নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বেলা গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বিজেপির আসন সংখ্যা বেড়েছে লাফিয়ে লাফিয়ে। জয়ের খবর আসার সঙ্গে সঙ্গেই উল্লাসে মেতে উঠেছেন রাজ্য ও কলকাতা পুলিশের নিচুতলার পুলিশকর্মীদের একটা বড়ো অংশ। বিভিন্ন ব্যাটালিয়নে শুরু হয়েছে মিষ্টি বিতরণ। এমনকি বাদ যাননি আইপিএস কর্তাদের একাংশ। যাঁদের যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও তাঁবেদারিতে রাজি না-হওয়ায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার ভালো পদে বসায়নি। নিচুতলার পুলিশকর্মী থেকে শীর্ষকর্তাদের চোখমুখ থেকে ঝরে পড়েছে মমতা সরকারের প্রতি ক্ষোভ। একইসঙ্গে তৃণমূল জমানায় তৈরি হওয়া রাজ্য পুলিশের ওয়েলফেয়ার কমিটির অফিস সিল করা শুরু হয়েছে সোমবার দুপুর থেকেই। এদিকে ফল বেরোনোর পর অশান্তি এড়াতে রাজ্য ও কলতাতা পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, আজ মঙ্গলবার থেকে কেউ বিজয় মিছিল করতে চাইলে সংশ্লিষ্ট থানার ওসিদের অনুমতি নিতে হবে। কেউ নির্দেশ না মানলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মমতা জমানায় অব্যবস্থা নিয়ে ক্ষুব্ধ ছিলেন পুলিশের একাংশ। অপরাধ করেও পার পেয়ে গিয়েছেন বহু তৃণমূল নেতা। থানায় ধরে এনেও উপরতলার ফোনে ছেড়ে দিতে হয়েছে তাঁদের। শাসক দলের নেতাদের হাতে মার খেয়েও দীর্ঘদিন ধরে তা হজম করতে হয়েছে পুলিশকর্মীদের। এমনকি তৃণমূলের গুন্ডাদের হাত থেকে বাঁচতে আলিপুর থানায় পুলিশকে টেবিলের তলায় লুকোতে হয়েছে। তা নিয়ে রীতিমতো ক্ষোভে ফুঁসছিল কনস্টেবল থেকে ইনস্পেক্টরদের বেশিরভাগই। শাস্তির ভয়ে তাঁরা কেউ মুখ খুলতে পারেননি। নিয়োগ না-হওয়ায় দীর্ঘদিন একেকজন পুলিশকর্মীকে অতিরিক্ত ডিউটি করতে হয়েছে। একইসঙ্গে বদলির ক্ষেত্রে একটা ‘কোটারি’ কাজ করেছে। ঘুরেফিরে একই ব্যক্তি থানার ওসি বা আইসি হয়েছেন রাজ্য ও কলকাতা পুলিশে। এমনকি, নিচুতলার পুলিশকর্মীদের জন্য বারাকের মান উন্নয়নের কথা বলা হলেও দীর্ঘ ১৫ বছরে তার হাল ফেরেনি। যাঁরা সাধারণ মানুষকে নিরাপত্তা দেন তাঁদের দিনের পর দিন অস্বাসস্থ্যকর পরিবেশে দিন কাটাতে হয়েছে। এমনকি, পুলিশ আধুনিকীকরণের টাকায় থানাগুলির পরিকাঠামো উন্নয়নের প্রতি কোনো গুরুত্বই দেওয়া হয়নি। এই কারণে ক্ষোভ বাড়ছিল পুলিশ মহলে। গোদের উপর বিষ ফোঁড়ার মতো যুক্ত হয় ওয়েলফেয়ার কমিটি। এই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত না-হলে নিচুতলার পুলিশকর্মীাদের উপর নেমে এসেছে বিভিন্ন ধরনের মানসিক চাপ। সর্বোপরি ডিএ না-পাওয়ায় পুলিশের সব অংশেই ক্ষোভ বাড়ছিল। এমনকি নাইট অফ চালু করার কথা বলা হলেও তা হয়নি। এই কারণে মমতা সরকারের পতনের সঙ্গে সঙ্গেই সেই ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন পুলিশকর্মীরা। বিভিন্ন থানা ও বারাকে দুপুরের পর থেকে শুরু হয়েছে মিষ্টি বিতরণ। নিজেরা নাচেগানে মেতে উঠেছেন। সকলেরই একটা কথা এবার অন্তত সুদিন ফিরবে।