নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: সংবিধান সংশোধনী বিল পাশ করানো সমস্যা। পাশাপাশি নীতীশকুমার এবং চন্দ্রবাবু নাইডুর উপর নির্ভরতাও অনেক বেশি হয়ে গিয়েছে। সম্ভাবনা থেকেই যায়, ২০২৯ সালের লোকসভা ভোটের প্রাক্কালে হঠাৎ এই দুই শরিক সরে গেল। তাহলে বিপদে পড়বে সরকার। আর তৃতীয়ত, রাজ্যসভায় সরকারের শক্তিবৃদ্ধি হওয়া দরকার। এসব লক্ষ্য পরণে পাঁচ রাজ্যের ভোটের পরই বিজেপি কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এনডিএ-র আয়তন বৃদ্ধির জন্য পরিকল্পনা করছে। যাতে সরকারের শক্তি বৃদ্ধি পায় সংখ্যার নিরিখে। তারই প্রথম পদক্ষেপ হিসাবে বিজেপির নজরে দুই রাজ্যের পরাজিত দুই প্রাক্তন শাসক দল- তামিলনাড়ুর ডিএমকে এবং পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেস। দুই দলের জন্য দু’রকম কৌশল। ডিএমকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়ে সরাসরি সমর্থন পেতে উদ্যোগী বিজেপি। আর তৃণমূলকে ভেঙে দিয়ে তার সুফল পাওয়ার পরিকল্পনা। ডিএমকের সঙ্গে ইতিমধ্যেই যোগাযোগ করেছে বিজেপি নেতৃত্ব।
ডিএমকের সঙ্গে জোট করে বিধানসভা ভোটে লড়াই করার পর রাতারাতি বিজয়ের দলের সঙ্গে জোট করে সরকারের শরিক হয়েছে কংগ্রেস। আর এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরই রাহুল গান্ধীর উপর খড়্গহস্ত ডিএমকে। সরাসরি ডিএমকে নেতৃত্ব কংগ্রেসকে বিশ্বাসঘাতক আখ্যা দিয়েছে। সেখানেই শেষ নয়। ডিএমকে নেত্রী তথা করুণানিধি-কন্যা কানিমোঝি লোকসভার স্পিকারকে চিঠি দিয়ে তাঁদের আলাদা বসার ব্যবস্থা করার আরজি জানিয়েছেন।
এই পরিস্থিতিতে ডিএমকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়ার বার্তা দিয়েছে বিজেপি। ইতিমধ্যেই কয়েক দফায় কথাও হয়েছে। ডিএমকে সরাসরি এনডিএ জোটে সামিল হবে কিনা, তা স্পষ্ট নয়। কিন্তু সেরকম না হলেও সংসদের অভ্যন্তরে বিভিন্ন বিল পাশ হওয়ার সময় অথবা অন্য কোনও ইস্যুতে ডিএমকে মোদি সরকারকে সমর্থন করলে সেটাই স্বস্তিদায়ক হবে বিজেপির কাছে। শোনা যাচ্ছে, আগামী বর্ষাকালীন অধিবেশনে আবার নতুন করে ডিলিমিটেশন বিল আনার চেষ্টা করবে সরকার। প্রসঙ্গত এর আগে ডিলিমিটেশনের সঙ্গে মহিলা সংরক্ষণ বিলকে সম্পৃক্ত করা হয়েছিল। কিন্তু তা পাশ করানো যায়নি। এখন ওয়ান নেশন ওয়ান ইলেকশন নিয়েও একটি চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত সম্পন্ন করে ফেলতে হবে। কারণ জুলাই মাস পর্যন্ত এই সংক্রান্ত কমিটির সময়সীমা বাড়ানো হয়েছিল। সুতরাং আবার ওই ডিলিমিটেশন এবং তার সঙ্গে ওয়ান নেশন ওয়ান ইলেকশন বিলও আসতে পারে। সেক্ষেত্রে দরকার সংখ্যা। আর তাই এখন থেকেই এনডিএ জোটের শরিক বৃদ্ধির তোড়জোড়।