি। কিন্তু বিশ্বায়নের যুগে অভিভাবকদের প্রত্যাশা কী, তা বুঝে নিতে দেরি করেননি। তাই সময়ের অনেক আগেই দেখতে পেয়েছিলেন, অবজ্ঞা ও অবহেলায় ভরা মাতৃভাষার ভবিষ্যৎ। সেই ভাবনারই ছাপ পড়েছিল তাঁর ওই কবিতায়। তারইমধ্যে বাংলা ভাষায় সাহিত্য চর্চায় ছোটদের উৎসাহ দিয়ে গিয়েছেন ভবানীপ্রসাদ। একটি দৈনিক সংবাদপত্রে ছোটদের পাতা সম্পাদনা করতেন তিনি। ঘটনাচক্রে ফেব্রুয়ারি মাসেই চলে গেছেন তিনি। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের দু’সপ্তাহ আগে। রেখে গেছেন মাতৃভাষার প্রতি অগাধ ভালোবাসার উপাখ্যান।    
Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ