Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বৈকুণ্ঠপুরে ১০ বিঘা জলাভূমি ভরাট তদন্তের নির্দেশ জেলাশাসকের

বৈকুণ্ঠপুরে ১০ বিঘা জলাভূমি ভরাট তদন্তের নির্দেশ জেলাশাসকের
  • ৩১ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: বর্ধমান শহর লাগোয়া বৈকণ্ঠপুর পঞ্চায়েত এলাকার জমি অগ্নিমূল্য। এই এলাকায় কোথাও ১০ লক্ষ আবার কোথাও ১২ লক্ষ টাকা কাঠা জমি বিক্রি হচ্ছে। কোনও কোনও এলাকায় জমির দাম আরও বেশি। এই এলাকায় জমি হাঙরদের নজর অনেক আগেই পড়েছে। এতদিন খাস বা পাট্টার জমি দখলের অভিযোগ উঠছিল তাদের বিরুদ্ধে। এবার জলাভূমি ভরাটও শুরু করেছে তারা। বামচাঁদাইপুর মৌজায় প্রায় ১০বিঘা জলাজমি ভরাট শুরু হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। বিষয়টি শোনার পর জেলাশাসক আয়েশা রানি এ ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, জলাজমি কোনওভাবেই ভরাট করা যাবে না। আধিকারিকরা ওই এলাকা পরিদর্শনে যাবেন। যারা জলাভূমি ভরাট করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যে এলাকা ভরাট হয়েছে সেখান থেকে মাটি তুলতে হবে।
Advertisement
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলায় জলাভূমি বাঁচাতে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর আগে বর্ধমান শহরে তিন-চারটি জলাভূমি ভরাটের অভিযোগ জমা পড়ে জেলাশাসকের দপ্তরে। তিনি তড়িঘড়ি তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে ভরাট হওয়া অংশ থেকে মাটি তুলে ফেলা হয়। এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, বর্ধমান শহরে জমির চাহিদা বহুদিন ধরেই রয়েছে। এখন শহর লাগোয়া পঞ্চায়েত এলাকাগুলিতেও অনেকেই জমি কিনে বাড়ি তৈরি করছেন। কয়েক বছর আগেও এই এলাকায় তিন থেকে চার লক্ষ টাকায় এক কাঠা জমি পাওয়া যেত। এখন সেই জমি দ্বিগুণের বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। ১০ বিঘা ওই জলাজমি ভরাট করতে পারলে বাহুবলীদের পকেটে কয়েক লক্ষ টাকা ঢুকবে। 
এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, ওই জলাশয়টির একাধিক শরিক রয়েছে। জলাশয়টি ভরাট হতে দেখে এক শরিক প্রতিবাদ করেন। তাঁকে ফোনে বাহুবলীরা হুমকি দেয় বলে অভিযোগ। এই সিন্ডিকেটটি একসময় এলাকার খাসজমি প্লটিং করে বিক্রি করেছে। একসময় তারা সাদামাটাভাবে জীবন যাপন করত। জমি কারবারে নেমে এখন তারা ফুলেফেঁপে উঠেছে। বৈকুণ্ঠপুর পঞ্চায়েতের উপপ্রধান জয়দেব বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, জলাশয় ভরাট নিয়ে আমার কাছেও অভিযোগ এসেছিল। বিষয়টি ব্লক প্রশাসনকে জানানো হয়। আশা করি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এলাকার বাসিন্দারা বলেন, হাঙররা অনেক জমির রেকর্ড বদলেরও চেষ্টা করছে। কখন কার জমির রেকর্ড বদল হয়ে যাবে তা কেউ জানে না। সেই কারণে অনেকেই আতঙ্ক রয়েছে। 
বিজেপি নেতা রাজু পাত্র বলেন, বামচাঁদাইপুরের কয়েকজন তৃণমূল নেতা সিন্ডিকেট চালাচ্ছে। দলের নেতারা সবকিছু জানার পরও কোনও ব্যবস্থা নেয় না। সেকারণে তারা অবৈধ কারবার চালিয়ে যাচ্ছে। তৃণমূল নেতা দেবু টুডু বলেন, দল কখনোই এসব কাজে কাউকে সমর্থন করে না। কেউ অবৈধ কাজ করলে প্রশাসন কড়া পদক্ষেপ নেবে। স্থানীয়রা বলেন, প্রভাবশালীদের ‘গিফটে’র বিনিময়ে অনেকেই এলাকায় বেআইনি কাজ করছে। অনুমতি ছাড়াই বহুতল গড়ে উঠছে। প্রায় দু’লক্ষ টাকার ঘড়ি গিফট নিয়ে এক প্রভাবশালী ওই অবৈধ নির্মাণকারীর পাশে দাঁড়িয়েছিল বলে শহরে জোর চর্চা চলছে।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ