সন্দীপ বর্মন, মাথাভাঙা: বিজেপির বিএলএ-২’কে মারধর করে জুতোর মালা পরিয়ে ঘোরানো হল গ্রামে। বৃহস্পতিবার এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে মাথাভাঙা-১ ব্লকের ছাট খটেরবাড়িতে। জুতোর মালা পরেই ওই বিএলএ-২ মাথাভাঙা এসডিও অফিসে আসেন। পরে দলীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়ে মহকুমা শাসককে লিখিতভাবে অভিযোগ জানান। যদিও তৃণমূল কংগ্রেস তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের পাল্টা দাবি, এই ধরনের কোনও ঘটনাই হয়নি। বিজেপি প্রচারে আসতে এমন অভিযোগ তুলেছে। এলাকায় বিজেপির গোষ্ঠী কোন্দলও রয়েছে।
এদিন পচাগড় গ্রাম পঞ্চায়েতের ছাট খাটেরবাড়িতে বিএলওর সঙ্গে বিজেপির বিএলএ-২ নিবাস দাসের যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নিবাসবাবু সময়মতো না আসায় বিএলও গ্রামে একটি বাড়িতে যান। নিবাসবাবু ফোন করে ওই বাড়িতে পৌঁছতেই তৃণমূলের লোকজন তাঁকে ঘিরে ধরে বলে অভিযোগ। কিল, চড় মারা হয়। তৃণমূলের এক মহিলা কর্মী নিবাসবাবুর গলায় জুতোর মালা পরিয়ে দেন। এই ঘটনায় গ্রামে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।
পরবর্তীতে নিবাস দাস সেই জুতোর মালা নিয়ে হাজির হন মাথাভাঙার এসডিও অফিসে। সেখানে বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক মনোজ ঘোষ সহ বিজেপি নেতাদের সঙ্গে নিয়ে মহকুমা শাসককে লিখিত অভিযোগ জানায়। নিবাস দাস বলেন, আমি বিএলও’কে ফোন করে ওই বাড়িতে যেতেই তৃণমূলের লোকজন চড়াও হয়। ওরা আগে থেকে পরিকল্পনা করে ওখানে ছিল। আমাকে মারধর করে। তৃণমূলের এক মহিলা কর্মী গলায় জোর করে জুতোর মালা পরিয়ে দিয়েছে। আমি থাকলে তৃণমূলের অবৈধ ভোটাররা ধরা পড়বে, এই ভয়ে এ ধরনের ঘটনা করেছে।
যদিও তৃণমূলের পচাগড় অঞ্চল কমিটির সাধারণ সম্পাদক উকিল বর্মন বলেন, এই ধরনের কোনও ঘটনাই হয়নি। বিজেপি কর্মীরা নিজেরাই এলাকায় যেতে ভয় পাচ্ছেন। ওরা প্রচারে আসতেই এমন মিথ্যা অভিযোগ করছেন। ওই এলাকায় বিজেপির গোষ্ঠী কোন্দল রয়েছে। আমাদের কেউ এমন ঘটনা করেননি। অন্যদিকে, বিজেপির কোচবিহার জেলা সভাপতি অভিজিৎ বর্মন বলেন, তৃণমূল ভয় পেয়েছে। আমাদের বিএলএ-২’রা থাকলে ওদের ভুয়ো ভোটাররা ধরা পড়ে যাবে। নিয়ম অনুসারে বিএলওর সঙ্গে বিএলএ-২ থাকবেন। কিন্তু সব জায়গায় তৃণমূলের লোকজন দলবেঁধে বিএলওর সঙ্গে যাচ্ছে। বিভ্রান্তিতে ফেলছে বিএলও’কে। আমরা গোটা বিষয়টি ইআরও’কে জানিয়েছি। সিইওকে লিখিতভাবে জানাব। আমাদের বিএলএ-২’রা সব জায়গায় যাবেন। তৃণমূলের জেলা চেয়ারম্যান গিরীন্দ্রনাথ বর্মন বলেন, বিষয়টি শুনেছি, এই ধরনের ঘটনা কখনই কাম্য নয়। আমাদের দলের কেউ সত্যি এর সঙ্গে জড়িত কি না খোঁজ নিয়ে দেখব। মাথাভাঙার মহকুমা শাসক নবনীত মিত্তল বলেন, একটি অভিযোগ এসেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।