‘বিজেপি রাষ্ট্রদ্রোহী, ঘুঁটি জ্ঞানেশ’, আক্রমণ ‘ইন্ডিয়া’র, বিক্ষোভে ফের দিল্লিতে ধুন্ধুমার, রেশ পাটনায়
  • ১৪ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সন্দীপ স্বর্ণকার, নয়াদিল্লি: ‘ভোটচুরি ষড়যন্ত্রের মাথা মোদি। জ্ঞানেশ কুমারকে ঘুঁটি বানিয়ে তা কার্যকর করেছেন অমিত শাহ। বিজেপি রাষ্ট্রদ্রোহী।’ মঙ্গলবার এই মর্মেই আক্রমণের ঢেউ তুলল মহাজোট ‘ইন্ডিয়া।’ একদিকে বিক্ষোভের ঠেলায় দিল্লিতে এদিনও ধুন্ধুমার চলল, তার রেশ পৌঁছাল পাটনাতেও। তুমুল বিক্ষোভ-মিছিলে নাজেহাল হল পুলিশ। আর অন্যদিকে রাজধানীর বুকে বিরোধী মহাজোটের তাবড় নেতা-নেত্রীকে পাশে নিয়ে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী ফের জানিয়ে দিলেন, ‘যত সময়ই লাগুক, সুবিচার আদায় করেই ছাড়ব। আগামী দিনে আন্দোলনের পারদ আরও চড়বে। যে মহিলা দেরাদুনে লুকিয়ে আছেন, তিনিও রেহাই পাবেন না।’ এই মন্তব্যে তাঁর নিশানা যে কমিশনের আইটি বিভাগের ডিজি সীমা খান্না, তা বুঝতে কারও বাকি ছিল না।

Advertisement

বিরোধী দল, যুবশক্তি এবং নাগরিক সমাজ—মঙ্গলবার বিকালে গণতন্ত্র এবং মানুষের অধিকার রক্ষার লড়াইয়ে প্রত্যেককে একছাতার তলায় দেখল দিল্লি। সাংবাদিক সম্মেলনে বিজেপি বিরোধী আক্রমণ শানালেন মল্লিকার্জুন খাড়্গে, ডি রাজা, তেজস্বী যাদব থেকে সঞ্জয় রাউত। এমনকি আইসার দামাল নেত্রী নেহা বোরাকেও বলার জন্য এগিয়ে দিলেন রাহুল গান্ধী। নেহা সাফ বললেন, ‘গণতন্ত্রের সঙ্গে কোনো আপস আমরা মেনে নেব না। আসল দেশদ্রোহী বিজেপি। শত্রু একটাই—বিজেপি। গণতন্ত্রকে হত্যা করছে ওরা। আর তার ঘুঁটি জ্ঞানেশ কুমার।’ তখন পাশে দাঁড়িয়ে তাঁকে সমর্থন জোগালেন এসএফআইয়ের ঐশী ঘোষ, প্রশান্ত ভূষণ, যোগেন্দ্র যাদবরাও। 
সরকার বিরোধী বিক্ষোভে বেড়ি পরাতে অমিত শাহের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের হাজারো পুলিশ, কেন্দ্রীয় বাহিনী দিল্লিকে কার্যত উপদ্রুত এলাকায় রূপ দিয়েছে। প্রবল ক্ষিপ্ত বিরোধীদের সাফ কথা, ‘সরকার যে ভয় পেয়েছে, এটাই তার প্রমাণ।’ তাই সরকার যত বাধাই দিক, যন্তরমন্তরে ধরনার অধিকার ফের ছিনিয়ে আনব বলেই চ্যালেঞ্জ ছুড়েছেন রাহুল। সেই আঁচ অবশ্য সকাল থেকেই ছিল। ককরোচ জনতা পার্টি গেট টপকে ঢুকে পড়ল যন্তরমন্তরে। আবার রাইসিনা রোডে নেমে পড়ল যুব কংগ্রেস। রীতিমতো দমন-পীড়ন চালিয়ে তাদের প্রিজন ভ্যান-বাসে তুলে নিয়ে গেল পুলিশ। পাটনাতেও পুলিশের সঙ্গে বেঁধে গেল বচসা। ব্যারিকেড ভেঙে লোকভবনের দিকে এগল সিপিআইএমএল, সিপিআই, রেভল্যুশনারি ইয়ুথ অ্যাসোসিয়েশন, ভীম আর্মির প্রতিবাদ-মিছিল। নানা আন্দোলনের সাক্ষী গান্ধী ময়দান থেকে যাত্রা শুরু করে তরুণদল বুঝিয়ে দিল, জ্ঞানেশকে তারা সরাবেই। 
সেই সুর শোনা গেল দিল্লির ৫ নম্বর সুনেহরি মার্গের বাংলোয় বিজেপি বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র প্রতিনিধিদের বৈঠকেও। রাহুল গান্ধী জানিয়ে দেন, ‘আন্দোলন থামবে না। মোদি, অমিত শাহ, জ্ঞানেশ কুমারকে আমরা ঘিরে ফেলেছি। জাল এবার গুটিয়ে আসছে। স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। ভোট চুরি করে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার জন্য ষড়যন্ত্রকারীদের শাস্তি দিয়েই ছাড়ব। জ্ঞানেশ কুমার ইস্যুতে যেখানে যে আন্দোলন হচ্ছে, তার কোনোটাই পৃথক নয়। সবারই লক্ষ্য এক—গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।’ 
রাহুলের আমন্ত্রণে এদিনের চা চক্রে মল্লিকার্জুন খাড়্গে, প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর পাশাপাশি সিপিএমের এম এ বেবি, সিপিআইয়ের ডি রাজা, এনসিপির (এসপি) সুপ্রিয়া সুলে, উদ্ধবপন্থী শিবসেনার সঞ্জয় রাউত, আরজেডি’র তেজস্বী যাদব, মমতা তৃণমূলের সাগরিকা ঘোষের মতো ‘ইন্ডিয়া’র প্রতিনিধিরা হাজির ছিলেন। খাড়্গে স্পষ্ট বললেন, ‘মোদির কারচুপি ধরা পড়ে গিয়েছে।’ সঞ্জয় রাউত তো সরাসরি জ্ঞানেশ কুমারকে মাফিয়া বলে তোপ দাগেন। তেজস্বীর তোপ, ‘জ্ঞানেশ কুমার পুতুলের  মতো কাজ করেছেন। সাজা হবেই।’ কৌশলে সুপ্রিম কোর্টকেও চাপে ফেললেন রাহুল। বললেন, ‘গণতন্ত্র বাঁচানোর এই লড়াইয়ে বিচারব্যবস্থা এবং সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতিরও ভূমিকা রয়েছে। তাঁরা তা পালন করবেন বলেই ভরসা রাখি।’ চা চক্রের বৈঠকে রাহুল প্রত্যেককে মনে করিয়ে দিয়েছেন, ‘আমাদের তৈরি থাকতে হবে। যাতে ২৪ ঘণ্টার নোটিসে সবাই ঝাঁপিয়ে পড়তে পারি। উত্তাল করতে পারি দিল্লি। বিরোধী ঐক্য যেন কোনোভাবেই না ভাঙে।’