


নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: হাতে গেরুয়া পতাকা, মুখে বিজেপির স্লোগান। তবুও কথার ফাঁকে বলে বলছেন, ‘দিদিই তো দিচ্ছেন।’ কেউ আবার বলছেন, ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা ঠিকঠাকই পাচ্ছি।’ কারও আবার মাত্র দু’মাস আগেই স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পে মায়ের চোখ অপারেশন হয়েছে।
রাজনৈতিক বিরোধিতা সত্ত্বেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একাধিক জনমুখী প্রকল্পের সুবিধা নিচ্ছেন বিজেপির অসংখ্য কর্মী-সমর্থক। তাঁরা মোদির সভায় গিয়েছেন শনিবার। তাঁদের অধিকাংশেরই মুখে মমতা সরকারের জনমুখী প্রকল্পগুলির প্রশংসা।
রাঢ়বঙ্গের প্রত্যন্ত এলাকা থেকে আসা বহু বিজেপি কর্মী লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের অকুণ্ঠ প্রশংসা করেছেন শনিবার। পুরুলিয়া থেকে আসা মঙ্গলা কড়াই যেমন বলেছেন,‘লক্ষীর ভাণ্ডারের টাকায় খুব উপকার হচ্ছে। কিন্তু বিজেপির নেতারা যে বলছে ওরা জিতলে আরও বেশি টাকা দেবে। সেটা কি সত্যি?’ ওই জেলার করুণা মাহাত বলেন, ‘লক্ষীর ভাণ্ডার, কৃষক বন্ধু সবই পাচ্ছি। মিথ্যে কথা বলে লাভ নেই, আমরা বিজেপি করলেও দিদি এসব দিচ্ছেন।’ দুর্গাপুর থেকে আসা দীপক বাগদি বলেন, ‘স্বাস্থ্যসাথীর টাকাতে দু’মাস আগে মায়ের চোখের অপারেশন করতে পেরেছি। মা খুব ভুগছিল। এখন ঠিক আছে। বোনও কন্যাশ্রী পায়। তবে বিজেপি যে বলছে, কর্মসংস্থান হবে, টাকা দেবে, দেখা যাক।’ যুবসাথীর ফর্ম পূরণ করেছেন এমন অনেক সমর্থক বললেন, ‘বিজেপি করি বলে রাজ্য সরকার তো আর নাম কেটে দেয়নি। সরকার যখন দিচ্ছে নেব না কেন?’ শুক্রবার গভীর রাত থেকে দূরপাল্লার ট্রেনে বিভিন্ন জেলা ও ভিনরাজ্য থেকে বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা কলকাতায় আসা শুরু করেন ব্রিগেড সমাবেশে যোগ দিতে। শনিবার সকালের পর হাওড়া স্টেশন চত্বরে ভিড় বাড়তে শুরু করে। বিভিন্ন জেলা থেকে প্রায় ২৮টি ট্রেনে কয়েক হাজার কর্মী-সমর্থক হাওড়া স্টেশনে এসে নামেন। তাঁদের স্বাগত জানাতে স্টেশনের উল্টো দিকে লঞ্চঘাটের পাশে বিজেপি অস্থায়ী মঞ্চ তৈরি করেছিল। ব্রিগেডমুখী কর্মীদের জন্য রেল মিউজিয়ামের উল্টো দিকে সিপিটি কোয়ার্টার সংলগ্ন মাঠে খাওয়াদাওয়ার ব্যবস্থা হয়েছিল। সেখানে সকাল থেকেই শুরু হয়েছিল ভূরিভোজের রান্নাবান্না। মাঠে খাওয়া সেরে অনেকে হাওড়া ফেরিঘাট থেকে লঞ্চে উঠে স্লোগান দিতে দিতে ঢাক-ঢোল বাজিয়ে ব্রিগেডের দিকে রওনা দেন।
বেলা গড়ানোর পর হাওড়ায় দেখা গিয়েছে, খাওয়াদাওয়া সেরে অনেকে ব্রিগেডের দিকে পা মাড়াননি। ট্রেন ধরে বাড়ির পথ ধরেন। এছাড়া কেউ যান বোটানিক্যাল গার্ডেন। তাঁদের অনেকের কাছে দিনটি রাজনৈতিক সমাবেশের থেকেও শহর ঘোরার জন্য একটি ছুটির দিন হয়ে উঠেছিল।