Bartaman Logo
২ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দুর্গাপুরে উচ্ছেদ নিয়ে এতদিন চুপ বিজেপি ভোট আসতেই ভোলবদল!

দুর্গাপুরের ২১ নম্বর ওয়ার্ডের রাচি কলোনি। এক পাশে এনআইটির মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অন্যদিকে সারি দিয়ে দাঁড়িয়ে বহুতল অট্টালিকা

দুর্গাপুরে উচ্ছেদ নিয়ে এতদিন চুপ বিজেপি ভোট আসতেই ভোলবদল!
  • ২৩ মার্চ, ২০২৬ ১৫:০৩
Prefer us on Google

সুমন তেওয়ারি, দুর্গাপুর:  দুর্গাপুরের ২১ নম্বর ওয়ার্ডের রাচি কলোনি। এক পাশে এনআইটির মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অন্যদিকে সারি দিয়ে দাঁড়িয়ে বহুতল অট্টালিকা। এই দুইয়ের মাঝে বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে রাচি কলোনি। বেশিরভাগ কাঁচা বাড়ি, বস্তি এলাকা। এখানেই রবিবার সকাল থেকে চুটিয়ে জনসংযোগ করলেন দুর্গাপুর পশ্চিমের বিজেপি প্রার্থী লক্ষ্মণ ঘোড়ুই। পাঁচ বছরের বিধায়ক জানেন এখানের সমস্যা। তাই এলাকায় গিয়ে খুলছেন প্রতিশ্রুতির ঝাঁপি। 

Advertisement

বিজেপি প্রার্থীকে কাছে পেয়েই বাসিন্দা রীতেশ যাদব জানালেন নানা সমস্যার কথা। বাড়ির সামনে ট্রান্সফর্মার। যে কোনো সময়ে বিপদ হতে পারে। বাড়ি বলতে মাথা গোঁজার মতো ঘর। রীতেশবাবুর অভাব অভিযোগ শুনে লক্ষ্মণ ঘোড়ুই বলেন, জমি কার, মোদিজির। আমরা তারই প্রতিনিধি। মনে রাখবেন, আমরা জিত঩লেই আপনাদের এই জমির পাট্টা দিতে পারব। পাট্টা দেব। বাড়ি তৈরি করে দেওয়া হবে। প্রার্থীর কথায় অভিভূত হয়ে অবাঙালি রমেশ রায় বলেন, খাটালের জমির কাগজ নেই। পাট্টা পেলে ভালো হতো। ভোটের বাজারে দরাজ নেতারা। লক্ষ্মণবাবু বলেন, খাটালের উন্নয়ন হবে। হিন্দি ভাষায় জয়ধ্বনি উঠল। লক্ষ্মণবাবু অরও এগিয়ে চললেন। এলাকাবাসীর দাবি, প্রায় দশ হাজার মানুষ রয়েছে এই রাচি কলোনিতে। কিছুটা দূরে দাঁড়িয়েছিলেন সুজাতা চক্রবর্তী সহ বেশ কিছু মহিলা। তাঁদেরও দাবি, বাড়ি নেই। সরকারি জমিতে আছি। আমাদের কিছু ব্যবস্থা করুন। লক্ষ্মণবাবু বলেন, ডিএসপির জমিতে আপনাদের বাড়ি। আমরাই পারব জমির পাট্টা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে।  পাট্টা দেওয়ার পর বাড়ি বানিয়ে দেব। তৃণমূল এলে আপনাদের উচ্ছেদ করে দেবে। আরও এনআইটির প্রাচীরের গোড়ায় দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, তৃণমূলের যে প্রার্থী, সে ব্য‌বসায়ী। গরিবের দোকান ভেঙে রাস্তা করছে। তোমাদের বাড়ি ভেঙে বড় লোকদের ফ্ল্যাট হবে। আমরাই গরিবের পাশে থাকব। রাচি কলোনিতে ড্রেনের সমস্য রয়েছে। পথবাতিগুলিও অনেক সম঩য়েই জ্বলে না। শাসকদলের স্থানীয় নেতাদের নিষ্ক্রিয়তায় ক্ষোভ বাড়ছে পুরসভার উপর। সেই ক্ষোভই কাজে লাগাতে মরিয়া লক্ষ্মণ। লক্ষ্মণের এই অবস্থানে দুর্গাপুরের অনেকেই স্তম্ভিত। রেল হোক বা সেইল কিংবা ডিভিসি, দুর্গাপুরবাসীর দেখেছে বিজেপি পরিচালিত কেন্দ্রীয় সরকার অধীনস্থ সংস্থাগুলি সরকারি জমি থেকে উচ্ছেদে তৎপর। সাম্প্রতিককালে ডিএসপির কর্তৃপক্ষ প্রাচীর দেওয়ার জন্য একাধিক মানুষকে উচ্ছেদ করেছিল। একই ভাবে রেলও বহু মানুষকে তাদের জমিতে থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা করে। ডিভিসি তো বহু মানুষকে তাদের জমি থেকে উচ্ছেদ করে দিয়েছে। সবক্ষেত্রেই উচ্ছেদের বিরোধিতা করে আন্দোলন করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। যে বিজেপি সরকার বুলডোজর দিয়ে সরকারি জমিতে থাকা বাড়ি ভাঙতে তৎপর, সেই দলের প্রার্থী সরকারি জমি দখলকে সমর্থন করছেন। এ নিয়ে রা঩জ্যের বিদায়ী পঞ্চায়েত মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার বলেন, আমরা উন্নয়নের বিরোধী নই, কিন্তু আমাদের দাবি ক্ষতিপূরণ দিয়ে উচ্ছেদ করা হোক। বছরের পর বছর কেন্দ্রীয় সরকারের সংস্থাগুলি গরিব মানুষকে পুনর্বাসন না দিয়ে উচ্ছেদের চেষ্টা করেছি। আমরা তা আটকেছি। ভোটের মুখে ভাঁওতা দিয়ে লাভ নেই।  মানুষের কাছে আমরা প্রকৃত সত্য তুলে ধরব। লক্ষ্মণ ঘোড়ুই বলেন, কোনো ভাঁওতা নয়, দুর্গাপুরের গরিব মানুষের জন্য তৃণমূল কিছু করেনি। যিনি প্রার্থী, তিনি গরিবের দোকান ভেঙে রাস্তা করেছেন। বড়লোকদের জন্যে সুইমিং পুল করেছেন। তৃণমূল প্রার্থী কবি দত্ত বলেন, আমি সবার জন্য উন্নয়ন করেছি। সুইমিং পুল বিনোদন নয়, নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের সাঁতার শেখানোর জন্য করা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ