Bartaman Logo
২৭ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বালি কারবারে তৃণমূল আমলের নকল চালান বন্ধ করে রাজস্ব বৃদ্ধিই লক্ষ্য বিজেপি সরকারের

বিজেপি সরকারের উদ্যোগে বালি কারবারে নকল চালান বন্ধ। পূর্ব বর্ধমানে ৭ কোটি টাকা জরিমানা আদায়, রাজস্ব বাড়ানোর লক্ষ্যে তদন্ত চলছে। বিস্তারিত পড়ুন।

বালি কারবারে তৃণমূল আমলের নকল চালান বন্ধ করে রাজস্ব বৃদ্ধিই লক্ষ্য বিজেপি সরকারের
  • ২৭ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: তৃণমূলের জমানায় রাজ্যজুড়েই চলছিল নকল চালান তৈরির সিন্ডিকেট। বীরভূমের পাথরের মতোই বালির ক্ষেত্রেও বিপুল রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে রাজ্য। বালি কেলেঙ্কারির ঘটনায় তদন্তে নেমে এমনই তথ্য পেয়েছে সরকার। তারা জানতে পেরেছে, চালান বিক্রিতেও নয়ছয় হয়েছে। কোথাও কোথাও চালান পিছু অতিরিক্ত টাকা নিয়ে এক শ্রেণির লোক ফায়দা তুলেছে। সরকারকে প্রাপ্য রাজস্ব থেকে বঞ্চিত করে নিজেদের পকেট ভারী করেছে। এক আধিকারিক বলেন, পূর্ব বর্ধমান, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম সহ উত্তরবঙ্গের কয়েকটি জেলা থেকে অনিয়মের বিস্তর অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। বালির ঘাটগুলিতে নজরই দেওয়া হয়নি। কোন কারবারি কোথায় কতটা বালি মজুত করতে পারবে সেটা প্রশাসন ঠিক করে দেয়। কিন্তু তৃণমূলের জমানায় তেমনটা হয়নি বলে অভিযোগ। রাজ্যে পালা বদলের পর শুধু পূর্ব বর্ধমান জেলাতেই সাতদিনে ন’ কোটি টাকা জরিমানা আদায় হয়েছিল।

Advertisement

প্রশাসন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, বালি, পাথরের মতো প্রাকৃতিক সম্পদ থেকে রাজস্ব আদায় বাড়ানোর জন্য একাধিক পদক্ষেপ করেছে। ঘাটগুলির নিয়ম মেনে টেন্ডার করা হয়েছে কি না, বা চালান ইস্যু করার ক্ষেত্রে সমস্ত নির্দেশ মানা হয়েছে কি না সেসবও দেখা হয়েছে। তৃণমূল জমানায় সরকারি পোর্টাল ‘হ্যাক’ করে নকল চালান তৈরি করা হয়েছিল। সেই সময় পূর্ব বর্ধমান জেলা প্রশাসন তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছিল। কিন্তু কয়েক দিন পর তা থমকে যায়। চক্রের মূল মাথারা অধরা থেকে গিয়েছিল। তারা এখন রং বদলানোর মরিয়া চেষ্টা করছে।
বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র বলেন, আগের জমানায় ঘাট মালিকরা নির্দিষ্ট এলাকার বাইরে গিয়ে বালি তুলেছে। ধরা যাক কেউ সাত বা আট একর জায়গা থেকে বালি তোলার লিজ পেয়েছে। তিনি ওই এলাকা থেকে বেরিয়ে গিয়েও নদ বা নদী থেকে বালি তুলেছেন। তৃণমূল নেতাদের হাত বালি কারবারিদের মাথার উপর থাকায় সেই সময় আধিকারিকদের অনে঩কেই ব্যবস্থা নেওয়ার সাহস দেখাননি। এছাড়া এক জেলার চালান ব্যবহার করে অন্য জেলা থেকে বালি তোলা হয়েছে। সরকার ঠিক মতো তদন্ত করলে এই কেসে কেঁচো খুড়তে কেউটে বেরিয়ে আসবে। তৃণমূল নেতা দেবু টুডু বলেন, যারা অবৈধ কারবার করেছে প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেই পারে। তবে তৃণমূল কখনওই অবৈধ কারবার করার জন্য কাউকে বলেনি।
প্রশাসন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, বালি, পাথরের কারবার নিয়ে সরকার তদন্ত শুরু করেছে। কীভাবে আগের জমানায় প্রাকৃতিক সম্পদ লুট করেছে তারা তা খতিয়ে দেখছে। অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে কড়া পদক্ষেপ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজস্ব বাড়ানোই সরকারের উদ্দেশ্য। -ফাইল চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ