Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

চুঁচুড়ায় শক্তি প্রদর্শন করতে গিয়ে হোঁচট খেল পদ্ম শিবির

ভোট মরশুমে শক্তি প্রদর্শনের শুরুতেই বড়ো হোঁচট খেল পদ্মপার্টি। সোমবার পাঁচ প্রার্থীর মনোনয়ন পেশকে কেন্দ্র করে লোকবল দেখানোর ছক কষেছিল বিজেপি।

চুঁচুড়ায় শক্তি প্রদর্শন করতে গিয়ে হোঁচট খেল পদ্ম শিবির
  • ৭ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: ভোট মরশুমে শক্তি প্রদর্শনের শুরুতেই বড়ো হোঁচট খেল পদ্মপার্টি। সোমবার পাঁচ প্রার্থীর মনোনয়ন পেশকে কেন্দ্র করে লোকবল দেখানোর ছক কষেছিল বিজেপি। জেলা সদর চুঁচুড়ার প্রাণকেন্দ্রে বড়ো জমায়েত করে মনোনয়ন পেশের কর্মসূচি থেকে হাওয়া তোলার পরিকল্পনা ছিল তাদের। কিন্তু সেসব মাঠে মারা গিয়েছে। দলের তারকা প্রচারক তথা রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের উপস্থিতিতেও চুঁচুড়ার ঘড়িমোড়ে হাতেগোনা মানুষ জমায়েত হয়েছিলেন। চুঁচুড়ায় ঘড়ির মোড়ে হাজার দেড়েক লোক জমায়েত হলেই শহর স্তব্ধ হয়ে যায়। সেখানে বিজেপির ‘পরিবর্তন যাত্রা’র সভাস্থলের পাশ দিয়ে দেদার গাড়ি, অটো-টোটো ছুটেছে। দলের কর্মীদের একাংশের দাবি, মেরেকেটে ৪০০ লোক ছিল।

Advertisement

দলীয় জমায়েত বেআব্রু হয়ে যাওয়ায় দলের অন্দরে আকচাআকচি শুরু হয়েছে। জানা গিয়েছে, সভা শেষে হুগলি সাংগঠনিক জেলার সভাপতিকে এ নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি রাজ্য সভাপতি। জেলা সভাপতির উদ্দেশে তিনি বলেন, একটু খাওয়াদাওয়া করুন, কর্মীদেরও করান। দলের এক নেতা বলেন, একে সভাস্থল ফাঁকা, তার উপর কর্মীদের মধ্যে উৎসাহের অভাব— তাই শক্তি বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন রাজ্য সভাপতি। জেলা সভাপতি গৌতম চট্টোপাধ্যায় অবশ্য বলেন, ভিড়ে ছয়লাপ হয়ে গিয়েছিল। প্রত্যেক বিধানসভা থেকে কমপক্ষে পাঁচ হাজার মানুষ এসেছিলেন। কিন্তু সকলে একই সময়ে পৌঁছাতে পারেননি। তাই একটু ফাঁকা দেখিয়েছে। তাছাড়া যত লোক এসেছিলেন, সকলের জন্য ছাউনি দিতে পারিনি। প্রবল রোদের কারণেই আশপাশের ছায়ায় মানুষ দাঁড়িয়েছিলেন। সেসবে অবশ্য দলের কাছা খোলা দশা আড়াল করা যাচ্ছে না। কারণ, কর্মিমহলে এনিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে। 
এদিনই শ্রীরামপুর মহকুমা থেকে চন্দননগর মহকুমা পর্যন্ত তৃণমূল প্রার্থীরা মনোনয়ন দিয়েছেন। প্রতি প্রার্থীর মিছিলে যা মানুষ ছিলেন, তা বিজেপির রাজ্য সভাপতির সভার থেকে দশগুণ বেশি। রাজনৈতিক মহল এও দাবি করছে যে, উৎসাহের নিরিখে বিজেপির সভাকে দশ গোল দিয়েছে শাসকদল।
সোমবার ধনেখালি, চুঁচুড়া, সপ্তগ্রাম, বলাগড় ও পাণ্ডুয়ার বিজেপি প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা করেছেন। এই কর্মসূচিকে নজরকাড়া করতে গত সাতদিন ধরে প্রয়াস নিয়েছিলেন বিজেপির ‘প্রবাসী কার্যকর্তা’দের দল। দু’দিন আগেও এনিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে বিধানসভা পিছু এক থেকে দু’হাজার লোক আনার নির্দেশ দিয়েছিল নেতৃত্ব। বাস্তবে তার কানাকড়িও আসেনি। একসময় ফাঁকা সভায় বসে থাকতে থাকতে ‘বিরক্ত’ হয়ে রাজ্য সভাপতি চুঁচুড়া কোর্টে ‘ঘুরতে’ গিয়েছিলেন। বেশ কিছু সময় পর তিনি ফিরলেও দেখেন, হাওয়া ফেরেনি। দল সূত্রে জানা গিয়েছে, বসার জন্য ১৫০০ চেয়ারের অর্ডার দেওয়া হয়েছিল। লোক নেই দেখে ৩০০ চেয়ার পেতে বাকিটা মঞ্চের পিছনে ‘লুকিয়ে’ ফেলা হয়। সেই তিনশো চেয়ারও তারকা বক্তার বক্তৃতার সময় ভরতি ছিল না।
এদিকে, এদিন চুঁচুড়ায় শমীক ভট্টাচার্যের সভায় হাজির হন আরামবাগের প্রাক্তন সাংসদ সিপিএমের দাপুটে নেতা অনিল বসুর ছেলে সৌম্য বসু। তিনি এই নির্বাচনে বিজেপির হয়ে কাজ করার ইচ্ছাপ্রকাশ করেন। শমীক তাতে সায় দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালে প্রথমবার এবং ২০২১ সালে দ্বিতীয়বার তিনি বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ