সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষে মৃত্যু হল এক বিজেপি নেতার। ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার রাতে বাগনান থানার আন্টিলা গ্রাম পঞ্চায়েতের পাইকপাড়ি গ্রামে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত বিজেপি নেতার নাম প্রশান্ত দে (৪৫)। বাড়ি বাগনান থানার বাঁটুল মোটা পুকুর ধার এলাকায়। তিনি ওই এলাকার বুথ সভাপতি। সংঘর্ষে তিন বিজেপি নেতা আহত হয়েছেন। তাঁদের কলকাতার একটি হাসপাতালে ভরতি করা হয়েছে। বাগনান থানার পুলিশ মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য উলুবেড়িয়ার শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় গভর্নমেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে। এই ঘটনায় আন্টিলা গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান মফিজুর ইসলাম খান সহ ৪২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পুলিশ আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
জানা গিয়েছে, বুধবার রাতে বিজেপির কযেকজন নেতা পাইকপাড়ি এলাকা দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। অভিযোগ, সেই সময় উপপ্রধানের বাড়ির সামনে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা অতর্কিতে তাঁদের ঘিরে ধরে ব্যাপক মারধর করে। প্রশান্ত দে সহ বিজেপির চার নেতা-কর্মী রক্তাক্ত অবস্থায় সেখানেই লুটিয়ে পড়েন। খবর পেয়ে বাগনান থানার পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা প্রশান্ত দে’কে মৃত বলে ঘোষণা করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক তৃণমূল নেতার বক্তব্য, বিজেপি নেতারা উপপ্রধানের বাড়ির সামনে বিক্ষোভ দেখানোর সময় দু’পক্ষের ঝামেলা হয়, তার জেরেই এই ঘটনা। যদিও স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, উপপ্রধান মফিজুর ইসলাম খানের বিরুদ্ধে জোর করে জমি দখল, বাড়ি ভাঙচুর সহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে। বুধবার তাঁর মদতেই তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা এই হামলা চালিয়েছে। বিজেপির হাওড়া গ্রামীণ জেলার সভাপতি দেবাশিস সামন্ত বলেন, পরিকল্পনা করেই মফিজুরের নেতৃত্বে এই হামলা চালানো হয়েছে। ইতিমধ্যে কয়েকজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। বাকিদেরও গ্রেপ্তার করতে বলেছি।
এদিকে, এই ঘটনার পর বৃহস্পতিবার ভোরে ওই গ্রামে যান হাওড়া গ্রামীণ জেলার পুলিশ সুপার অমিত ভার্মা। পরে বাগনান থানার আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেন প্রেসিডেন্সি রেঞ্জের আইজি কঙ্করপ্রসাদ বারুই। এদিন তিনি বলেন, পরিস্থিতি এখন শান্ত। এখনও পর্যন্ত আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মূল অভিযুক্ত সহ বাকিদের খোঁজে তল্লাশি চলছে। এদিন পাইকপাড়ি গ্রামে গিয়ে দেখা গেল, গোটা গ্রাম প্রায় পুরুষশূন্য। মহিলারা মুখে কুলুপ এঁটেছেন। উপপ্রধানের বাড়ির সামনে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। মফিজুরের বাড়ির সামনের রাস্তায় রক্তের দাগ। খুনের ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বৃহস্পতিবার সকালে বাগনান-শ্যামপুর রোডে বাঁটুল কলতলায় পথ অবরোধ করেন গ্রামবাসীরা। প্রায় আধঘণ্টা অবরোধ চলার পর পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিত স্বাভাবিক হয়।