Bartaman Logo
১২ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বিজেপি রাম-বিরোধী! মঞ্চ ত্যাগ নবীনের

মাঝে আর একটা দিন। তারপরেই ভোট। সোমবার বিকেলেই শেষ হবে প্রচার। তাই রবিবার শেষ মুহূর্তে নদীয়া জেলায় শক্তি প্রদর্শনে ঝাঁপিয়ে পড়ে বিজেপি।

বিজেপি রাম-বিরোধী! মঞ্চ ত্যাগ নবীনের
  • ২৭ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, চাপড়া ও সংবাদদাতা, শান্তিপুর: মাঝে আর একটা দিন। তারপরেই ভোট। সোমবার বিকেলেই শেষ হবে প্রচার। তাই রবিবার শেষ মুহূর্তে নদীয়া জেলায় শক্তি প্রদর্শনে ঝাঁপিয়ে পড়ে বিজেপি। নদীয়ায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ থেকে শুরু করে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা, বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। কিন্তু সেই জোরালো প্রচারের মাঝেই শান্তিপুরে ‘রাম-বিরোধী বিজেপি’ পোস্টার ঘিরে অস্বস্তিতে পড়ে গেরুয়া শিবির। এদিন শান্তিপুরে প্রচার এসেছিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন। কিন্তু দেখা যায়, প্রচার পর্ব অসম্পূর্ণ রেখেই বেরিয়ে আসেন তিনি। যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক শোরগোল পড়ে। অনেকেই বলছেন, বিজেপিকে রাম বিরোধী তকমা দেওয়ায় গোঁসা হয়েছিল সর্বভারতীয় সভাপতির। তাই প্রচারপর্ব দীর্ঘায়িত করেননি।

Advertisement

রবিবার সকালে শান্তিপুর বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী স্বপন দাসের সমর্থনে রোড শোয়ে অংশ নেন নীতিন নবীন। প্রচারের শুরুতে কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে যথেষ্ট উচ্ছ্বাস ছিল। কিন্তু নির্ধারিত রুট জুড়ে একাধিক ‘রাম-বিরোধী’ পোস্টার সামনে আসতেই আচমকা ছন্দপতন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, পোস্টার নজরে পড়ার পরই প্রচার অসম্পূর্ণ রেখেই সরে যান নীতিন নবীন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনায় দু’টি বার্তা স্পষ্ট হয়। প্রথমত, ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগানকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে যে রাজনৈতিক মেরুকরণ তৈরি হয়েছে, বিরোধীরা সেই অস্ত্রকেই উল্টে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে। ‘জয় শ্রীরাম ভোটে বল, রামের ঘরে পা রাখো না/এই বিজেপিকে চেনে শান্তিপুর, মিথ্যে কথায় ভুলবে না।’ এই ধরনের পোস্টার সরাসরি বিজেপির মূল রাজনৈতিক বয়ানকেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাচ্ছে। দ্বিতীয়ত, ভোটের একেবারে প্রাক্কালে এই ধরনের প্রচারযুদ্ধ বিজেপির সংগঠনিক প্রস্তুতিকে অস্বস্তিতে ফেলতে পারে।
যদিও বিজেপির তরফে ঘটনাটিকে গুরুত্বহীন দেখানোর চেষ্টা চলছে। বিজেপির পক্ষ থেকে রানাঘাটের সাংসদ জগন্নাথ সরকার বলেন, যারা কুচক্রী, মানুষের সঙ্গে নেই, তারাই এরকম ষড়যন্ত্র করবে। মানুষ স্থান দেয় না বলেই এ কাজ করে। এদের দাম দিয়ে লাভ নেই, কারণ গঙ্গায় নোংরা ফেলল গঙ্গা অপবিত্র হয় না। শান্তিপুর শহর তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি বৃন্দাবন প্রামানিক বলেন, বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফলে বিজেপির লোকজনই এই পোস্টার লাগিয়েছে। এসব নোংরা রাজনীতির তৃণমূল কংগ্রেস করে না।
অন্যদিকে, ভোটের মুখে চাপড়া বিধানসভায় বিজেপির প্রচার ঘিরেও বিতর্ক দেখা যায়। বিজেপি প্রার্থী সৈকত সরকারের সমর্থনে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহার রোড শো নির্ধারিত সময়ে শুরু না হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে সংগঠন ও জনসমর্থন নিয়ে। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছিল, রবিবার দুপুর তিনটে নাগাদ চাপড়া বিডিও অফিস চত্বর থেকে রোড শো শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে সেই কর্মসূচি শুরু হতে সন্ধ্যা গড়িয়ে যায়। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে রোড শো শুরু হয় এবং চাপড়া বিডিও অফিস থেকে বালিডাঙা মোড় পর্যন্ত নির্ধারিত রুটে শোভাযাত্রা এগোয়। উপস্থিত ছিলেন দলীয় নেতৃত্ব ও কর্মী সমর্থকরা। তবে নির্ধারিত সময়ের এই বড়সড় ব্যবধান ঘিরে শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক তরজা। বিরোধী শিবিরের দাবি, পর্যাপ্ত ভিড় জোগাড় করতে না পারার কারণেই রোড শো শুরু করতে দেরি হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, শেষ মুহূর্তে লোক টানতে বিজেপিকে মরিয়া চেষ্টা চালাতে হয়েছে।  (উপরে) সভায় নীতীন। (নীচে) এই সেই পোস্টার। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ