Bartaman Logo
২২ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বড়ন্তির অবৈধ গেস্ট হাউস-রিসর্ট ভাঙার সিদ্ধান্ত নিল ব্লক প্রশাসন

বড়ন্তিতে বেআইনি গেস্ট হাউস ভাঙার সিদ্ধান্ত নিল ব্লক প্রশাসন। এলাকাবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে পদক্ষেপ। বিস্তারিত পড়ুন।

বড়ন্তির অবৈধ গেস্ট হাউস-রিসর্ট ভাঙার সিদ্ধান্ত নিল ব্লক প্রশাসন
  • ২২ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: সাঁতুড়ি ব্লকের বড়ন্তি (রামচন্দ্রপুর) পর্যটন কেন্দ্রে বেআইনি ভাবে গড়ে ওঠা গেস্ট হাউসগুলির বিরুদ্ধে পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত হয়েছে। চলতি সপ্তাহে এলাকার ম্যাপ ধরে মাপজোক করা হবে। তারপর অবৈধভাবে গড়ে ওঠা গেস্ট হাউসগুলি ভেঙে ফেলা হবে। অভিযোগের পর বিষয়টি নিয়ে ব্লক প্রশাসন তিনটির বেশি বৈঠক করেছে। সোমবার ব্লক প্রশাসনের তরফে (পুলিশ, বন ও সেচদপ্তর, ভূমি ও ভূমি দপ্তরের আধিকারিক এবং বিডিও) এলাকাটি যৌথভাবে পরিদর্শন করা হয়েছে। আর তাতেই বেশ কয়েকটি গেস্ট হাউসের নির্মাণে অসংগতি মিলেছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, সরকারি নিয়ম নীতি মেনে মাপজোকের পরই তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হবে। 

Advertisement

সাঁতুড়ির বড়ন্তি (রামচন্দ্রপুর) জলাধারকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা পর্যটন কেন্দ্রে প্রচুর গেস্ট হাউস, রিসর্ট তৈরি হয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, তৃণমূল সরকারের আমলে গেস্ট হাউসের মালিকরা এক শ্রেণির আধিকারিকদের হাতে রেখে সরকারি জমি দখল করে ব্যবসা শুরু করেছে। কোথাও আদিবাসীদের পাট্টা জমি লিজ নিয়ে গেস্ট হাউস গড়ে উঠেছে। আবার কোথাও সেচ ও বনদপ্তরের জমি দখল করে রিসর্ট বানানো হয়েছে। তৃণমূল আমলে এলাকার মানুষ একাধিকবার প্রতিবাদ করেছে। কিন্তু গেস্ট হাউস মালিকদের হাতযশে তদন্ত মাঝপথে থেমে গিয়েছে। এবার সরকার পরিবর্তনের পর ফের স্থানীয়রা সরব হয়েছেন। তাঁরা আশাবাদী, এই সরকার তদন্ত থামিয়ে দেবে না। 
এলাকাবাসীর একাংশ জানিয়েছেন, তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার পরই হু হু করে গেস্ট হাউসের সংখ্যা বাড়তে থাকে। সরকারি ও পাট্টা জমি দখল শুরু হয়। কয়লা, বালি, অবৈধ ব্যবসার টাকা পর্যন্ত এলাকায় খেটেছে। বেশিরভাগ মালিক বিত্তশালী হওয়ায় এবং তাঁদের উচ্চস্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে যোগাযোগ থাকায় প্রতিবাদ করার সাহস হয়নি। এবার অন্তত আইনের শাসন চলবে বলে মনে করা হচ্ছে। 
ব্লক প্রশাসনের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমানে ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরে আমিন নেই। এ সপ্তাহের মধ্যে সরকারি আমিন জোগাড় করা হবে। তারপর ম্যাপ ধরে এলাকাটি মাপজোক করা হবে। অবৈধ গেস্ট হাউসগুলিকে নোটিস দেওয়া হবে। সেই সময়ের মধ্যে নিজেদেরই অবৈধ অংশ ভেঙে দিতে হবে। না হলে প্রশাসনই বুলডোজার চালাবে। তার খরচ মালিকের থেকে নেওয়া হবে।
সাঁতুড়ি ব্লকের বিজেপির প্রাক্তন মণ্ডল সভাপতি তথা জেলা কমিটির সদস্য অরূপ আচার্য বলেন, সরকারি জমি দখল করে যারা গেট হাউস গড়ে তুলেছে কাউকে রেয়াত করা হবে না। আইনের শাসন চলবে। - নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ