Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

অদিতির সুরেলা প্রচারে প্রতি পদেই তাল কাটছে বিজেপির

‘কুঞ্জ সাজাও গো...’ গানটি অদিতি মুন্সী যখন গান তখন মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে যায় গোটা অডিটোরিয়াম

অদিতির সুরেলা প্রচারে প্রতি পদেই তাল কাটছে বিজেপির
  • ২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

কলহার মুখোপাধ্যায়, কলকাতা: ‘কুঞ্জ সাজাও গো...’ গানটি অদিতি মুন্সী যখন গান তখন মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে যায় গোটা অডিটোরিয়াম। অদিতি শুধু সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে বিখ্যাত নন। রাজারহাট-গোপালপুর বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী তিনি। আগেরবার জিতে বিধায়ক হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নমূলক কাজ ছড়িয়ে দিয়েছিলেন নিজের কেন্দ্রে। সে কারণেও তিনি প্রবল জনপ্রিয়। এবারও তাঁকে এই কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করেছে তৃণমূল। অদিতি ছুটছেন আগেরবারের মার্জিন বাড়ানোর লক্ষ্যে। আগেরবার ২৬ হাজারেরও বেশি ভোটে জিতেছিলেন।

Advertisement

এখন ভিআইপি ফ্লাইওভার জন্য বাগুইআটি-কেষ্টপুরে যানজট কমেছে। নতুন ট্রাফিক নিয়মে জোড়া মন্দিরের পর কৈখালির সাব ট্রাফিক গার্ডের সামনে ইউ টার্ন চালু হয়েছে। আবার দমদম পার্ক থেকে উড়ালপুল ধরে নিউটাউনের বিশ্ববাংলা সরণিতে যেতে ওই একই ইউ টার্ন ব্যবহারের ফলে ভিআইপি রোডে যান চলাচল মসৃণ হয়েছে। এগুলি অদিতিকে ডিভিডেন্ট দেবে বলে স্থানীয় মানুষদের বক্তব্য। তবে বৃষ্টির পর হলদিরামে জমা জলের সমস্যা এখনও রয়ে গিয়েছে। এ কারণে কিছ মানুষ সমস্যায় পড়েন বলে অভিযোগও আছে।
রাজারহাট–গোপালপুর বিধানসভা কেন্দ্রটি উত্তর ২৪ পরগনার দ্রুত বদলে যাওয়া নগরপ্রান্তিক রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। এখানে একদিকে উচ্চ-মধ্যবিত্ত ও নতুন ভোটারের সংখ্যা বেড়েছে। অন্যদিকে আদি গ্রামাঞ্চল ও উদ্বাস্তু প্রভাবিত জনসংখ্যাও প্রভাবশালী। ফলে ভোটের সমীকরণ জটিল ও বহুস্তরীয়।
এখানে মূল লড়াই তৃণমূল ও বিজেপির। যদিও  সিপিএম এবং কংগ্রেস কিছু জায়গায় নিজেদের ভিত্তি ধরে রেখেছে। তৃণমূলের সংগঠন এখানে শক্তিশালী। বিশেষ করে স্থানীয় ক্লাবগুলি, নাগরিক পরিষেবা এবং সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার প্রভাব স্পষ্ট। অন্যদিকে বিজেপি শহুরে, অবাঙালি ও প্রথমবারের ভোটারদের একটি অংশে ভালো সমর্থন গড়ে তুলেছে বলে মত প্রার্থী তরুণজ্যোতি তেওয়ারির। তিনি বলেন, ‘প্রচারে বেরিয়ে মানুষের বিপুল সমর্থন পাচ্ছি।’ অবাঙালি ভোট এখানে গুরুত্বপূর্ণ। বিহার, উত্তরপ্রদেশ ও মারোয়ারি সম্প্রদায়ের মধ্যে বিজেপির প্রভাব আছে। তৃণমূল এই অংশে ধীরে ধীরে সংগঠন বাড়ানোর চেষ্টা করেছে। তৃণমূল এখানে অনেকটা এগিয়ে থাকে কারণ শক্তিশালী সংগঠন। অদিতিদেবীর স্বামী দেবরাজ চক্রবর্তী বিধাননগর পুরসভার এমআইসি। সে সূত্রে পুর পরিষেবা নিয়ে এই বিধানসভা কেন্দ্রের মানুষের খুব একটা অভিযোগ নেই। তিনি জানান, পাঁচবছর মানুষের পাশে থাকা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাজ এবং বিভিন্ন ধরনের উন্নয়নের কারণে অদিতিকে প্রাণভরে আশীর্বাদ করছেন মানুষ। মানুষের উৎসাহ যা দেখেছি, এবার রেকর্ড মার্জিনে জিতবেন তৃণমূল প্রার্থী।
বিধায়ক হিসেবে অদিতি এলাকার মানুষের উন্নয়নে কী করেছেন তা জানাতে বই আকারে তৈরি করেছেন রিপোর্ট কার্ড। সেই কার্ড পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে বাড়ি বাড়ি। ভবিষ্যতের জন্য ১৫টি অঙ্গীকার করেছেন। অদিতি জানান, মুখের কথা নয়, কাজ কথা বলে। রাস্তা, নিকাশি, আলো, জল সরবরাহ, স্বাস্থ্য, সৌন্দর্যায়ন সহ উন্নয়নের যা কাজ করা হয়েছে তা নথি আকারে মানুষের দুয়ারে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন খাতে প্রকল্পে ব্যয় করা হয়েছে ৭৪৩.৮১ কোটি টাকা। পাশাপাশি ভবিষ্যতে মহিলাদের সুরক্ষা ও সম্মান, পিঙ্ক টয়লেট, প্রাণী স্বাস্থ্যকেন্দ্র, দেশবন্ধুনগর হাসপাতালের উন্নতিকরণ, বর্জ্য ও প্লাস্টিকমুক্ত সমাজ, আধুনিক অডিটরিয়াম সহ মোট ১৫টি উন্নয়নমূলক কাজের গুরুত্ব দেবেন বলে জানান।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ