Bartaman Logo
৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / ব্ল্যাকবোর্ড

বাংলার সাহিত্যের ‘স্বজন’ রাদিচে

গত ১০ নভেম্বর। নিঃশব্দে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করলেন উইলিয়াম রাদিচে। ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ৭৩ বছর বয়সে কেমব্রিজে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন এই ব্রিটিশ কবি। হঠাৎ করে রাদিচের নাম বললে অনেকেই হয়তো চিনতে পারবেন না।

বাংলার সাহিত্যের ‘স্বজন’ রাদিচে
  • ২৯ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
Prefer us on Google
গত ১০ নভেম্বর। নিঃশব্দে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করলেন উইলিয়াম রাদিচে। ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ৭৩ বছর বয়সে কেমব্রিজে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন এই ব্রিটিশ কবি। হঠাৎ করে রাদিচের নাম বললে অনেকেই হয়তো চিনতে পারবেন না। সাহিত্য বা গবেষক মহলে রাদিচে যতটা পরিচিত, আম বাঙালির কাছে ততটা নন। কিন্তু সেটা বাঙালির কাছে দুর্ভাগ্যের বিষয়ই বলতে হয়! কারণ, বাংলা ভাষাকে বিশ্বের দরবারে ছড়িয়ে দিতে তিনি যে ভূমিকা পালন করেছেন, তা বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
Advertisement
১৯৫১ সালে লন্ডনে জন্ম রাদিচের। যদিও রাদিচে পরিবার ইতালি থেকে ব্রিটেনে এসেছিলেন। সাহিত্যের প্রতি ভালোবাসাটা হয়ত উইলিয়ামের রক্তেই ছিল। কারণ তাঁর মা বেটি রাদিচে ছিলেন ধ্রুপদী সাহিত্যের বিশেষজ্ঞ। পাশাপাশি ছিলেন অনুবাদক ও পত্রিকা সম্পাদক। মায়ের সেই দক্ষতার প্রভাব ছোটবেলা থেকেই রাদিচের উপরে পড়েছিল। ভারত, বিশেষত বাংলা সাহিত্যের উপর তাঁর আগ্রহ প্রথম থেকেই ছিল। অক্সফোর্ডে পড়াকালীন ক্রমশ বাংলা সাহিত্যের প্রতি আকর্ষণ অনুভব করেন। অনেকের মতে, ১৯৭১ এর বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের প্রভাব তাঁর উপর পড়েছিল। স্কুল অফ ওরিয়েন্টাল অ্যান্ড আফ্রিকান স্টাডিজের অধ্যাপক তারাপদ মুখোপাধ্যায়ের কাছে বাংলা শিখতে শুরু করেন রাদিচে। একটা সময়ে বাংলা ভাষার টানে তিনি ঘুরে বেড়িয়েছেন কলকাতা-শান্তিনিকেতন-ঢাকায়।
অক্সফোর্ডে থাকাকালীনই গবেষণা শুরু করেছিলেন রাদিচে। না, রবীন্দ্রনাথ নন। তাঁর গবেষণার বিষয় ছিলেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত। ‘মেঘনাদবধ কাব্য’-র ইংরেজি অনুবাদও শুরু করেন তিনি। পরবর্তী সময়ে যা প্রকাশিত হয় ‘দ্য পোয়েম অব দ্য কিলিং অব মেঘনাদ’ নামে। যদিও কবিগুরুর বিভিন্ন রচনা অনুবাদ করেই তিনি বেশি পরিচিতি পান। ‘ডাকঘর’ (দ্য পোস্ট অফিস), ‘তাসের দেশ’ (কার্ড কান্ট্রি), ‘দেবতার গ্রাস’ (স্ন্যাচড বাই দ্য গডস), ‘গীতাঞ্জলি’ (ইংরেজিতেও একই নাম) সহ নানা ছোট গল্প, গীতিনাট্য, গানের অনুবাদ করেছেন তিনি। রাদিচের অনুবাদ থেকেই অপেরা রূপে মঞ্চস্থ হয় দেবতার গ্রাস। তাঁর হাত ধরেই উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর ‘টুনটুনির বই’ (দ্য স্টুপিড টাইগার অ্যান্ড আদার টেলস) অনুদিত হয়ে পৌঁছেছে বিশ্ব সাহিত্যের মহলে।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ