নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: একদিনে লক্ষাধিক উপভোক্তার বাড়িতে জ্বালানো হবে আশীর্বাদ প্রদীপ। শিলিগুড়িতে এমন টার্গেট নিয়েছে বিজেপি। পুরসভা ও ত্রিস্তর পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে তাদের এমন কর্মসূচি যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। এনিয়ে বিজেপি নেতাদের বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্মদিন উপলক্ষ্যে এমন সেবা সম্পর্ক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। যদিও, রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বিষয়টিকে অন্যরকমভাবে দেখছেন। তাঁদের ধারণা, রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের উপভোক্তাদের ‘প্রভাবিত’ করতেই এমন ছক পদ্মশিবিরের।
আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে সেবা সম্পর্ক অভিযানে নামবে বিজেপি। তা চলবে আগামী ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত। বুধবার শিলিগুড়িতে মৈনাক ট্যুরিস্ট লজে সাংবাদিক সম্মেলনে একথা বলেন পর্যটনমন্ত্রী শংকর ঘোষ। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষ্যে একমাসব্যাপী এই অভিযানে ১৩টি কর্মসূচি পালন করা হবে। যারমধ্যে একটি আশীর্বাদ প্রদীপ প্রজ্জ্বলন। রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের সুবিধাভোগীদের বাড়িতে গিয়ে ওই প্রদীপ জ্বালানো হবে। সুবিধাভোগীদের আশীর্বাদ নেবেন দলের কার্যকর্তারা। এই কর্মসূচি ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে সূচনা হবে।
এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে পর্যটনমন্ত্রী ছাড়াও বিজেপির রাজ্য যুগ্ম কোষাধ্যক্ষ প্রবীণ আগরওয়াল, দলের শিলিগুড়ি সাংগঠনিক কমিটির সভাপতি অরুণ মণ্ডল, বিধায়ক দুর্গা মুর্মু উপস্থিত ছিলেন। দলীয় সূত্রের খবর, এই জেলা কমিটির অধীনে শিলিগুড়ি শহর, গ্রামীণ এলাকা, ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি ও ইসলামপুরের একাংশ রয়েছে। এখানে বুথের সংখ্যা ১২৬৪টি। প্রথমদিনই বুথপিছু ১০০টি করে বাড়িতে গিয়ে আশীর্বাদ প্রদীপ জ্বালানোর টার্গেট রয়েছে। এজন্য মণ্ডল ও শক্তিকেন্দ্র প্রমুখের কার্যকর্তাদের নিয়ে একাধিক টিম গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দলের রাজ্য যুগ্ম কোষাধ্যক্ষ বলেন, ওই কর্মসূচি নিয়ে জেলায় প্রস্তুতি চলছে। ইতিমধ্যে একটি বৈঠকও করা হয়েছে।
এদিকে, সামনেই পুরসভা এবং ত্রিস্তর পঞ্চায়েত ভোট। এমন প্রেক্ষাপটে বিজেপির ওই
কর্মসূচি নিয়ে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের বক্তব্য, বিভিন্ন ইস্যুতে পদ্মশিবিরের বিরুদ্ধে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হচ্ছে। সম্ভবত তা বুঝতে পেরেই পুরসভা ও পঞ্চায়েত ভোটের আগে বিভিন্ন প্রকল্পের উপভোক্তাদের মগজ ধোলাইয়ে নামছে পদ্মশিবির।
বিজেপির শিলিগুড়ি সাংগঠনিক জেলা কমিটির সভাপতি অবশ্য বলেন, এর সঙ্গে ভোটের কোনো সম্পর্ক নেই। প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষ্যে এই কর্মসূচি হচ্ছে। একদিনে লক্ষাধিক বাড়িতে যাওয়ার টার্গেট নেওয়া হয়েছে। এতে জনসংযোগ আরও বাড়বে।