


সংবাদদাতা, রামপুরহাট: বিএলওর দায়িত্বে রয়েছেন। নির্বাচনের দিন ভোটগ্রহণকেন্দ্রেও থাকতে হবে। কিন্তু, কমিশনের এসআইআর কোপে সত্তরোর্ধ্ব মহম্মদ নুরুল আপসার ও তাঁর স্ত্রীর নাম বাদ পড়েছে। মুরারই বিধানসভার মিত্রপুরের ভাগাইল গ্রামের বাসিন্দা তিনি। দুই ছেলে ও এক মেয়ের নাম থাকলেও নুরুল সাহেব ও তাঁর স্ত্রীর নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। তবে ঘরে বসে দুশ্চিন্তা করার সময়ও তাঁর নেই। বুথের অন্য ভোটারদের যাতে সমস্যায় না পড়তে হয়, সেজন্য নিষ্ঠার সঙ্গে ফর্ম পূরণ ও সহায়তার কাজ করছেন। বুথে ডিউটি করলেও নিজের ভোটটি দিতে পারবেন কি না, তা নিয়ে তিনি সংশয়ে রয়েছেন।
ভাগাইল গ্রামের মাধ্যমিক শিক্ষাকেন্দ্রের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক নুরুল সাহেব। দীর্ঘদিন ধরে বিএলওর দায়িত্ব সামলে এসেছেন। এসআইআরের সময় তিনি দায়িত্ব নিতে চাননি। কিন্তু, যেহেতু দীর্ঘ সময় ধরে তিনি স্থানীয় মানুষের সঙ্গে যুক্ত এবং তাঁর এই কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে-তাই তাঁকেই কমিশন দায়িত্ব দেয়। নুরুল সাহেব বলেন, আমার নাম মহম্মদ নুরুল আপসার। কিন্তু ২০০২সালের ভোটার তালিকায় কোনোভাবে তা নুরুল আবসার শেখ হয়ে যায়। স্ত্রীর নাম লাইলা বিবি। ২০০২সালের তালিকায় তাঁর নাম কোনোভাবে ‘লাইলা আরজুমানবাবু’ হয়ে গিয়েছিল। ডিজিটাল ডাটাবেস আপডেট করার সময় টেকনিক্যাল ত্রুটির কারণে এমনটা হয়েছে। দু’জনের স্কুল সার্টিফিকেট, আধার ও রেশন কার্ড, ১৯৫৬সালের দলিল সহ আবেদন করি। কিন্তু, দু’জনের নামই বাদ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি বেশ অদ্ভুত লাগছে। কারণ, বাবার থেকেই ছেলেমেয়েদের ম্যাপিং হচ্ছে। কিন্তু, এক্ষেত্রে আমার নাম বাদ পড়লেও ছেলেমেয়েদের নাম রয়েছে। এর মধ্যে সুপারভাইজার বলেছেন, ভোটের দিন বুথে ডিউটি করতে হবে। নুরুল সাহেব ওই এলাকার ২৮০নম্বর বুথের বিএলও। সেই বুথে ১৫০জন ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। বিএলও হিসাবে তিনি নিজ দায়িত্বে অবিচল। বাড়ির উঠানে বাদ পড়া ভোটারদের ট্রাইবুনালে আবেদনের ফর্ম পূরণ সহ নানা সহায়তা করে চলেছেন। তিনি বলেন, এসমস্ত মানুষও আমার মতো দিশেহারা। তাঁরা কোথায় যাবেন? তাছাড়া, আমি কমিশনের নিযুক্ত বিএলও। দায়িত্বে অবহেলা করলে তো হবে না।
এই এলাকার ২৭৯নম্বর বুথে ৩৭জন, লক্ষ্মীডাঙা গ্রামের ৭২জন, বর্ষাপুকুর গ্রামের ৬৫জন ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে। তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি বকুল শেখ বলেন, অনেকক্ষেত্রে বাবার নাম উঠলেও ছেলেমেয়েরা বাদ পড়েছে। আবার কখনও কখনও সন্তানের নাম উঠলেও বাবার নাম বাদ পড়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ২০০২সালের ভোটার তালিকায় নামের বানান ভুলের কারণে এটা হয়েছে। কিন্তু, ওই তালিকা তো আমজনতা করেনি, কমিশন করেছে। তাদের ডাটা এন্ট্রিতে ভুলের জন্য হাজার হাজার বৈধ ভোটারের নাম কেন বাদ যাবে? কমিশন তালিকা সংশোধন করে এসমস্ত মানুষের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিক।