নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: বিজেপির নীচুতলার কর্মীদের সংযত থাকার জন্য বারবার বার্তা দিচ্ছেন দলের রাজ্য নেতৃত্ব। কিন্তু কে শোনে কার কথা! এবার তৃণমূলের কর্মসূচি নিয়ে এক বিজেপি নেতার ‘হুঁশিয়ারি’ দেওয়ার অভিযোগে সরগরম হয়ে উঠেছে শাসনের রাজনীতি। এ বিষয়ে সামনে এসেছে একটি অডিয়ো রেকর্ডিং। সেখানে শাসনের বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা আব্দুল রউফকে ‘বড়ো কর্মসূচি’ না করার জন্য কার্যত শাসাতে শোনা যাচ্ছে হাড়োয়ায় এক স্থানীয় বিজেপি নেতাকে। অডিয়োয় তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘বড়ো কোনো কর্মসূচি করবেন না। এতে এলাকায় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে। কর্মীরা মার খেতে পারে আমাদের লোকের হাতে।’ যদিও এই অডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি ‘বর্তমান’।
আগামী ২৮ আগস্ট তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবস। সেই উপলক্ষ্যে শাসনের বিভিন্ন এলাকায় তৃণমূলের কালীঘাটপন্থী শিবির একাধিক কর্মসূচি নিয়েছে। কয়েকদিন আগে এনিয়ে প্রস্ততি সভাও হয়েছে বিভিন্ন এলাকায়। তৃণমূলের দাবি, পালাবদলের পরেও শাসনের মাটিতে তাদের সংগঠন যথেষ্ট পোক্ত রয়েছে। বিভিন্ন কর্মসূচিতে মানুষের উপস্থিতি বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্বের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। সেই কারণেই তাদের কর্মসূচি ঠেকাতে ভয় দেখানোর পথ নিয়েছে বিজেপি। যে অডিয়ো রেকর্ড সামনে এসেছে, তাতে শুধু সতর্কবার্তা নয়, প্রচ্ছন্ন হুমকিও রয়েছে বলে অভিযোগ তৃণমূলের। সরাসরি আক্রমণের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। তৃণমূল নেতা আব্দুল রউফ বলেন, ‘আমাদের দলীয় কর্মসূচি বন্ধ করার জন্য চাপ তৈরি করা হচ্ছে এভাবে। আমাদের হুমকি দিয়ে বলা হচ্ছে, শুধরে নিন, নাহলে শুধরে দেওয়া হবে বলে। আমরা কারও সঙ্গে সংঘাতে যেতে চাই না। মানুষের কাছে গিয়ে কথা বলা, দলের কর্মসূচি পালন করা আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার। কেউ হুমকি দিয়ে সেই অধিকার কেড়ে নিতে পারবেন না। মানুষ কী চাইছে, সেটা কর্মসূচিতে তাদের উপস্থিতিই বলে দিচ্ছে। আমাদের কর্মীদের ভয় দেখিয়ে মাঠ থেকে সরানো যাবে না।’ তাঁর আরও দাবি, এমন ভয়ের পরিবেশ তৈরি করে রাখা হয়েছে যে থানায় অভিযোগ দায়েরের সাহস পাচ্ছেন না তাঁরা। বিজেপির পালটা দাবি, এলাকায় অশান্তি ছড়ানোর কোনো উদ্দেশ্য নেই তাদের। সম্ভাব্য জনরোষ এড়াতেই সতর্ক করা হয়েছে। তবে অডিয়ো প্রকাশ্যে আসার পর সেই ‘সতর্কবার্তা’ই এখন শাসনের রাজনীতিতে নয়া বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু।