নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এবছরও শর্তসাপেক্ষে দক্ষিণ দিনাজপুরের বোল্লা কালী মন্দিরে পশুবলির অনুমতি দিল কলকাতা হাইকোর্ট। তবে মন্দির কমিটিকে সমস্ত শর্ত কঠোরভাবে মানতে হবে বলে বৃহস্পতিবার জানিয়ে দিয়েছে প্রধান বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানম ও বিচারপতি হিরণ্ময় ভট্টাচার্যর ডিভিশন বেঞ্চ। শর্ত না মানলে তাদের বেকায়দায় পড়তে হতে পারে বলেও মন্তব্য করেছে আদালত।
Advertisement
আজ শুক্রবার কয়েক শতাব্দী প্রাচীন বোল্লা কালীর পুজো। ঐতিহ্যবাহী এই পুজোয় বহুকাল ধরেই ছাগবলির রীতি প্রচলিত রয়েছে। প্রতিবছর ১০ হাজারেরও বেশি পশুবলি হয় এই পুজোয়। রাস পূর্ণিমার পর এই পুজোয় লাখো মানুষের ঢল নামে। পশুবলি বন্ধের দাবিতে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছিল হাইকোর্টে। অভিযোগ করা হয়, পশুবলি প্রথা সংবিধানের ২৫ অনুচ্ছেদের অধীনে সুরক্ষিত ‘আবশ্যিক ধর্মীয় চর্চা’ নয় এবং এটি নিষিদ্ধ করা প্রয়োজন। এদিন মামলার শুনানিতে মন্দির কমিটির তরফে সওয়াল করেন আইনজীবী কল্যাণ চক্রবর্তী। তিনি দাবি করেন, মন্দির কমিটি রাজ্য সরকারের দেওয়া সমস্ত শর্ত মেনে পুজো করতে প্রস্তুত। বলির ক্ষেত্রেও প্রশাসনের দেওয়া সমস্ত শর্ত মানা হবে। এটা মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাসের বিষয়। এই প্রথা বন্ধ করলে তাদের ভাবাবেগে আঘাত লাগবে। যদিও মামলাকারীর আইনজীবীর পাল্টা দাবি ছিল, কোনও রকম নিয়ম না মেনে প্রকাশ্যেই পশুবলি দেওয়া হয়। এই বলির জেরে যথেচ্ছ দূষণও হয়। তাছাড়া এই পশুবলি মন্দির কমিটির অর্থ আদায়ের একটি উপায় মাত্র। রাজ্যের তরফে এই মামলায় উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত এবং কেন্দ্রের তরফে ছিলেন অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল অশোক চক্রবর্তী। কেন্দ্র এবং রাজ্য উভয়েই পশুবলির বিষয়টি নিয়ে কোনও বিরোধিতা করেনি।
উভয় পক্ষের সওয়াল জবাব শোনার পর বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশে জানায়, চলতি মাসের শুরুতে পুজোকে কেন্দ্র করে মন্দির কমিটি এবং প্রশাসনের মধ্যে যে বৈঠক হয়েছে, সেখানে প্রশাসনিক তরফে দেওয়া যাবতীয় শর্ত মেনে পশুবলির আয়োজন করতে হবে। প্রকাশ্যে পশুবলি দেওয়া যাবে না। বিষয়টি আরও বিস্তারিত শুনানির জন্য নিয়মিত বেঞ্চে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত। শর্ত না মানলে মন্দির কমিটির বিরুদ্ধে আদালত পরবর্তীতে কড়া ব্যবস্থা নিতে বাধ্য থাকবে।
উভয় পক্ষের সওয়াল জবাব শোনার পর বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশে জানায়, চলতি মাসের শুরুতে পুজোকে কেন্দ্র করে মন্দির কমিটি এবং প্রশাসনের মধ্যে যে বৈঠক হয়েছে, সেখানে প্রশাসনিক তরফে দেওয়া যাবতীয় শর্ত মেনে পশুবলির আয়োজন করতে হবে। প্রকাশ্যে পশুবলি দেওয়া যাবে না। বিষয়টি আরও বিস্তারিত শুনানির জন্য নিয়মিত বেঞ্চে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত। শর্ত না মানলে মন্দির কমিটির বিরুদ্ধে আদালত পরবর্তীতে কড়া ব্যবস্থা নিতে বাধ্য থাকবে।



