নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: ভোটের ময়দানে ফের বাংলা ভাগের জিগির! সোমবার দলের সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীনের সভায় দাবি ওঠে গোর্খাল্যান্ডের। তা না হলে উত্তরবঙ্গকে নিয়ে ইউনিয়ন টেরিটোরি গঠন কিংবা জনজাতি স্বীকৃতির (ট্রাইবাল স্ট্যাটাস) দাবি উঠেছে। তাতে বঙ্গ বিজেপির নেতারা সায় দিলেও সংশ্লিষ্ট ইস্যু নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করেননি পদ্ম পার্টির সর্বভারতীয় সভাপতি। এর বিরোধিতা করে তৃণমূল কংগ্রেস তোপ দেগেছে। সব মিলিয়ে স্থানীয় রাজনীতি সরগরম।
এদিন মাটিগাড়ার নিউ চামটার একটি হোটেলে বিশিষ্ট গোর্খা নাগরিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি। সভায় চিকিৎসক, ইঞ্জিনিয়ার, আইনজীবী, অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মী, ব্যবসায়ী সহ পাহাড়, তরাই ও ডুয়ার্সের প্রতিনিধিরা ছিলেন। সভায় গোর্খাদের পরিচিতি নিয়ে সরব হন অবরপ্রাপ্ত সেনাকর্মী প্রশান্ত শর্মা। তাঁর বক্তব্যের একটি ভিডিয়ো ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে তিনি বলেন, গোর্খারা আইডেন্টিটি সংকটে ভুগছেন। তাঁদেরকে নেপালি বলে ডাকা হচ্ছে। আমাদের এই সমস্যা মেটাতে হবে। এজন্যই দীর্ঘদিন ধরে গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে আন্দোলন চলছে। তা পূরণ করা সম্ভব নয় বলে বুঝতে পারছি। তাই উত্তরবঙ্গ নিয়ে পৃথক ইউনিয়ন টেরিটোরি গঠন করতে হবে। তা হলে উন্নয়নে জোয়ার আসবে। এই দাবিও মানা না হলে জনজাতির স্বীকৃতি দেওয়া হোক। তাতেই খুশি হব।
হোটেলের মঞ্চে বসে তাঁর দাবিকে করতালি দিয়ে সমর্থন জানান বিজেপি নেতারা। সেই দৃশ্যও ভিডিয়োতে ধরা পড়ে। সভার পর প্রশান্ত বলেন, গোর্খাজাতির স্বার্থে ওই দাবিগুলি করা হয়। দার্জিলিংয়ের বিধায়ক তথা জিএনএলএফ নেতা নীরজ জিম্বা বলেন, সভায় খুব ভালো আলোচনা হয়েছে। জমি, বাড়ির সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। গোর্খাল্যান্ডের আওয়াজও উঠেছে। তাই আমাদের সমস্যা মেটাতে বাংলায় পার্টিকে জেতাতে হবে।
একদা পূর্ব সিকিমে বিজেপির ইনচার্জ ছিলেন নীতিন। দলের সর্বভারতীয় সভাপতির দায়িত্ব পাওয়ার পর তাঁর প্রথম উত্তরবঙ্গ সফর। রবিবার তিনি এখানে আসেন। সোমবার ওই সভা করেন। সভার পর গোর্খাল্যান্ড বা পৃথক রাজ্য নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের কোনো উত্তর দেননি নীতিন নবীন। এ বিষয়ে বিবৃতি দিয়ে দার্জিলিংয়ের বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্তা জানান, দলের সর্বভারতীয় সভাপতি এখানকার কৌশলগত গুরুত্ব সম্পর্কে অবহিত এবং সামাজিক ও রাজনৈতিক সমস্যাগুলি বোঝেন। পাহাড়, তরাই, ডুয়ার্সে জনগণ ও গোর্খাদের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পার্টি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে উল্লেখ করেন সর্বভারতীয় সভাপতি।
প্রসঙ্গত, একুশের নির্বাচনের আগে এ ধরনের জিগির তোলা হয়েছিল। এরপর চব্বিশের লোকসভা ভোটেও ছিল একই এজেন্ডা। এমনকী, অতীতের বিভিন্ন নির্বাচনের আগে দার্জিলিং জেলার ইস্তাহারে ‘পিপিএস’ বা ‘পার্মানেন্ট পলিটিক্যাল সলিউশনের’, ১১ জনজাতিকে এসটি স্বীকৃতি প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তা এখনও অধরা! শিলিগুড়ির মেয়র তথা তৃণমূলের কেন্দ্রীয় নেতা গৌতম দেব বলেন, ভোট আসলেই বিজেপি বিভাজনের কথা বলে। এর তীব্র প্রতিবাদ করছি।