Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / ব্ল্যাকবোর্ড

বেলগাভি ও গান্ধীজি

বেলগাভি ও গান্ধীজি
  • ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে যোগদানের পর থেকে জাতীয় কংগ্রেসের মধ্যমণি ছিলেন মহাত্মা গান্ধী। অথচ মাত্র একবার কংগ্রেসের সভাপতি হয়েছিলেন তিনি। ১৯২৪ সালে। অধুনা কর্ণাটকের বেলগাভিতে, দলের ৩৯তম অধিবেশনে। ওই ঐতিহাসিক ঘটনার শতবর্ষ উদযাপন করছে কংগ্রেস। অসহযোগ আন্দোলনের পর গান্ধীজিকে কারান্তরালে রাখে ইংরেজ সরকার। ১৯২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে মুক্তি দেওয়া হয় তাঁকে।  জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর স্বাধীনতা সংগ্রামের ক্ষেত্রে হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের অভাব ও কংগ্রেসের দলাদলিতে ব্যথিত হন তিনি। সম্প্রীতির বার্তা দিতে ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত ২১ দিনের অনশন করেন গান্ধীজি। এর পরেই ডিসেম্বরের ২৬ তারিখে শুরু হয় কংগ্রেসের বেলগাভি অধিবেশন। 
Advertisement
পশ্চিমের কোয়েট্টা থেকে পূর্বের বার্মা, কাশ্মীর থেকে কেরল—তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের নানা প্রান্ত থেকে প্রায় ১৭ হাজার প্রতিনিধি এসেছিলেন অধিবেশনে যোগ দিতে। তাঁদের থাকা-খাওয়া ও অন্যান্য সুযোগসুবিধার জন্য স্বেচ্ছাসেবীদের ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। বিশেষ করে স্বচ্ছ্বতা কমিটি অধিবেশনস্থল সাফসুতরো রাখতে ছিল সদা তৎপর। গান্ধীজির জন্য সাড়ে তিনশো টাকা খরচ করে বাঁশ ও ঘাসের কুঁড়েঘর তৈরি করা হয়। তাঁর মতো সাধারণ মানুষের জন্য এত অর্থব্যয়ে ক্ষুণ্ণ হয়েছিলেন ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের যুগপুরুষ। তাঁর অনুরোধেই ডেলিগেশন ফি ১০ টাকা থেকে কমিয়ে ১ টাকা করা হয়। এর পরও কংগ্রেসের কোষাগারে আসে ৭৭৩ টাকা। তার মধ্যে ৭৪৫ টাকা ব্যাঙ্কে জমা করা হয়। জরুরি খরচের জন্য সম্পাদকের কাছে ২৫ টাকা রাখা হয়। আর ছোটখাটো ব্যয়ের জন্য কোষাধ্যক্ষর কাছে রাখা হয়েছিল ১ টাকা। ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রামের অস্ত্র হিসেবে অহিংস আন্দোলন, সাম্প্রদায়িক সৌহার্দ্য, অস্পৃশ্যতা দূরীকরণ ও স্বরাজ নিয়ে নিজের মতাদর্শ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছিলেন গান্ধীজি। পরের বছরের এপ্রিল পর্যন্ত কংগ্রেস সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন তিনি। এরপর সরোজিনী নাইডু এই দায়িত্বভার গ্রহণ করেছিলেন।
সম্পর্কিত সংবাদ