নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: স্নায়ুর লড়াই। একের পর এক রাজ্যে বিজেপি বিরোধী দলগুলিতে ভাঙন। এর জেরে ইন্ডিয়া জোটে যে বিজেপি যথেষ্ট কাঁপন ধরাতে পেরেছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। সেই কারণেই এবার আরও বেশি করে সংসদের বাদল অধিবেশনের প্রাক্কালে মনস্তাত্ত্বিক চাপ দিয়ে বিরোধীদের ব্যাকফুটে রাখতে সচেষ্ট বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব। কৌশলে বার্তা দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে, গুরুত্বপূর্ণ বিল পাশের ভোটাভুটিতে এবার ডিএমকে এবং এনসিপি (শারদ পাওয়ার) এনডিএ জোটকে সমর্থন করতে চলেছে। এমনকি বিজেপির আরও দাবি, কংগ্রেস সম্পূর্ণ একা হয়ে যাবে। কারণ, এরপর তৃণমূল কংগ্রেস এবং সমাজবাদী পার্টির কয়েকজন এমপি চলে আসবেন।
পক্ষান্তরে, কংগ্রেসের পালটা দাবি, বিজেপির কাছে সংখ্যা নেই এখনও। সবটাই শূন্যকুম্ভের ঝংকার। আর সেই কারণেই সরকার থেকে যে সম্ভাব্য বিলগুলি নিয়ে আলোচনা ও পাশ করানোর কথা বলা হয়েছে, সেখানে সংবিধান সংশোধনী বিলের কথাই নেই। মহিলা সংরক্ষণ সংশোধনী বিল, ডিলিমিটেশন বিল, ওয়ান নেশন ওয়ান ইলেকশন, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি, এসব বিল পাশ করাতে হলে দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন চাই সরকারপক্ষের। কিন্তু সেটা যে এতকিছুর পরও বিজেপি নিশ্চিত করতে পারেনি তা নিয়ে সংশয় নেই। অতএব এই যে দাবি করা হচ্ছে সংখ্যা আছে, এটা হল বিজেপির বিখ্যাত জুমলা। এদিনই আবার উদ্ধব শিবির থেকে একনাথ শিবিরে ভিড়ে যাওয়া ছয় এমপিকে স্বীকৃতি দিয়েছেন স্পিকার। ফলে একনাথ গোষ্ঠীর এমপির সংখ্যা বেড়ে হল ১৩। নতুন করে ডিএমকে এবং শারদ পাওয়ারের এমপিদের সমর্থন পেলে সব মিলিয়ে এনডিএ ৩৫৩ আসনে পৌঁছে যাবে বলে দাবি বিজেপির। সেক্ষেত্রে যে কোনও সংবিধান সংশোধনী ছিল পাশ করাতে আর মাত্র ১০ জন এমপির প্রয়োজন হবে। বিজেপি নাকি এখনও তৃণমূলের বেঁচে থাকা ৮ জন লোকসভার এমপির মধ্যে কয়েকজনকে কাছে টানতে তৎপর। সমাজবাদী পার্টির কাছেও জোরদার বার্তা পাঠানো চলছে।
যদিও এখনও পর্যন্ত যে বিলগুলি নিয়ে সরকার বাদল অধিবেশনে অগ্রসর হবে সেগুলি হল, ইনকাম ট্যাক্স সংশোধনী বিল, সুপ্রিম কোর্ট নাম্বার অফ জাজেস সংশোধনী বিল, জন্মমৃত্যু রেজিস্ট্রেশন সংশোধনী বিল, জাতীয় সম্মান সুরক্ষা সংশোধনী বিল (বন্দেমাতরম গান সংক্রান্ত), মাইক্রো স্মল, মিডিয়াম এন্টারপ্রাইজেস সংশোধনী বিল। এছাড়াও তালিকায় রয়েছে এফসিআরএ নিয়ন্ত্রণ সংশোধনী বিল এবং বিকশিত ভারত শিক্ষা সংশোধনী বিল। সুতরাং সরকারি সূত্রের খবর, দুই তৃতীয়াংশ সমর্থন জোগাড় করতে সম্পূর্ণ সফল হলেই ডিলিমিটেশন বিল আনা হবে। নয়ত অপেক্ষা করা হবে পরবর্তী অধিবেশন পর্যন্ত।