Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

চা-বাগানের জনসমর্থনে ধস! আলিপুরদুয়ার থেকে মোদির সভা সরাতে বাধ্য হল বিজেপি

চা বাগানের জনসমর্থনে ধস! ফল? প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নির্বাচনি জনসভায় আশানুরূপ জমায়েত নিয়েই সংশয়ে উত্তরের বিজেপি নেতৃত্ব।

চা-বাগানের জনসমর্থনে ধস! আলিপুরদুয়ার থেকে মোদির সভা সরাতে বাধ্য হল বিজেপি
  • ২৯ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

ব্রতীন দাস, জলপাইগুড়ি: চা বাগানের জনসমর্থনে ধস! ফল? প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নির্বাচনি জনসভায় আশানুরূপ জমায়েত নিয়েই সংশয়ে উত্তরের বিজেপি নেতৃত্ব। তার জেরেই প্রস্তুতি শুরু করেও, শেষমেশ চা বলয় থেকে মোদির সভা সরাতে বাধ্য হল গেরুয়া শিবির। ৫ এপ্রিল আলিপুরদুয়ারে প্রধানমন্ত্রীর সভা হওয়ার কথা ছিল। সেইমতো প্রস্তুতিও শুরু করেছিল গেরুয়া শিবির। কিন্তু ডুয়ার্সের চা বলয়ে সংগঠনের হাল নিয়ে রিপোর্ট জমা পড়তেই, প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনি সভাস্থল বদল করা হচ্ছে বলে পদ্ম পার্টি সূত্রে খবর। শনিবার বিজেপির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক বাপি গোস্বামী বলেন, দলীয় প্রার্থীদের সমর্থনে ৫ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি উত্তরবঙ্গে প্রথম নির্বাচনি জনসভা করবেন। তবে আলিপুরদুয়ারে নয়, ওই সভা হবে কোচবিহারে।

Advertisement

মোদির সভাস্থল নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই উত্তরের পদ্ম  নেতৃত্বের মধ্যে টানাপোড়েন অব্যাহত। দলীয় সূত্রে খবর, বিজেপির রাজ্য সহ সভাপতি তথা ফালাকাটা বিধানসভায় পদ্মফুলের প্রার্থী দীপক বর্মন আলিপুরদুয়ারে মোদির সভা করানোর ব্যাপারে মরিয়া ছিলেন। কিন্তু একদিকে প্রার্থী নিয়ে দলের অন্দরে কোন্দল, তার উপর চা বলয়ে সংগঠনের রাশ আলগা হয়ে যাওয়ার দলীয় রিপোর্ট পেয়ে আলিপুরদুয়ারে মোদির সভা নিয়ে বেঁকে বসে পদ্ম নেতৃত্বের বড়ো অংশ। ঠিক হয়, ওই সভা হবে কোচবিহারে।
বিজেপির এহেন অবস্থায় তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক তথা আলিপুরদুয়ারের প্রাক্তন বিধায়ক সৌরভ চক্রবর্তীর তোপ, চা বাগান নিয়ে অতীতে কেন্দ্র যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তার একটাও পূরণ হয়নি। ফলে মোদির জনসভায় এনিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেন আলিপুরদুয়ারের মানুষ। এটা ভেবেই হয়তো এখানে প্রধানমন্ত্রীর সভা করাতে ভয় পাচ্ছে পদ্ম পার্টি। যদিও বিজেপির রাজ্য সহ সভাপতি দীপক বর্মনের দাবি, চা বলয়ে আমাদের জনসমর্থনে কোনো ঘাটতি হয়নি। ভোটবাক্সে তা প্রমাণিত হবে। আসলে গত মে মাসে মোদি আলিপুরদুয়ারে এসেছিলেন। সেকারণে তিনি একই জায়গায় সভা করবেন না।
গেরুয়া শিবির সূত্রে খবর, সাংগঠনিক দুর্বলতা ঢাকতে এবং কোচবিহারে ভোটের হাওয়া ঘোরাতে মোদির সভাই এখন একমাত্র ‘ভরসা’ তাদের। যদিও প্রার্থী নিয়ে কাঁটা রয়ে গিয়েছে সেখানেও। প্রচারে বেরিয়ে শনিবার বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছে বিজেপির কোচবিহার দক্ষিণের প্রার্থীকে। তার উপর টিকিট প্রত্যাশী গ্রেটার নেতা বংশীবদন বর্মনকে নিয়ে বিজেপির এখন ‘ছুঁচো গেলার’ মতো অবস্থা। শুধু তাই নয়, শেষপর্যন্ত অনন্ত মহারাজ কী করেন, তা নিয়েও ধন্দে উত্তরের বিজেপি নেতৃত্ব। তিন দফায় নাম ঘোষণার পরও কোচবিহারের সিতাই ও নাটাবাড়ি কেন্দ্রে প্রার্থী দিতে পারেনি পদ্ম পার্টি। সবমিলিয়ে দলের ‘শক্ত’ ঘাঁটি বলে পরিচিত উত্তরবঙ্গে এবার প্রার্থী থেকে প্রচার, সবেতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে বিজেপিকে। রাজগঞ্জে দলের প্রার্থীকে মানতে না চেয়ে এদিন জলপাইগুড়িতে বিজেপির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক বাপি গোস্বামীর বাড়ি ঘেরাওয়ের চেষ্টা করেন বিক্ষুব্ধ কর্মীরা। যাঁরা বিক্ষোভ দেখানোর চেষ্টা করেন, তাঁরা বিজেপির কেউ নন বলে দাবি বাপির।

সম্পর্কিত সংবাদ