


নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: গড়বেতায় পরিবর্তন যাত্রা! সেই যাত্রার জন্য লোক জোগাড় করতে বিজেপির এখন প্রধান হাতিয়ার ‘দাদার অর্থ-আশীর্বাদ’! ‘দাদা’ নিজেও আশীর্বাদস্বরূপ অর্থ তুলে দিচ্ছেন কর্মীদের হাতে। সেই ভিডিও (সত্যতা যাচাই করেনি ‘বর্তমান) সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরপাক খাচ্ছে। যা দেখে আক্রমণের সুযোগ হাতছাড়া করেনি তৃণমূল। তাদের অভিযোগ, ‘পাঁচশো টাকার লোভ দেখিয়েই পরিবর্তন সভায় লোক জোগাড় করেছে গেরুয়া শিবির।’ বিজেপির একাংশ কর্মীও ‘আশীর্বাদ’ থেকে বঞ্চিত হয়ে বেজায় চটেছেনে। স্বাভাবিকভাবেই ‘দাদার কীর্তি’ প্রকাশ্যে আসতেই চরম অস্বস্তিতে বিজেপি।
সূত্রের খবর, পরিবর্তন যাত্রায় নেতা, কর্মী ও সাধারণ সমর্থকদের জন্য ‘দাদা’র পৃথক পৃথক অর্থ বরাদ্দ ছিল। কেউ পেয়েছেন। কেউ পাননি। যাঁরা পাননি তাঁরা আড়ালে-আবডালে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন। কোনও কোনও নেতা আবার পরিবর্তন যাত্রা অংশ নিয়েও ‘দাদা’ মঞ্চ ভাগ না করে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানিয়েছেন। এমনই কয়েকজন নেতা, কর্মী একান্ত আলাপচারিতায় ভাইরাল হওয়া ভিডিও ফুটেজটি অস্বীকার করেননি। রসিকতা করে এটাই বলেছেন, ‘দাদার আশীর্বাদ কি আর সকলের কপালে জোটে!’
‘দাদা’র এহেন কীর্তিকে আক্রমণ করতে গিয়ে মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সভাপতি সুজয় হাজরা বলেন, ‘বিজেপির ওই দলছুট দাদা শুধু টাকা ওড়াতেই জানেন। নির্বাচন এলেই ওঁরা টাকা খরচ করে লোক জোগাড় করেন। পরিবর্তন যাত্রাতেও একই ছবি। আসলে বিজেপি নেতাদের লজ্জা বলে কিছু নেই।’ যদিও বিজেপি নেতা অরূপ দাস এদিন বলেন, ‘চোরেদের পায়ের তলা থেকে মাটি সরে গিয়েছে। তৃণমূলকে টাকা খরচ করে লোক জোগাড় করতে হয়। আসলে, আমাদের কর্মসূচি দেখে তৃণমূল ভয় পেতে শুরু করেছে। তাই ওরা গুজব রটাচ্ছে।’
রবিবার গড়বেতা হাইস্কুল মাঠে ছিল বিজেপির পরিবর্তন যাত্রা। উপস্থিত ছিলেন বিজেপির ওই ‘দাদা’ সহ কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। মাঠের একটা ছোট অংশে অনুষ্ঠানের মূল মঞ্চ করা হয়। বাস, গাড়িতে চাপিয়ে কর্মী-সমর্থকদের আনা হয়। তাতেও মাঠ ভরেনি। অনুষ্ঠান শুরুর পরও খালি চেয়ার পড়ে থাকতে দেখা গিয়েছে। ওই অল্প সংখ্যক কর্মী-সমর্থককে আনতেও বিজেপি টাকা উড়িয়েছে বলে অভিযোগ তৃণমূলের। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতেও দেখা যাচ্ছে, ‘দাদা’ নিজের পাঞ্জাবির পকেট থেকে পাঁচশো টাকার নোট বের করে সামনে দাঁড়ানো এক কর্মীর হাতে গুঁজে দিচ্ছেন।’ তারপর তিনি মঞ্চের দিকে রওনা দেন।
২০১৯ সালের লোকসভা ভোটে কিছু আসন জেতার পর থেকে বিজেপি নেতাদের উন্মাদনা বৃদ্ধি পায়। ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের আগেও দেদার অর্থ খরচ তাঁরা খরচ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। তাতে কিছু কর্মী, সমর্থক লাভবান হলেও বাংলা দখল অধরা থেকে যায়। এরপর ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত ও ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটের সময়ও কর্মী-সমর্থকদের ভিড় জমাতে বিজেপি টাকা ওড়ায় বলে অভিযোগ। তাতেও নিট ফল শূন্য। এবারে হাইভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করেছে গেরুয়া বাহিনী। তাই, অর্থবলের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হচ্ছে বলে রজানীতির কারবারিদের মত।