


শ্রীকান্ত পড়্যা, তমলুক: পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় চাকরি বাতিল হওয়া ‘অযোগ্য’ শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষা কর্মীদের থেকে মাইনের টাকা ফেরত নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করল নতুন সরকার। পাঁচদিনের মধ্যে তাঁদের সাত বছর ধরে নেওয়া মোট মাইনের হিসাব, অ্যাপ্রুভাল কপি, ই-সার্ভিস বুক, ঠিকানা পাঠানোর জন্য স্কুলের প্রধান শিক্ষকদের চিঠি দিয়েছেন জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (মাধ্যমিক) পলাশ রায়। জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার এসংক্রান্ত তথ্য তাঁর কাছ থেকে চেয়েছেন। তারপরই জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক অফিসে তৎপরতা শুরু হয়েছে। ১৪মে জেলার সব মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলকে এই মর্মে চিঠি দেওয়া হয়েছে। সোমবার তার রিমাইন্ডার কপিও পাঠানো হল। বিষয়টি ‘মোস্ট আর্জেন্ট’ উল্লেখ করে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
পূর্ব মেদিনীপুরের জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (মাধ্যমিক) পলাশ রায় বলেন, জেলাশাসক অফিস থেকে আমাদের জেলায় চাকরি বাতিল হওয়া শিক্ষকদের নেওয়া মোট মাইনে সহ বেশকিছু তথ্য চাওয়া হয়েছে। আমরা প্রধান শিক্ষকদের চিঠি করেছি। এই মুহূর্তে স্কুল ছুটি চলছে। তবুও দ্রুত ওই তথ্য পাঠানোর জন্য জেলার মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং টিচার ইন চার্জদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক অফিস (মাধ্যমিক) সূত্রে জানা গিয়েছে, পূর্ব মেদিনীপুরে ২০১৬ সালের এসএসসি প্যানেল থেকে মোট ৩২৯ জন শিক্ষক- শিক্ষিকার চাকরি বাতিল হয়েছে। ২০২৫ সালের মার্চ মাস থেকে তাঁরা মাইনে পাচ্ছেন না। এছাড়া, এই জেলায় মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মোট ১৫২ জন গ্রুপ-সি এবং ৪৪৯ জন গ্রুপ-ডি কর্মীর চাকরি বাতিল হয়েছে। তাঁদের মাইনেও ২০২৫ সালের মার্চের পর থেকে বন্ধ। এভাবে মোট ৯৩০জন শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীর চাকরি বাতিল হয়েছে। তাঁদের সকলের ঠিকানা, নিয়োগের পর মোট কত টাকা মাইনে তুলেছেন তার সম্পূর্ণ হিসাব, ই-সার্ভিস বুকের কপি, অ্যাপ্রুভাল কপি প্রধান শিক্ষকদের পাঠাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
২০১৬ সালে স্কুল সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষা হয়েছিল। সেই পরীক্ষার পর নিয়োগ শুরু হয় ২০১৮ সালের জুন মাস থেকে। কর্মচ্যুত শিক্ষক-শিক্ষিকা থেকে শিক্ষা কর্মীরা কেউ ৮৪ মাস আবার কেউ ৯০ মাস পর্যন্ত চাকরি করেছেন। বিভিন্ন ধাপে নিয়োগপত্র ছাড়া হয়েছিল। সেই হিসেবে ৮৪ মাস থেকে ৯০ মাসের কর্মজীবন কাটিয়েছেন। এখন চাকরি বাতিল হওয়া ওই শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং অশিক্ষক কর্মীরা মোট কত টাকা বেতন বাবদ তুলেছেন তার সম্পূর্ণ তথ্য প্রধান শিক্ষকদের পাঠাতে হবে। জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক অফিসের কর্মীরাই বলছেন, এই হিসাব করে তথ্য জোগাড় করা সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। যদিও রাজ্য যত দ্রুত সম্ভব এই রিপোর্ট পেতে চাইছে।
চাকরি বাতিল শিক্ষকদের তালিকায় এই জেলায় তৃণমূল ও বিজেপি দুই দলের নেতারাও আছেন। যেমন, পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদ সদস্য ভগবানপুরের পলাশ বর্মণ, ময়না ব্লকের গোজিনা পঞ্চায়েতের বিজেপির উপপ্রধান সৌমেন কর অযোগ্য শিক্ষক হিসেবে চাকরি খুইয়েছেন। অযোগ্য শিক্ষকদের অনেকের ব্যাঙ্কে লক্ষ লক্ষ টাকা ঋণ রয়েছে। কেউ ঋণ নিয়ে বাড়ি নিয়েছেন, আবার কেউ পার্সোনাল লোন নিয়েছেন। চাকরি খুইয়ে তাঁদের দিশেহারা অবস্থা। এই মুহূর্তে রাজ্য সরকার বাতিল শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের থেকে সমূহ বেতনের টাকা ফেরত নিতে চায়। আর, এই প্রক্রিয়া শুরু হতেই অযোগ্য শিক্ষক-শিক্ষা কর্মীদের মাথায় হাত পড়েছে।