


সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: একুশের ভোটের মত এবারও রঘুনাথপুর মহকুমার তিন কেন্দ্রে বিজেপি তাদের তিনটি আসনই ধরে রাখল। রাজ্য জুড়ে পরিবর্তন হওয়ায় রঘুনাথপুর মহকুমার তিন বিধানসভায় বিজেপি প্রার্থীরা ২৫ হাজারের বেশি (শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী) ভোটে জিতেছেন। তৃণমূল এবার দু’টি বিধানসভায় নতুন প্রার্থীদের টিকিট দিলেও তাঁরা জিততে অক্ষম হয়। এদিন গণনা শুরুর প্রথম রাউন্ড থেকে বিজেপি প্রার্থীরা এগিয়ে যায়। সময় যত গড়াতে থাকে পদ্ম প্রার্থীদের ভোটের মার্জিন ততই বাড়তে থাকে। ফলে তিন পদ্ম প্রার্থী হাসিমুখে গণনা কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে যান। অন্যদিকে, ফল ঘোষণা হতে বিজেপির কর্মী, সমর্থকরা বাইরে আবির খেলায় মত্ত হয়ে পড়ে। এবং ডিজে গানে মাতোয়ারা হয়ে উঠে এলাকা। রঘুনাথপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের সামনে বিজেপির কর্মী ও সমর্থকেরা জমায়েত হন এদিন। পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দেন। অন্যদিকে, তৃণমূলের প্রার্থীরা হারছে জেনেও জোড়াফুল শিবিরে শেষ পর্যন্ত দলের কর্মী, সমর্থকরা বসে ছিলেন। গণনা কেন্দ্রের বাইরে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রশাসন কড়া পাহারার ব্যবস্থা করে।
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রঘুনাথপুর মহকুমার মধ্যে পাড়া, কাশীপুর ও রঘুনাথপুর তিন বিধানসভা রয়েছে। একুশের নির্বাচনে পাড়া ও রঘুনাথপুরের বিজেপি প্রার্থীরা প্রায় ৫ হাজার ভোটে ও কাশীপুরের প্রার্থী প্রায় সাত হাজার ভোটে জিতেছিলেন। এবার এই তিন বিধানসভায় তৃণমূল, বিজেপি, সিপিএম, কংগ্রেস সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল প্রার্থী দিয়েছিল। তবে তৃণমূল ও বিজেপি তাঁদের প্রার্থীপদে বদল এনেছিল। বিজেপি কাশীপুর বিধানসভায় বিধায়ক কমলাকান্ত হাঁসদা ও পাড়ায় বিধায়ক নদীয়ারচাঁদ বাউরিকে টিকিট দিয়েছিল। কিন্তু রঘুনাথপুর বিধানসভার বিজেপি বিধায়ক বিবেকানন্দ বাউরি মানুষের সঙ্গে জনসংযোগ না রাখায় তাঁকে টিকিট দেয়নি। সেখানে দীর্ঘদিনের লড়াকু নেত্রী মামনি বাউরিকে প্রার্থী করেন। একই ভাবে তৃণমূল কাশীপুরে সৌমেন বেলথরিয়া ও পাড়ায় মানিক বাউরিকে প্রার্থী করেছিল। তবে রঘুনাথপুরে গতবারের প্রার্থী হাজারি বাউরিকে দল টিকিট দিয়েছিল। ফলে তৃণমূল প্রার্থীপদে বদল আনলেও ভোট ফেরাতে সক্ষম হয়নি।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার রঘুনাথপুর কলেজে মহকুমার তিন বিধানসভার গণনা হয়। সকাল থেকে বিভিন্ন দলের কাউন্টিং এজেন্টরা লাইন দিয়ে ভিতরে ঢোকেন। প্রশাসনের তরফে ত্রিস্তর নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছিল। গণনা কেন্দ্রের ভিতরে খাবার জলের বোতল, মোবাইল ও ইলেকট্রিক কোনো ডিভাইস নিয়ে ঢোকার অনুমতি ছিল না। কেবলমাত্র নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে নির্দিষ্ট কিছু বিভাগের কর্মীদের মোবাইল নিয়ে ভিতরে ঢোকার অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। অন্য গণনাকেন্দ্রে নির্দিষ্ট সময়ে গণনার কাজ শুরু হয়। কিন্তু রঘুনাথপুরে প্রায় এক ঘণ্টা দেরিতে গণনার কাজ শুরু হয় বলে অভিযোগ।
বিজেপি প্রার্থী মামনি বাউরি বলেন, গণতন্ত্রের জয় হয়েছে। তৃণমূলের অত্যাচারে মানুষ অতিষ্ট হয়ে উঠেছিল। তাই মানুষ পরিবর্তন চেয়েছিলেন। পরিবর্তন হয়েছে। এবার মানুষের কাজ করাই হবে বিজেপির মূল লক্ষ্য।