Bartaman Logo
১৫ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

৫০টি আসনও পাবে না বিজেপি, ভোট দিয়ে প্রত্যয়ী অভিষেক

নির্বাচনের আগে যা বলেছিলেন, ভোটের দিনেও সেই দাবিতে অনড় রইলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

৫০টি আসনও পাবে না বিজেপি, ভোট দিয়ে প্রত্যয়ী অভিষেক
  • ৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ১৪:০৪
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নির্বাচনের আগে যা বলেছিলেন, ভোটের দিনেও সেই দাবিতে অনড় রইলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার ভবানীপুরের মিত্র ইনস্টিটিউশনে ইনস্টিটিউশনে ভোট দেওয়ার পর অভিষেক দাবি করেন, প্রথম দফার ভোটে আমরা সেঞ্চুরি পার করেছিলাম। এবার দ্বিতীয় দফার ভোটে ডবল সেঞ্চুরি পার করেছি। জয়ের আসন সংখ্যাটা কোথায় গিয়ে থামবে, তা কেউ জানে না। আর যে বিজেপি গতবার ৭৭ আসন পেয়েছিল, তাদের এবার বাংলার মানুষ ৫০ আসনের নীচে নামিয়ে আনবে।

Advertisement

কেন্দ্রীয় বাহিনীর অত্যাচারের কাহিনী এদিন বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছেন অভিষেক। বিজেপির কথা মতো কেন্দ্রীয় বাহিনী অত্যাচার চালিয়েছে বলে অভিযোগ। অভিষেকের দাবি, সাধারণ মানুষকে মারধর, হেনস্তা করার পাশাপাশি বাড়িতে ঢুকে হুমকি দিয়েছে আধাসেনা। তৃণমূল কর্মীদের মারধর করা হয়েছে। এতসবেরও পরেও অভিষেকের দাবি, বিজেপি বলেছিল ভয় আউট, ভরসা ইন। আসলে বুঝতে হবে, ভরসা মানে তৃণমূল। ভয় মানে এসআইআর, এনআরসি আর বিজেপি। ভোটের আগের দিন রাত থেকে ভোটের সারাদিন কেন্দ্রীয় বাহিনী সাধারণ মানুষের উপর যে অত্যাচার চালিয়েছে, তার জবাব ৪ মে বিজেপি পেয়ে যাবে। তৃণমূলের দাবি, ২৩০ আসন নিয়ে বাংলায় ফের ক্ষমতায় আসবে জোড়াফুল।
বাংলায় ভোট দখলের জন্য বিজেপি নানা ধরনের চক্রান্ত করেছিল, অভিযোগ এমনটাই। মঙ্গলবার রাত থেকে বিজেপির ষড়যন্ত্রের খবর আসতে থাকে তৃণমূল সেনাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে। সারা রাত তিনি জেগে ছিলেন। প্রত্যেকটি জেলার তৃণমূলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেন। এমনকী বুথ লেভেল এজেন্টদের সঙ্গেও প্রতি মুহূর্তে যোগাযোগে ছিল অভিষেকের নির্বাচনী কার্যালয়। অভিষেকের যুক্তি ছিল, কোনো কেন্দ্রীয় এজেন্সি ভোট দেবে না, ভোট দেবে সাধারণ মানুষ। ফলে বিজেপি যত চেষ্টা করুক, বাংলার মানুষের ভোট দান আটকাতে পারবে না, পারেওনি।
বুধবার সকালে ভোট শুরু হওয়ার পর প্রতিটি জায়গার খোঁজ নেন তৃণমূল সেনাপতি। কোথায় ইভিএম খারাপ, কোথায় তৃণমূলের এজেন্টকে বসতে দেওয়া হচ্ছে না, সে সম্পর্কে অভিযোগ আসার পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করেন অভিষেক। ভোট প্রক্রিয়া শুরু হলে তারপর মিত্র ইন্সটিটিউশনে ভোট দিতে যান তিনি। ততক্ষণে অভিষেকের কাছে খবর আসে, বিভিন্ন বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনী সাধারণ ভোটারের সঙ্গেই তৃণমূল কর্মীদের উপরও অত্যাচার করছে। ভোট দিয়ে বেরিয়ে আসার পর তিনি কেন্দ্রীয় বাহিনীর আচরণ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। কোথায়, কী কী সমস্যা হচ্ছে, তা অভিষেকের নির্দেশে নির্বাচন কমিশনে জানানো হয়। তারপর ভবানীপুর থেকে ডায়মন্ডহারবার লোকসভার অন্তর্গত আমতলায় চলে যান অভিষেক। সেখানেই ছিল ভোটের কন্ট্রোল রুম। দিনভর সেখানেই ছিলেন অভিষেক। যাবতীয় ভোট পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় নির্দেশ সেখান থেকেই করেছেন তিনি। ভোট শেষ হওয়ার পর অভিষেক বাড়ি ফেরেন। সাধারণ মানুষের উৎসাহ দেখে স্বস্তির নিঃশ্বাস তৃণমূল সেনাপতির।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ