


রায়পুর, ৮ মার্চ: চলছিল অবৈধভাবে আফিম চাষ। ধরা পরতেই তীব্র বিতর্কের সম্মুখে ছত্তিশগড়ের দুর্গ জেলার এক বিজেপি নেতা। অভিযুক্ত বিজেপি নেতা বিনয় তামরকার , যিনি বিজেপি কিষাণ মোর্চার রাইস মিল প্রসেসিং প্রজেক্টের রাজ্য কনভেনর ছিলেন। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পুলিশ তার ফার্মহাউস সংলগ্ন প্রায় দেড় একর জমিতে অবৈধভাবে আফিম চাষের অভিযোগে শনিবার অভিযান চালায়। তারপরেই পুলিশ তামরকারসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেন। শুরু হয় বিরোধীদের কড়া আক্রমণ। তারই মধ্যে বিজেপি দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে অভিযুক্ত নেতাকে দল থেকে সাসপেন্ড করে। দলের তরফে জানানো হয়, 'এই ঘটনার ফলে দলের ভাবমূর্তি গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে'।
ঘটনাটি নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক সমালোচনা। একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হয়ে কীভাবে এধরনের অবৈধ কার্যকলাপের সঙ্গে ষুক্ত থাকতে পারে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে। এদিকে ঘটনাটি আরও রাজনৈতিক রং পায় যখন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ভূপেশ বাঘেল অভিযানের একদিন পর ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান। বাঘেল অভিযোগ করেন, এই অবৈধ চাষের সঙ্গে কোন কোন মন্ত্রী বা বিধায়ক জড়িত রয়েছেন তা সরকারকে প্রকাশ করতে হবে। তার মতে, প্রশাসনের অবহেলার কারণেই এত বড় অবৈধ চাষ দীর্ঘদিন ধরে চলতে পেরেছে।
এদিন ঘটনাস্থলে তদন্তের সময় বিপুল সংখ্যক গ্রামবাসী সেখানে জড়ো হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশ মাঠে প্রবেশে বাধা দিলে স্থানীয়দের সঙ্গে নিরাপত্তারক্ষীদের ধস্তাধস্তিও ঘটে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়।
অন্যদিকে অভিযুক্ত বিনয় তামরকার সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, যেখানে আফিম চাষের অভিযোগ উঠেছে সেই জমি তার নয়। জমিটি তিনি ভাগচাষের ভিত্তিতে অন্যদের দিয়েছিলেন এবং সেখানে কী চাষ হচ্ছে সে বিষয়ে তার কোনও ধারণা ছিল না। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিজেপি অভিযুক্ত নেতার বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছে এবং তাকে দলীয় পদ ও প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।