


নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: দু’ বছর আগেই কৃষ্ণনগর লোকসভা কেন্দ্রে প্রায় ৫৭ হাজার ভোটে জয়ী হয়েছিলেন তৃণমূলের মহুয়া মৈত্র। তাঁর নেতৃত্বে কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল রাজ্যে খ্যাতি পেয়েছিল। কিন্তু ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল বেরতেই দেখা গেল মহুয়াগড়েই তৃণমূল পিছিয়ে গিয়েছে প্রায় ১ লক্ষ ভোটে। মাত্র দু’ বছরের ব্যবধানে কৃষ্ণনগর লোকসভা কেন্দ্রের ফলাফলে এই আকাশ-পাতাল ব্যবধানে স্তম্ভিত রাজনৈতিক মহল। শুধু তাই নয়, মহুয়া মৈত্রের খাসতালুক করিমপুর বিধানসভাও তৃণমূলের থেকে হাতছাড়া হয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, নদীয়া জেলায় ১৪টি বিধানসভায় বিজেপি তৃণমূলের থেকে এগিয়ে গিয়েছে মোট ৫ লক্ষ ৬ হাজার ৮২০ ভোটে। যার মধ্যে শুধু রানাঘাট লোকসভা কেন্দ্রেই বিজেপি এগিয়ে রয়েছে প্রায় সাড়ে ৩ লক্ষ ভোটে। রাজনৈতিক মহলের দাবি, আগামী দিনে এই বিশাল ব্যবধান মুছে লোকসভা কেন্দ্র উদ্ধার করা দুস্কর ও দুঃসাধ্য।
কৃষ্ণনগর লোকসভা কেন্দ্রের সাতটি বিধানসভা রয়েছে। সাংসদ মহুয়া মৈত্রের খাসতালুক করিমপুর বিধানসভায় মুর্শিদাবাদ লোকসভার অন্তর্গত। চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনে কৃষ্ণনগর উত্তর, কৃষ্ণনগর দক্ষিণ ও তেহট্ট বিধানসভা বাদে বাকি আসনে তৃণমূল লিড পায় এবং ৫৭ হাজারের বেশি ভোটে মহুয়া মৈত্র জয়ী হয়েছিলেন। গত লোকসভা নির্বাচনে কৃষ্ণনগর উত্তর বিধানসভায় ৫৩ হাজার লিড পেয়েছিল বিজেপি। এবার সেটাই বিধানসভা নির্বাচনে বেড়ে হয়েছে ৭৮ হাজার ৩৬১, যা রেকর্ড। কৃষ্ণনগর দক্ষিণ বিধানসভায় লোকসভার নির্বাচনে বিজেপির লিড ৯ হাজার ভোট থেকে বেড়ে হয়েছে ২৮ হাজার। তেহট্ট বিধানসভায় লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির লিড ৮ হাজার থেকে এবার বেড়ে হয়েছে ২৮ হাজার। লোকসভা নির্বাচনে নাকাশিপাড়া বিধানসভায় তৃণমূল স্বল্প মার্জিনে লিড পেলেও এবার বিধানসভা নির্বাচনে সেই আসনটি হারাতে হয়েছে তৃণমূলকে। সবমিলিয়ে ৯৯ হাজার ৩৩৬ ভোটে কৃষ্ণনগর লোকসভায় পিছিয়ে পড়েছে ঘাসফুল শিবির। সেই সঙ্গে সাংসদ মহুয়া মৈত্রের সাজানো বাগানও তছনছ হয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলার তৃণমূলের চেয়ারম্যান রুকবানুর রহমান বলেন, ‘এর জন্য এসআইআর অন্যতম কারণ। আমাদের দলের বহু ভোটাররা ভোট দিতে পারেননি। তাঁদের ভোটাধিকার ট্রাইব্যুনালে ঝুলে রয়েছে। তাই এই সো-কল্ড মার্জিন বেড়েছে বিজেপির। কিন্তু আমাদের ভোটার বেস ঠিক রয়েছে।’
রানাঘাট লোকসভায় তৃণমূলের পরাজয়ের ছবিটা আরও ভয়ঙ্কর। চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী জগন্নাথ সরকার ১ লক্ষ ৮৫ হাজার ৭৭০ ভোটে জয়ী হয়েছিলেন। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রের অন্তর্গত ৭টি বিধানসভায় বিজেপির লিড বেড়ে হয়েছে ৩ লক্ষ ৪০ হাজার ৪৫২। যার মধ্যে কৃষ্ণগঞ্জ বিধানসভা প্রায় ৬১ হাজার এবং রানাঘাট দক্ষিণ বিধানসভায় প্রায় ৬৫ হাজার ভোটে রেকর্ড মার্জিনে জয়ী হয়েছে বিজেপি। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, এই রানাঘাট দক্ষিণ বিধানসভাতেই তৃণমূল উপনির্বাচনে জয়ী হয়েছিল। শান্তিপুরেও উপনির্বাচনে জয়ী হয় ঘাসফুল শিবির। কিন্তু এবার দু’টি আসনেই তৃণমূল রেকর্ড ভোটে পর্যদুস্ত হয়েছে। রানাঘাট সাংগঠনিক জেলার বিজেপির সভানেত্রী অপর্ণা নন্দী বলেন, ‘মানুষ প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদির উন্নয়নের শামিল হয়েছেন। বিজেপির উপর ভরসা রেখেছেন। তৃণমূলের অপশাসনকে রুখে দিয়েছেন নদীয়া দক্ষিণের মানুষ। তাই বিশৃঙ্খলা এড়াতে আমরা বিজয় মিছিল করছি না। বিধানসভা স্তরে আমরা কর্মসূচি করব।’