নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: ‘ডেডলাইন’ শেষ হতে বাকি আর দু’দিন। এখনও নিজেদের গড়েই বুথ সভাপতি খুঁজতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে বিজেপি। রীতিমত কাঠখড় পুড়িয়েও দেড় শতাধিক বুথে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো নেতাই খুঁজে পাচ্ছে না তারা! নিজভূমে পদ্মশিবিরের এহেন দুর্দশা দেখে ঠেস দিতে ছাড়েনি তৃণমূল। তাদের দাবি, জন সমর্থক হারিয়েছে বিজেপি। তাই নেতা খুঁজতে ওদের এই নাজেহাল দশা।
গত কয়েকটি নির্বাচনের ফল বলছে, নদীয়া দক্ষিণে বিজেপির দাপট বিরাট। লোকসভা এবং বিধানসভার ভোটে তাদের একচেটিয়া আধিপত্য। তাই, রানাঘাট লোকসভা কেন্দ্রকে অনেকে ‘পদ্মগড়’ও বলে থাকেন। সেই গড়েই কিনা বুথ কমিটি তৈরি করতে লেজেগোবরে অবস্থা গেরুয়া শিবিরের! ৩৮টি মণ্ডল বিশিষ্ট বিজেপির এই সাংগঠনিক জেলায় রয়েছে প্রায় দুই হাজারের কাছাকাছি বুথ। জুনের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত কমবেশি প্রায় ৩০ শতাংশ ক্ষেত্রে বুথ কমিটিই ছিল না তাদের। গেরুয়া শিবিরের অন্দরের খবর, বুথে বুথে লোক খুঁজতেই তাদের হয়রান হতে হয়েছে। অবশ্য ৮ থেকে ১১ জুন বুথ কমিটির নির্বাচনের বিশেষ অভিযান চালিয়ে সেই ক্ষত কিছুটা পূরণ করতে সক্ষম হয় তারা। তবুও ১০০ শতাংশ বুথে এখনও বুথ কমিটি গঠনে ব্যর্থ বিজেপি। এখনও কমবেশি প্রায় ১৬০টি বুথে তারা কমিটি তৈরি করে উঠতে পারেনি। নবদ্বীপ, শান্তিপুর, চাকদহ এবং রানাঘাট দক্ষিণের মতো বিধানসভাগুলিতে এই সমস্যা প্রকট। সংগঠনের এহেন অবস্থায় ভ্রু কুঁচকাচ্ছেন পদ্ম নেতাদের একাংশ।
এদিকে, বছর ঘুরলেই বিধানসভা ভোট। তার আগে আদৌ কি বিজেপি ১০০ শতাংশ বুথে কমিটি তৈরি করতে পারবে? সংশয়ে রয়েছেন দলের নেতা-কর্মীরা।
প্রকাশ্যে অবশ্য নেতারা বলছেন, প্রচুর সংগঠনিক কর্মকান্ড এবং রাজনৈতিক কার্যক্রমের চাপ রয়েছে। তাই বুথ কমিটির নির্বাচনের সময় মিলছে না। পাশপাশি অন্য একটি কারণও উঠে আসছে। সেটি হল, সংখ্যালঘু অধ্যুষিত বুথগুলিতে লোক খুঁজে পাচ্ছে না বিজেপি। এদিকে, ৩ জুলাই বুথ কমিটি গঠনের শেষ দিন। তার আগে কীভাবে দেড় শতাধিক বুথের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে? প্রশ্ন উঠছে স্বাভাবিকভাবেই। বিষয়টি নিয়ে নদীয়া দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভানেত্রী অপর্ণা নন্দী বলেন, ‘অস্বীকার করার উপায় নেই, কিছু বুথে কমিটি তৈরি বাকি রয়েছে। তবে, তার অন্যতম কারণ প্রচুর রাজনৈতিক কর্মসূচি থাকছে আমাদের। তাই সেই সময় পাওয়া যায়নি। যে সমস্ত জায়গায় বুথ কমিটি নির্বাচন বাকি রয়েছে, তার অধিকাংশই সংখ্যালঘু অধ্যুষিত। হিন্দু এলাকাই আমাদের সমস্ত বুথেই কমিটি তৈরি হয়ে গিয়েছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই এই সমস্যা মিটে যাবে।’
তৃণমূলের অবশ্য দাবি, সাধারণ মানুষের উপর কেন্দ্রীয় সরকারের নীতির কারণে যে অত্যধিক খরচের ছাপ পড়েছে, তাতে সমর্থন হারাচ্ছে বিজেপি।
বিষয়টি নিয়ে শান্তিপুরের তৃণমূল বিধায়ক ব্রজকিশোর গোস্বামী বলেন, রানাঘাট লোকসভাতেই তাদের পাঁচ বছরে পঞ্চাশ হাজার ভোট কমেছে। সারা রাজ্যেই আসন্ন বিধানসভায় বিজেপির ফল খারাপ হতে চলেছে। রানাঘাটের মাটিতে তৃণমূল ভালো ফল করবে। এটা আমাদের বিশ্বাস। মানুষের সমর্থন আমাদের সঙ্গেই।