Bartaman Logo
৫ আগস্ট, ২০২৬

মুখই নেই, বিধানসভা ভোটে মুখরক্ষা নিয়ে চিন্তায় বিজেপি

কোনো ‘মুখ’ নেই। তাই শেষমেশ মুখরক্ষা হবে তো? আপাতত এপ্রশ্নই ভাবিয়ে তুলেছে বিজেপির বঙ্গ ব্রিগেডকে। আগামী ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল রাজ্যে দু’দফায় বিধানসভার নির্বাচন।

মুখই নেই, বিধানসভা ভোটে মুখরক্ষা নিয়ে চিন্তায় বিজেপি
  • ২ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

দিব্যেন্দু বিশ্বাস, নয়াদিল্লি: কোনো ‘মুখ’ নেই। তাই শেষমেশ মুখরক্ষা হবে তো? আপাতত এপ্রশ্নই ভাবিয়ে তুলেছে বিজেপির বঙ্গ ব্রিগেডকে। আগামী ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল রাজ্যে দু’দফায় বিধানসভার নির্বাচন। বিশেষত রাজ্যে ভোটের দিন যতই এগিয়ে আসছে, ততই এপ্রশ্নে শঙ্কা বাড়ছে বাংলার গেরুয়া শিবিরের অন্দরে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নির্বাচনি প্রচারে এসংক্রান্ত এক বা একাধিক নামের কোনো ইঙ্গিত দেওয়া যায় কি না, আপাতত সেই সম্ভাবনাই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আর নির্বাচনে দলের ‘মুখ’ নিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতৃত্বের এমন বিলম্ব বোধোদয়ে স্বাভাবিকভাবে বিজেপির অন্দরমহলেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিজেপির একটি শীর্ষ সূত্র জানিয়েছে, দলের অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে, বাংলার গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা ভোটে বিজেপির কোনো ‘মুখ্যমন্ত্রী মুখ’ না থাকায় নির্বাচনি প্রচারে গ্রহণযোগ্যতা লক্ষণীয়ভাবে কমে যাচ্ছে। 

Advertisement

বাংলায় এবারের বিধানসভা নির্বাচন এমনিতেই বিজেপির কাছে ‘প্রেস্টিজ ফাইটে’ পরিণত হয়েছে। ফলে ভোট যখন দোরগোড়ায় কড়া নাড়ছে, তখন এমন মূল্যায়নে সঙ্গত কারণেই সিঁদুরে মেঘ দেখছে গেরুয়া শিবির। আর তাই যেনতেনপ্রকারেণ ‘ড্যামেজ’ সামাল দেওয়ার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।  একেবারে গোড়ায় রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি যখন শুরু করেছিল বিজেপি, সেইসময় প্রাথমিকভাবে দল স্থির করেছিল কিছুটা দলীয় ‘প্রথা’ ভেঙেই ‘মুখ্যমন্ত্রী মুখ’ ঘোষণা করা হবে। দলের ‘প্রথা’ অনুসারে, যেখানে বিজেপির সরকার নেই, সেই রাজ্যগুলিতে যদি দল ক্ষমতায় আসে, তাহলে নির্বাচনি ফলপ্রকাশের পর মুখ্যমন্ত্রীর নাম নিয়ে সিদ্ধান্ত হয়। বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে অবশ্য বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীই নির্বাচনে দলকে নেতৃত্ব দেন। 
বাংলার ক্ষেত্রে এহেন ‘প্রথা’ ভাঙতে রাজি হয়নি নেতৃত্বেরই একটি অংশ। এর কারণ হিসেবে উঠে এসেছিল, গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে জর্জরিত রাজ্য বিজেপিতে আগেভাগেই কাউকে ‘মুখ’ করে দিলে কোন্দল আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা থাকে। রাজনৈতিক সূত্রের দাবি, আদতে এমন সিদ্ধান্ত যে দলের পক্ষে ইতিবাচক হয়নি, বিভিন্ন দলীয় মূল্যায়নেই তা বুঝতে পারা যাচ্ছে। এরই মধ্যে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা তুণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করে দিয়েছেন, বাংলার প্রতিটি কেন্দ্রে তিনিই দলের প্রার্থী। মমতার এহেন মাস্টারস্ট্রোকে আরও কোণঠাসা হয়ে পড়েছে নির্বাচনি ‘মুখ’ না থাকা গেরুয়া শিবির। কাল, শুক্রবার নির্বাচনি কর্মসূচিতে কলকাতায় উপস্থিত থাকতে পারেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এব্যাপারে তাঁর সঙ্গে কথা বলতে পারেন দলের নেতারা। এমনই জানিয়েছে দলীয় সূত্র।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ